নিজের মৃত্যু পরোয়ানা শুনলেন যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

নিজের মৃত্যু পরোয়ানা শুনলেন যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহার

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৩ ১৭ মার্চ ২০২০  

যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলাম

যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলাম

নিজের মৃত্যু পরোয়ানা শুনেছেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে মৃত্যু পরোয়ানা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়ম অনুযায়ী এখন রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন না করলে যেকোনো দিন রায় কার্যকর হতে পারে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ টি এম আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হয়। এরমধ্যে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যা ও নিজেই ১৪ জনকে খুনের অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন এ যুদ্ধাপরাধী। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এক আদেশে আসামি পক্ষকে সারসংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ২০১৯ সালের ১৮ জুন থেকে ১০ জুলাই আপিলের শুনানি হয়। ৩১ অক্টোবর রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

রোববার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছানোর পর আজহারের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এরপরই তার মৃত্যু পরোয়ানা কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর রংপুরে নিরীহ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন চালান এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ২০১২ সালের ২২ আগস্ট তাকে রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর