Alexa জনগণের ভাগ্য উন্নয়নই রাজনীতি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

জনগণের ভাগ্য উন্নয়নই রাজনীতি: প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ১২:০১ ২২ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১০:২৩ ২৩ মার্চ ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের সাফল্য উদযাপনের অংশ হিসেবে এ সমৃদ্ধির কান্ডারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের নানা সফলতার কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নেই রাজনীতি করি আমরা। 

তিনি আরো বলেন, নিজের নয়, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রামমুখী সফলতা এসেছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিকে জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের ওই স্বীকৃতি উদযাপনে বৃহস্পতিবার  বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে শ্রেষ্ঠ। শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদা পাবে। সেটাই আমার কামনা।

এই অর্জন ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা উন্নয়নে অবদান রেখেছে; সকলের অর্জন, বাংলাদেশের জনগণের অর্জন। দেশের জনগণই হচ্ছে মূল শক্তি। জনগণই পারে সব রকম অর্জন করতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়। অর্জনের পথ ধরে বাংলাদেশ যেন আরো এগিয়ে যেতে পারে- সেটাই তার চাওয়া।

শেখ হাসিনার ঘোষণার পর ঢোলের বাদ্যে সূচনা হয় উৎসবের। সাত দিনের এই উৎসবের উৎযাপন চলছে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে।

১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানবোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিসূচকের শর্ত পূরণ করে প্রায় ৪৩ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সম্প্রতি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দেয়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মেয়ে শেখ হাসিনা।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবকে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা।

অনুষ্ঠানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঠিক জানি না… আমার ঠিক এটাই মনে হয়…। “আজকে যে বাংলাদেশের মানুষের অর্জন… তিনি কি বেহেশত থেকে দেখতে পারেন? তিনি কি জানতে পারেন?”

বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন শেখ হাসিনা। মাঝে কিছু সময় চুপ করে তাকিয়ে থাকেন উপরের দিকে।

কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বা যে চেয়েছিলেন, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে… আজকে তো সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। একটা দুয়ার পেরিয়ে এগিয়ে গেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ অর্জনের এই দুয়ারে পৌঁছাতে পারত দশ বছরের মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক সময় লেগে গেল।

ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ১৯৮১ সালে দেশের ফেরার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একটা বৈরী পরিবেশে দেশে এসেছিলাম। সেখান থেকে জনগণের স্বার্থে, মানুষের কল্যাণে যে যাত্রা করেছিলাম.. সেখান থেকে বাংলাদেশকে একটা ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি, যেখানে জাতির পিতা রেখে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গিয়েছিলেন। আজকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশকে উন্নীত করতে পেরেছি।

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করায় ‘বাবার আত্মা শান্তি পাবে’ বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা। কতো মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয় তাদের আত্মা শান্তি পাবে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর আগেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের দৃঢ় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে ৪১ সালের মধ্যে একটা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। তখন তো আর বেঁচে থাকব না, আজকের যারা প্রজন্ম নিশ্চয় তারা এগিয়ে নিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে আরো এক ধাপ এগিয়েছে দেশ।আমরা এখন আর কারো মুখাপেক্ষী নই,বাজেটের ৯০ ভাগ নিজেরাই যোগান দেই।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মেনে নিতে পারেনি তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।

সরকারের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম গ্রাম থেকে উন্নয়ন।

শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে আজ স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করার অঙ্গীকার আজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুতের উন্নতির জন্য বেসরকারি খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও, ইউএস এইডের প্রশাসক মার্ক গ্রিন এবং জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকার ভিডিও বার্তা দেখানো হয়।

এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জেলে, খামারী, ছাত্র-ছাত্রী, দিনমজুর, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, পেশাজীবী, নারী সংগঠন, এনজিও প্রতিনিধি, শিশু প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি, শ্রমজীবী প্রতিনিধি এবং মেধাবী তরুণ সমাজের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দেয়া হয়।

দেশের ক্রীড়াবিদদের পক্ষে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্য দেয়ার পর শেখ হাসিনার হাতে জাতিসংঘের দেয়া উন্নয়নশীল দেশের সুপারিশপত্র তুলে দেন অর্থমন্ত্রী। 

এ সময় স্মারক ডাকটিকিট, ৭০ টাকার স্মারক নোট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপরই বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানান বাহিনী প্রধানরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফেকিতামোয়েলোয়া কাতোয়া। এছাড়া ইউএনডিপির প্রশাসক আখিম স্টেইনারের বার্তা পড়ে শোনানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের সচিব কাজী শহিদুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্য ভিডিও দেখানো হয়।

এর আগে, ভোরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবস উদযাপনের কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এলকে