নিজেকেই সন্তানের খাবারে পরিণত করে, এমনই সর্বোচ্চ ত্যাগী পাঁচ মা!

ঢাকা, বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩১ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নিজেকেই সন্তানের খাবারে পরিণত করে, এমনই সর্বোচ্চ ত্যাগী পাঁচ মা!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৩ ২৫ মে ২০২০  

সর্বোচ্চ ত্যাগী পাঁচ মা

সর্বোচ্চ ত্যাগী পাঁচ মা

বৈচিত্র্যপূর্ণ আমাদের পৃথিবী। যা প্রকৃতির নানা সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। এখানে রয়েছে প্রাণীজগতের অসংখ্য শ্রেণিবিভাগ। প্রকৃতির মতো প্রাণীজগতেরও রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্য। যাদের এক শ্রেণির আচরণের সঙ্গে রয়েছে অন্য শ্রেণির বিস্তর পার্থক্য।

সন্তানের প্রতি সব বাবা-মায়েরই রয়েছে অনেক ভালোবাসা। মা-বাবা হাজারো কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করে সন্তানকে বড় করে তোলে। তবে শুধু মানুষই সন্তানের জন্য এমন কষ্ট করে তা কিন্তু নয়! প্রাণীজগতেও রয়েছে মাতৃত্ব এবং পিতৃত্বের মমতাময়ী অনুভূতি!

প্রকৃতিতে এমন কিছু প্রাণী আছে যারা তাদের সন্তানদের কোন যত্নই নেয় না। জন্মদান ছাড়া সন্তান বড় করে তোলার পেছনে সেসব মা-বাবার কোনো ভূমিকাই থাকে না। ফলে শক্তিশালী বাচ্চাগুলো নিজেরাই লড়াই করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। অন্যদিকে এমন কিছু প্রাণী আছে, যারা তাদের সন্তানদের জীবনের শুরুটা সুন্দর করার জন্য নিজের সর্বস্বটাও ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না।

ডেইলি বাংলাদেশের আজকের প্রতিবেদন প্রাণীজগতের এমনই পাঁচ মমতাময়ী মা-বাবাকে নিয়ে সাজানো হয়েছে। যারা সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই প্রাণীদের সম্পর্কে-  

সিসিলিয়ানস

সিসিলিয়ানসসিসিলিয়ানসদের মায়েরা সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করে। তারা সন্তানের জীবন রক্ষার্থে নিজেদেরকে সন্তানের খাবারে পরিণত করে। পৃথিবীর প্রায় সকল রেইন ফরেস্টে তাদের পাওয়া যায়। এই অসাধারণ প্রাণীটি তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে কাটিয়ে দেয়।

ওয়েডেল সিল

ওয়েডেল সিল ওয়েডেল সিল প্রাণীজগতের এমন এক প্রজাতি যাদের মায়েরা একাই সন্তান লালনের মত বিশাল কাজটি সম্পন্ন করে। অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন আবহাওয়া সম্বলিত জায়গার একটি। সেখানে বসবাস করে সন্তান জন্ম দেয়া এবং লালনপালন করার কাজটি অনেকবেশি কষ্টসাধ্য। তবে অবাক করা তথ্য হলো, এতো কষ্ট সহ্য করেও মা ওয়েডেল সিল তার সন্তানদের লালনপালনে কোনো কমতি রাখে না।

মা ওয়েডেল সিলের অবিশ্বাস্য ত্যাগের শুরুটা হয় ১১ মাসব্যাপী গর্ভধারনের মধ্য দিয়ে। বাচ্চা জন্ম হওয়া মাত্র অ্যান্টার্কটিকার বিপজ্জনক পরিবেশে টিকে থাকার শিক্ষা দেয়া শুরু হয়ে যায়। বাচ্চার বয়স যখন মাত্র দু’সপ্তাহ তখনই- মা সিলেরা বাচ্চাকে পানিতে নামতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হচ্ছে, পানির নিচের দিগন্ত চিনে পথ চলতে পারা এবং নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য বরফের মধ্যে ছিদ্রগুলো খুঁজে বের করা। ডাঙ্গায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো দাঁতের সাহায্যে বরফের মধ্যে ছিদ্র তৈরি করা এবং পুরোনো ছিদ্রগুলো ঠিক রাখা। নিশ্চিত করা বরফ জমে ছিদ্রগুলো বন্ধ না হয়ে যায়!

এ হিমশীতল রাজ্যে ওয়েডেল সিল প্রতিবছর একটি বাচ্চার জন্ম দিয়ে থাকে এবং সারাবছর ধরে লালনপালন করে। যদিও তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। মা সিল তাদের বাচ্চাকে যে দুধ খাওয়ায় তাতে প্রায় ৬০% ফ্যাট থাকে, যা বাচ্চাদের দ্রুত বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।

ওরাংওটাং

ওরাংওটাংঅসাধারণ বুদ্ধিমান প্রাণী ওরাংওটাং। যাদের সাধারণত সুমাত্রা (ইন্দোনেশিয়া) এবং বোর্নিও’র (মালয়েশিয়া) রেইন ফরেস্টে দেখা যায়। ওরাংওটাং মায়েরা তাদের শিশুদের আট বছর পর্যন্ত লালনপালন করে। যা মানুষ ব্যতিত অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে দেখা যায় না।

সুমাত্রান মেয়ে ওরাংওটাংরা প্রতি নয় বছরে একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয়। এভাবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে সন্তান জন্মদান। এত লম্বা সময় ধরে বাচ্চাদের লালন-পালন করার ফলে মা ও বাচ্চার মধ্যে অসাধারণ বন্ধন তৈরি হয়। এ আট বছরে মায়ের কাছে শিশু ওরাংওটাং অনেক কিছুই শিখে নেয়। উল্লেখযোগ্য শিক্ষাটি- জঙ্গলের কোথায় ভালো ফল পাওয়া যায়, ফল কখন পরিপক্ক এবং খাওয়ার উপযোগী হয়, ওরাংওটাং শিশুরা তা মায়ের কাছেই শেখে।

মায়ের কাছ থেকে শেখা সবচেয়ে জটিল কাজটি সম্ভবত বাসা তৈরি করা। ছয় মাস বয়স থেকে শিশু ওরাংওটাং বাসস্থান তৈরির অনুশীলন শুরু করে এবং তিন থেকে চার বছর বয়সে সফলভাবে গাছের মগডালে বাসস্থান তৈরি করে।

অ্যাডিলি পেঙ্গুইন

অ্যাডিলি পেঙ্গুইনঅ্যান্টার্কটিকার শূণ্য ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রায় অ্যাডিলি পেঙ্গুইনদের মা-বাবারা যেভাবে সন্তান লালনপালন করে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য! পিতা অ্যাডিলি পেঙ্গুইন প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সঙ্গিনীর কাছে ফিরে আসে। যেখানে তারা বছরের পর বছর বংশবৃদ্ধি করে আসছে। ডিম সংরক্ষণের জন্য যে বাসা দরকার তা তৈরি হয় পাথর দিয়ে। একটি পরিপূর্ণ বাসা তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমাণ পাথরের যোগান না মিললে অ্যাডিলি পেঙ্গুইন অন্যের বাসা থেকে চুরি পর্যন্ত করে থাকে।

যখন মা এসে হাজির হয় এবং ডিম পাড়ে, বাবা-মা পালাক্রমে ডিমে তা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে। কারণ ডিম যদি ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে তবে সেই ডিম থেকে আর বাচ্চা ফুটানো সম্ভব নয়।

অ্যাডিলি পেঙ্গুইনদের বাবারা প্রাণী জগতের সবচেয়ে পরিশ্রমী বাবাদের একজন। যদি কোনো কারণে বাবা ফিরে না আসে, মা তার ডিমটি ফেলে রেখে চলে যায়। কারণ, তার একার পক্ষে ডিম ফুটিয়ে সন্তানকে বড় করার কাজটি সম্ভব নয়।

ক্লাউন ফিশ

ক্লাউন ফিশ ‘ফাইন্ডিং নিমো’ সিনেমায় অভিনয় করা ক্লাউন ফিশ বাস্তব জীবনেও অসাধারণ বাবা-মা। অ্যাডিলি পেঙ্গুইনদের মতো এরাও সন্তান লালনপালনের কাজটি মা-বাবা মিলেই করে থাকে। বাচ্চা জন্ম নেয়ার আগেই তারা পাথুরে একটি গর্ত পরিষ্কার করে রাখে নবজাতকের বাসস্থানের জন্য। এক বারে একটি ক্লাউন ফিশ একশ থেকে এক হাজারটি পর্যন্ত ডিম দেয়। পুরুষ ক্লাউন ফিশ ডিমগুলো পাহারা দেয়। ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। ডিম থেকে বাচ্চাগুলো বের হওয়ার পর বাবা-মা দুজনই তাদের ফিনের (পাখনা) সাহায্যে নবজাতককে সবসময় অক্সিজেন ও পরিপূর্ণ বাতাসের যোগান দিয়ে থাকে। যেনো বাচ্চাদের অধিকাংশের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ