নিত্যদিন ভাঙনের সুর

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

নিত্যদিন ভাঙনের সুর

 প্রকাশিত: ১৫:৫০ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৫০ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে নতুন করে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নতুন করে সোনাকান্দর এলাকায় ২০০ মিটার জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯০ মিটার এলাকায় ব্লক ধসে পড়েছে। এতে করে গোদার বাজার ও সোনাকান্দর এলাকায় ভাঙনের পরিমাণ দাঁড়াল ৪৫০ মিটার। বাড়িঘর ভেঙে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে গত সপ্তাহে আড়াইশ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদার বাজার থেকে শুরু করে বোতলা স্লুইচ গেট পর্যন্ত দুই দশমিক ২৪ কিলোমিটার এলাকায় রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ (ফেজ- ১) প্রকল্পের আওতায় পদ্মার তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়। যার আড়াইশ মিটার এলাকা ও এর সংলগ্ন আরো দুইশ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।

সোনাকান্দর গ্রামের মৌলভি ঘাট এলাকার বাসিন্দা মোজাহার মন্ডল বলেন, আগে আরও দুই বার ভাঙনের শিকার হয়েছিলাম। বছর পাঁচেক আগে এখানে বাড়ি করে ছিলাম। এখান থেকেও বাড়িঘর ভেঙে ফেলতে হলো। আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বাড়িঘর ভেঙে রাস্তার ওপর তুলে রেখেছি। কোথায় যাবো, ভেবে পাচ্ছি না।

একই এলাকার বাসিন্দা বাবলু সরদার বলেন, আমরা এখন ভূমিহীন। কিন্তু আমাদের ৪০ বিঘা জমি ছিলো। কয়েক দফা নদী ভাঙনের শিকার হয়েছি। সবশেষ কয়েক মাস আগে নদীতে ড্রেজিং করা হয়। সবার অনুরোধ উপক্ষো করে এপারের কাছা কাছি ড্রেজিং করা হয়। এতে করে আমাদের সবশেষ ভিটা মাটি হারাতে হলো। এখন কোথায় যাবো, কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকবো?

কমেলা বেগম বলেন, স্বামী ও ছেলে সন্তান নেই। দুটো মেয়ে। পদ্মার ভাঙনে দুইবার ভিটা মাটি হারিয়েছি। প্রথম বার ভাঙনে ঘরদোর সরাতে পারিনি। সবকিছু হারিয়ে আবারো ঘরদোর তুলেছিলাম। আবারও বাড়ি ভেঙেছে। ফের ভাঙনের শিকার হলাম। এখন কিভাবে আগামি দিন কাটবে, কোথায় থাকবো। হুট করে এভাবে সংরিক্ষত এলাকায় ভাঙন দেখা দিবে বুঝতে পারি নাই।

সরেজমিনে দেখাযায়, সোনাকান্দর মৌলভিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে তীর সংরক্ষণের ব্লক ধসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নৌকায় বালুভর্তি করে আনা হচ্ছে। নদীর পাড়ের বালু দিয়ে বস্তা ভরাট করার কাজ করা হচ্ছে। কয়েক জন শ্রমিক নদীতে বালুর বস্তা ফেলছে। ভাঙনের স্থানের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভাঙা বাড়িঘর বেধি বাঁধের ওপর নিয়ে রাখা হচ্ছে। উৎসুক শতাধিক মানুষ ভাঙন দেখতে জড়ো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ তদারকি করছেন।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবোর উপসহকারি প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কয়েকটি স্থানে প্রায় ৪৫০ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে চারটি স্থানে মোট দুইশ ৬০ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। ভাঙনের শুরু থেকেই আমরা নিয়মিত এলাকায় পর্যবেক্ষণ করছি। সার্বক্ষণিক সময় এলাকায় অবস্থান করছি। ভাঙন ঠেকাতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি পাবনার রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রে যন্ত্রপাতি নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র নদী খনন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নদী খনন করার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদী খনন করার ফলে ব্লক দিয়ে বাধাই করা পদ্মার তীরের নিচের দিকে বালু সরে গিয়েছে। এতে করে নিচের দিকে বালু না থাকায় ব্লক ধসে যাচ্ছে। এছাড়া নদীতে স্রোতের তীব্রতাও বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

রাজবাড়ীর ডিসি মো. শওকত আলী বলেন, ভাঙন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। শুধুমাত্র রাজবাড়ী জেলা নয়, আশে পাশের জেলাও পদ্মার ভাঙনের শিকার হচ্ছে। ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোকে সহায়তা দেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

Best Electronics