Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫

নিঃশব্দ তাঁতপল্লী!

রনজিনা খানম, নড়াইল প্রতিনিধিডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
নিঃশব্দ তাঁতপল্লী!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নতুন গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি বুননের তাঁতের শব্দে এখন আর মুখরিত হয়না নড়াইলের তাঁতপল্লীগুলো। যেন নিঃশব্দ নিরবতা।

জেলা সদরের আফরা, কলোড়া, আগদিয়া, মাইজপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিলো এক হাজার তাঁতী পরিবার। তাঁতের পণ্য উৎপাদন করে চলতো তাদের জীবন জীবিকা। বর্তমানে পণ্য বানানো উপকরণ সুতোর দাম বৃদ্ধি, আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া, ফ্যাক্টারিতে উৎপাদিত পণ্যের দাপট, সর্বোপরি সরকারের কোন সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতা না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সব তাঁত।

এই পেশায় জড়িতদের চোখে এখনো আশা সরকারের সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতা পেলে আবারো শুরু করবেন ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকাজ।

জানাগেছে, মাত্র ১০/১২ বছর আগেও চালু ছিলো জেলার বেশ কিছু তাঁতপল্লী। বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে সব তাঁত, জীবন বাঁচাতে বাপ-দাদার পেশা বদল করে বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। কেউ দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি, ভানচালক, কৃষিপেশাসহ চলে গেছেন বিভিন্ন পেশায়।

ঘরের নারীরাও তাঁতের পণ্য বানাতে পুরুষদের সহযোগিতা করতেন তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রতিটি বাড়িতে যে ঘরে তাঁতের পণ্য বানানো হতো সব উপকরণ খুলে ফেলে তাঁতের ঘরটি এখন অন্য কাজে ব্যবহার করছেন।

আফরা গ্রামের সোহেল গাজী সর্বশেষ চালু তাঁত থেকে একটি গামছা বানাচ্ছিলেন, মাঝপথে সমস্যা হওয়ায় তিনি মেরামতের চেষ্টা করছেন না। এই অবস্থাতে পড়ে আছে তিনমাস, এটির পরিসমাপ্তির মাধ্যমেই বন্ধ হবে এই গ্রামের সর্বশেষ তাঁতের অধ্যায়। গ্রাম সমুহে ঘুরে দেখা যায় এখন সুতো কাটার চরকা, বানাবার বিভিন্ন আনুসঙ্গ পড়ে আছে অযত্ন অবহেলায়।

এই পেশায় জড়িতরা বলেন, আফরা গ্রামে ৮০/৯০ পরিবার তিন শতাধিক তাঁতের মাধ্যমে পণ্য তৈরি করতেন, পণ্য উৎপাদনের সুতোসহ উপকরণের দামবৃদ্ধি আর উৎপাদিত কাপড়ের দাম কম হওয়ায় লোকসানের কারণে এবং সরকারের কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে এই পেশা থেকে সরে অন্য কাজ করতে হচ্ছে। তবে সরকার যদি পুনরায় সহযোগিতা করে অনেকেই ফিরে আসবেন বাপ দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশায়। গাজী ফরিদুল বলেন, তিনি নিজের নামেই গামছা, লুঙ্গি তৈরি করে জেলা ও জেলার বাইরে বিক্রি করে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। এখন পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বিকল্প পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া গ্রামে ৮০ ঘর কারিগর পরিবারের বসবাস। ২ শতাধিক তাঁতের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করতেন। এখন অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে সবাই পেশা বদল করেছেন। জীবিকার প্রয়োজনে পেশা বদল করে চলে গেছেন দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি, ভানচালক, কৃষিসহ বিভিন্ন পেশায়। এই সব পরিবারের নারী সদস্যরাও পুরুষের সঙ্গে কাজ করে উৎপাদন করতেন তাঁতের বিভিন্ন পণ্য, আনতেন সংসারে স্বচ্ছলতা, সন্তানদের লেখাপড়াসহ বিভিন্ন কাজে দিতেন সহযোগিতা। কিন্তু সুতোসহ উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে পণ্য উৎপাদন।

সংসারের প্রয়োজনে অনেক নারী এখন মাঠে কাজ করে, বাসাবাড়িতে বা ফ্যাক্টারিতে কাজ করে সংসার চালাতে পরিবারের পুরুষ সদস্যকে সহযোগিতা করছেন। তবে, তাঁতের কাজ ভাল ছিলো , ঘরে বসে করা যেত কিন্তু এখন রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠে কৃষি কাজ করতে হচ্ছে। সরকার সহযোগিতা করলে পুনরায় তাঁত চালু করা সম্ভব হবে।

কারিগর সম্প্রদায়ের সন্তানেরা কেন এই পেশায় জড়িত হচ্ছেন না এই প্রসঙ্গে তারা বলেন, গার্মেন্টেসের কাপড়, বিদেশি কাপড়, ফ্যাক্টরির কাপড়ের দাম কম হওয়ায় এবং তাতের লুঙ্গি, গামছা, শাড়িরসহ উৎপাদিত পণ্য সেই হিসেবে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় তারা এই পেশা থেকে সরে এসেছেন। পাশাপাশি এই পেশায় জড়িতদের সমাজে ঘৃণিত চোখে দেখা হয়, যারা এই ঐতিহ্যবাহী পেশা তথা কৃষ্টি সংস্কৃতি ধরে রেখেছে তাদের কেন অবহেলার চোখে দেখা হবে আক্ষেপের সঙ্গে বলেন তারা।

নড়াইল শহরের বস্ত্রবিতান দোকানের মালিক গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি বিক্রেতা আরাফাত বলেন, আগে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত তাঁতের বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করতেন বর্তমানে তাতের সেই পণ্য পাওয়া যায়না ফলে কোম্পানির পণ্য বিক্রি করেন।

নড়াইল শিল্প সহায়ক কেন্দ্র বিসিকের উপ পরিচালক এসএম কামরুল হাসান বলেন, টেক্সটাইল, গার্মেন্টসগুলি অনেক কম দামে গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি বিক্রি করছে। ফলে তাঁতীরা মার খেয়ে যাচ্ছে। বৃহৎ শিল্পের মারপ্যাচের কারণে কুটির শিল্প হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। পাশাপশি উপকরণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সমস্যা সমাধনে বিসিক কারিগরদের তালিকা প্রস্তুত, তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ প্রদান ও বাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
নতুন হাইস্পিড রেলে ঢাকা থেকে ৫৪ মিনিটে চট্টগ্রাম
নতুন হাইস্পিড রেলে ঢাকা থেকে ৫৪ মিনিটে চট্টগ্রাম
সেলফিতে মাশরাফী দম্পতি
সেলফিতে মাশরাফী দম্পতি
বাংলাদেশের মাঝে এক টুকরো ‌'কাশ্মীর'!
বাংলাদেশের মাঝে এক টুকরো ‌'কাশ্মীর'!
বঙ্গোপসাগরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যন্ত্রযুক্ত কচ্ছপ উদ্ধার
বঙ্গোপসাগরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যন্ত্রযুক্ত কচ্ছপ উদ্ধার
‘মা’ গানে মাতালেন নোবেল, কাঁদালেন মঞ্চ (ভিডিও)
‘মা’ গানে মাতালেন নোবেল, কাঁদালেন মঞ্চ (ভিডিও)
মদের চেয়ে দুধ ক্ষতিকর: মার্কিন পুষ্টিবিদ
মদের চেয়ে দুধ ক্ষতিকর: মার্কিন পুষ্টিবিদ
বিয়েতে সৌদি নারীদের পছন্দের শীর্ষে বাংলাদেশি পুরুষরা!
বিয়েতে সৌদি নারীদের পছন্দের শীর্ষে বাংলাদেশি পুরুষরা!
পাসওয়ার্ড না দেয়ায় স্বামীকে পুড়িয়ে মারল স্ত্রী
পাসওয়ার্ড না দেয়ায় স্বামীকে পুড়িয়ে মারল স্ত্রী
স্ত্রীর ‘বিশেষ’ আবেদনে মলম মাখিয়ে বিপাকে স্বামী!
স্ত্রীর ‘বিশেষ’ আবেদনে মলম মাখিয়ে বিপাকে স্বামী!
সোমবার ‘চন্দ্রগ্রহণ’
সোমবার ‘চন্দ্রগ্রহণ’
স্ত্রীকে ভালোবাসার বিরল ঘটনা: ৫৫ হাজার পোশাক উপহার
স্ত্রীকে ভালোবাসার বিরল ঘটনা: ৫৫ হাজার পোশাক উপহার
মৃত মানুষের বাড়িতে কান্না করাই তাদের পেশা!
মৃত মানুষের বাড়িতে কান্না করাই তাদের পেশা!
শুধুই নারীসঙ্গ পেতে পর্যটকরা যেসব দেশে ভ্রমণ করেন
শুধুই নারীসঙ্গ পেতে পর্যটকরা যেসব দেশে ভ্রমণ করেন
পালিয়ে বিয়ে করলে আশ্রয় দেবে পুলিশ
পালিয়ে বিয়ে করলে আশ্রয় দেবে পুলিশ
বিয়ের খবর প্রকাশ করলেন সালমা
বিয়ের খবর প্রকাশ করলেন সালমা
বৃক্ষমানবের হাতে পায়ে ফের শেকড়
বৃক্ষমানবের হাতে পায়ে ফের শেকড়
বিষ খেয়ে হাসপাতালেই বিয়ে!
বিষ খেয়ে হাসপাতালেই বিয়ে!
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কাল
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কাল
স্থগিত শনিবারের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
স্থগিত শনিবারের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
শাহনাজের দুই মেয়ের দায়িত্ব নিচ্ছে উবার
শাহনাজের দুই মেয়ের দায়িত্ব নিচ্ছে উবার
শিরোনাম :
আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান; ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান; ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুমিল্লার হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের কুমিল্লার হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের খুলনায় বিশেষ অভিযানে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অর্ধশতাধিক আটক খুলনায় বিশেষ অভিযানে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অর্ধশতাধিক আটক মণিরামপুরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার মণিরামপুরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের ছয় জনসহ প্রাণ গেল ৭ জনের লক্ষ্মীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের ছয় জনসহ প্রাণ গেল ৭ জনের