নিতান্তই এক গণ্ডগ্রাম থেকে যেভাবে আজকের গুলশান
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=193718 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৭,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নিতান্তই এক গণ্ডগ্রাম থেকে যেভাবে আজকের গুলশান

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪০ ১৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১২:১৬ ১৩ জুলাই ২০২০

সাম্প্রতিক সময়ের গুলশান। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ের গুলশান। ছবি: সংগৃহীত

গুলশানের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বড় দালান, দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কিংবা আয়েশি জীবনযাপন। বর্তমানে গুলশান ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত এলাকাগুলোর একটি হলেও এক সময় এটি ছিল নিতান্তই গণ্ডগ্রাম! কীভাবে অজোপাড়া থেকে অভিজাত এলাকায় রূপান্তরিত হলো, সে গল্পই থাকছে আজ।

শুরুতেই নাম ছিল ‘ভোলা’

ভোলা—বরিশাল বিভাগের একটি জেলা। কিন্তু এই গুলশানেরও আদি নাম ছিল ভোলা। বর্তমান গুলশানে গিয়ে এ নামের অস্তিত্ব হয়তো খুঁজে পাবেন না অনেকেই। তবে অতল গহীনে বিলীন হয়েও যায়নি। দুর্লভ সাক্ষী হিসেবে রয়েছে কেবল দক্ষিণ বাড্ডায় স্থানান্তরিত ভোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এই গ্রামের নামের নেপথ্যে ‘ভোলা’ দ্বীপের সম্পৃক্ততা আছে বলে মনে করেন অনেকেই। এ গ্রামটি যখন মূল ঢাকার বাইরে ছিল, তখন এটিকে কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে ধরা হতো। ধান, সবজি, আঁখ, মাছসহ অনেক কিছুই চাষ করা হতো এখানে। আর এখানে যারা চাষবাদ করতেন, তাদের বেশিরভাগই এসেছিলেন ভোলা থেকে। এ কারণেই ঢাকা শহরের মানুষদের মুখে মুখে গ্রামটি ‘ভোলা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

১৯৮০ সালে ঢাকার গুলশান

শহরের রূপ পায় যেভাবে

সন্ধ্যা নামলেই ভোলা গ্রামে শেয়াল ডাকতো, ঝিঁ-ঝিঁ পোকার আওয়াজ শোনা যেত। এই গ্রামের বনে-জঙ্গলে মেছো বাঘের দেখা পাওয়া যেত বলেও কথিত রয়েছে। হটাৎই এলাকাটির ওপর নজর পড়লো বিত্তবানদের। কিন্তু বাধ সাধলো নামে। যেখানে আধুনিক উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে, সেটির নামও হওয়া চাই ডিজিটাল! শেষমেষ অভিজাত এলাকাটির নাম গুলশান রাখা হলো; যার বাংলা অর্থ ‘ফুলের বাগান’। পাকিস্তানের করাচিতেও ছিল গুলশান নামের একটি অভিজাত এলাকা; মূলত সেই নামটিই বেছে নেয়া হয়েছে।

১৯৬১ সাল নাগাদ গ্রামটিকে অধিগ্রহণ করে সেখানে একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা পোক্ত হয়। এই প্রকল্পটি হাতে নেন পাকিস্তানি আমলা জি এ মাদানি। যিনি ছিলেন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) এর প্রথম চেয়ারম্যান। এর পর মোটা অংকের টাকায় একে একে বহুতল ও বিলাসবহুল অসংখ্য ভবন উঠাতে থাকেন বিত্তবানরা।

আরো পড়ুন: ধানক্ষেত থেকেই ধানমন্ডির নামকরণ

এর পরের গল্পটা...

গুলশানের সামগ্রিক উন্নতি চলতেই থাকে এরপর। গ্রাম থেকে ইউনিয়ন, অতঃপর পৌরসভায় পরিণত হয়। ১৯৭২ সালে গুলশানসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে গুলশান থানা গঠিত হয়। তবে ঢাকা পৌরসভার সঙ্গে যুক্ত হতে গুলশানকে অপেক্ষা করতে হয় ১৯৮২ সাল পর্যন্ত।

বর্তমানে গুলশান ঢাকার অন্যতম অভিজাত এলাকা

তবে শুরুর গুলশানের সাথে কিন্তু বর্তমান গুলশানের আকাশ-পাতাল তফাৎ। নিরিবিলি, ছিমছাম একটি এলাকা ছিল বলেই এটি মন কেড়েছিল অভিজাত মানুষদের। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গুলশান লেকও ছিল তাদের হৃদয় কাড়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু আশির দশকের পর আর এই রূপ ধরে রাখতে পারেনি গুলশান।

গণ্ডগ্রামটির বর্তমান চিত্র এখন খুবই খরুচে। রাস্তায়ও সাধারণ প্রাইভেট কারের চেয়ে হ্যামার, রেঞ্জ রোভার, মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, টয়োটা প্রিমিও কিংবা রোলস রয়েসের মতো বিলাসবহুল গাড়িই চোখে পড়ে বেশি। আর ঘর-বাড়ির চেহারা এখানকার অধিবাসীদের আর্থিক সামর্থ্যের দিকটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে