.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

খালেদার ছাড়পত্র দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ৮ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:২০ ৮ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অসুস্থ খালেদা জিয়ার ছাড়পত্র দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেছে সরকার। খালেদার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ তোয়াক্কা না করে সরকার হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তার চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মূহুর্তে কারাগারে ফেরত পাঠানো, শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি চক্রান্ত। 

তিনি আরো বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হক খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছুটির ছাড়পত্র দেননি। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাক্তার জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে। এ অবস্থায় সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার ছাড়পত্র দিতে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রিজভীর। সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে খালেদাকে  শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত প্রকাশ পেয়েছে। 

খালেদা জিয়া সুস্থ হোক, সরকার কখনো চায় না। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দুরে রাখতে লাগামছাড়া ক্রোধে সরকার তার জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। 

সাজানো ও পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচনে বাধ্য করতেই খালেদা জিয়াকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে সরকার। তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে কথা দিয়েছিলেন-নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দিদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বাস্তবতা মেলেনি। বুধবার সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ব্যাপক সমাগমের জন্য ধন্যবাদ জানান। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা-মহানগরের সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক এমপি কেউই সরকারের গ্রেফতার অভিযান থেকে রেহাই পাননি। এমনকি সমাবেশে আসা ও যাওয়ার পথে হাজারের অধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করার পর প্রথমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে এই কথা বলে দর কষাকষি করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ছাড়া হয়নি। এমনকি ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের বড় বড় গ্রুপ করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/এলকে