নিজেকে রক্ষায় আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন জিএম কাদের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০,   আশ্বিন ১৭ ১৪২৭,   ১৪ সফর ১৪৪২

নিজেকে রক্ষায় আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫১ ১৯ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৩:৪৯ ১৯ জুলাই ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জাতীয় পার্টিতে নিজের নেতৃত্ব রক্ষায় অবশেষে হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছেন জি এম কাদের। পার্টি থেকে বঞ্চিত জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পরিবারের সদস্যরা এক হওয়ায় শাহরিয়ারসহ অনেককেই দলে টানার চেষ্টা চলছে। তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখাই আসল উদ্দেশ্য কাদেরের। এসব নিয়েই এখন আলোচনা চলছে জাপা শিবিরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রয়াত এরশাদের স্ত্রী-সন্তানদের পার্টিতে বঞ্চিত করেছেন। এরশাদের কাছের নেতাকর্মী, এমনকি কর্মচারীদের পর্যন্ত দেখতে পারেন না তিনি। তাদের অনেককেই দলে জায়গা দেননি। আর কর্মচারীদের পার্টি অফিস থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বেগম রওশন এরশাদের কাছের নেতাকর্মীদের চরম অবহেলায় রেখেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। এসব কারণেই ঘটেছে বিপত্তি।

তিনি বলেন, পার্টির সিনিয়র অনেক নেতাকর্মী এরশাদ পরিবারের সদস্যদের জাপার নেতৃত্বের হাল ধরার জন্য চাপ দেন। বেগম রওশন এরশাদকে এগিয়ে আসতে অনুরোধও করেন। তবে তিনি বার বার নেতাকর্মীদের বোঝান একটু ধৈর্য ধরো দেখি কি করা যায়। শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুলাইয়ে এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশ্যে পার্টি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যার একদিকে জি এম কাদের ও তার হাতে গোনা কয়েকজন নেতা, অন্যদিকে রওশনের নেতৃত্বে সব জ্যেষ্ঠ নেতাসহ তৃণমূল কর্মীরা রয়েছেন। 

এরপর আলোচনায় ওঠে পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের। এতেই টনক নড়ে কাদেরের। নিজের কার্যালের অনুষ্ঠান রেখে দৌড়ে যান রওশন এরশাদের বাসার দোয়া মাহফিলে। যদিও কাদের-রওশনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল দীর্ঘ দিন। সেখানে যোগ দেন পার্টি থেকে বঞ্চিত আসিফ শাহরিয়ারও। এরপরই  রওশন ও বিদিশা গ্রুপের নেতাকর্মীদের দলে টানার তোড়জোড় শুরু করেছেন জি এম কাদের। তবে আসিফ শাহরিয়ারকে দলে টানলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেননি‌। আসিফকে মূলত ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই দল থেকে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আরো অনেককেই টানার চেষ্টায় আছেন বলেই মনে করছেন ওই নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এসএএম