নারী দিবসে কেন বেগুনি রঙের পোশাক পরা হয়?

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

নারী দিবসে কেন বেগুনি রঙের পোশাক পরা হয়?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৬ ৮ মার্চ ২০২০  

প্রতীকী

প্রতীকী

জীবন মানেই রঙের বৈচিত্র। তাইতো উৎসবপ্রিয় বাঙালি রঙ নিয়ে খেলা করে যে কোনো আনন্দের দিনেই। দেখা যায় প্রায় প্রতিটা উৎসবেই কোনো না কোনো নির্দিষ্ট রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ঠিক তেমনি নারী দিবসেও বেগুনি রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

নারী শ্রমিক বলা চলে, রঙ এক ধরণের প্রতীকী হিসেবে থাকায়, সব উৎসবের আনন্দটা দিগুণ হয়ে ওঠে। তেমনি ভাবে আজ ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশের নারীরাও সেজেছে বেগুনি রঙে। তবে কেন বেগুনি রঙ-ই হলো নারীর প্রতীকী? এদিনটিতে কেনই বা বেগুনি রঙের পোশাক পরেন নারীরা? নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করছে? এর পেছনেও রয়েছে এক ইতিহাস।

ডেইলি বাংলাদেশের আজকের আয়োজনে আপনাদের জন্য রইলো সেই অজানা ইতিহাস। দেরি না করে চলুন তবে জেনে নেয়া যাক চলুন সেই অজানা ইতিহাসটি-

অধিকার আদায়ে নারীদের আন্দোলন এর সূচনা হয় প্রায় প্রায় একশ বছর আগেই। নারীর ক্ষমতায়ন এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কিছু সাহসী নারীর পদক্ষেপ ছিল মূখ্য। প্রায় পনেরো হাজার নারী সেদিন নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নেমেছিল, করেছিল আন্দোলন নারীর অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে। যা পরে অনেক প্রসংশাও পেয়েছিল। আর সে কারণেই আজ আমরা প্রতি বছর পালন করি বিশ্ব নারী দিবস। তাই প্রতি বছর নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হয়ে থাকে নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাফল্যগাথা এবং লিঙ্গ সমতার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

অধিকার আদায়ে নারীদের আন্দোলন বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বৈচিত্রের সঙ্গে নানাভাবে দিনটি উদযাপন করে থাকে এবং তাদের সাংস্কৃতিক মতবিনিময় হয় একে অপরের সঙ্গে। তাদের এ দিনে কোনো সুনির্দিষ্ট রঙের পোশাক পছন্দ না থাকলেও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আইডব্লিউডি ডটকম ব্যাখ্যা করেছে, ‘কেন বেগুনিকেই দিবসের প্রতিক রঙ ধরা হলো’।

নারী শ্রমিক আন্তর্জাতিকভাবে নারীর প্রতীক হিসেবে ধরা হয় বেগুনি রঙকে। এ রঙের ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। বিগুনি রঙের সংমিশ্রণ, যার সবুজ এবং সাদা দেখা হয় নারীর সমমর্যাদার প্রতীক হিসেবে। এর সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯০৮ সালে ইউকে-তে নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক ইউনিয়ন থেকে। বেগুনিকে দেখা হতো নারীর ন্যায় বিচার ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে। সবুজ হলো আশা, আর সাদা বিশুদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশুদ্ধতার প্রতীক সাদা কিছুটা বিতর্কিত ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বাঁধন ছেঁড়া নারী নতুন দিনের ‘নতুন ভোরের সূর্য যেমন আকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করে, ঠিক তেমনি হলুদ রঙ প্রতিনিধিত্ব করে ‘নতুন ভোরের’। হলুদ রঙকে তাই নারীবাদের দ্বিতীয় ধারা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। আর তাই আমার বলতেই পারি বেগুনির সঙ্গে সবুজ হল ঐতিহ্যগতভাবে ‘নারীবাদের’ প্রতীক এবং বেগুনির সঙ্গে হলুদ প্রগতিশীল সমসাময়িক নারীবাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে।

কোনো কিছুতেই পিছিয়ে না থাকা নারীরা গত দেড় বছরে নারীরা প্রতিবাদের ভাষা বা প্রতীক হিসেবে পোশাকি রঙ বেছে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে নারীর প্রতিবাদের রঙ হয়ে উঠেছে বেগুনি। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে যেমন সাদা ছিল মার্কিনীদের নির্বাচনী রঙের প্রতীক। মার্কিন নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ছিলেন প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রথম মহিলা প্রার্থী। মার্কিন জনগণ সে কারণে এবং ঐতিহাসিক নারীর সেই ভোটাধিকার অন্দোলনের প্রতি সম্মান রেখে মার্কিন নির্বাচনে সাদা পোশাক পরেছিল। হিলারি ক্লিনটনও সাদা পোশাক পরেছিলেন। ইউকে ইতিহাসের মত সাদা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্টের জাতীয় নির্বাচনী রঙ।

কোন কিছুতেই পিছিয়ে না থাকা নারীরা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা মিউটো আন্দোলনে সাম্প্রতিক মাসে নারীরা কালো পোশাক পরেছিল’। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক নারীরা, হলিউডের কিংবদন্তি নারী, যৌন হয়রানির প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রামের স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে জানুয়ারীর শেষ দিকে কালো পোশাকে সেজেছিলেন।

নারী একজন মমতাময়ী মা ৯ নভেম্বর ২০১৬ ক্লিনটন তার শেষ অভ্যর্থনা বক্তৃতায় পরেছিলেন সুটের সঙ্গে স্প্যানিশ বেগুনি ল্যাপেল। তার স্বামী বিল ক্লিনটন মিলিয়ে পরেছিলেন বেগুনি টাই। সেই সময়ে, মন্তব্যকারীরা প্রস্তাব করেছিলেন যে, এ বেগুনি রঙটি তাদের সেই আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বা মেথডিস্ট ঐতিহ্যরূপ স্বীকৃত হবে। কেননা ক্লিনটন ছিলেন মেথডিস্ট।

প্রাণবন্ত নারী ক্লিনটন তার লেখা বইতে লিখেছিলেন, ‘ বেগুনি মামলাটি দ্বিপাক্ষিকতা হিসেবে অনুমিত হয়েছিল এবং তিনি নির্বাচনে সাদা পোশাক পরার পরিকল্পনা করেছিলেন’। ক্লিনটন আরো বলেন, ‘ আমার স্বামী বিল এবং আমি উভয়ই বেগুনি পোশাক পরেছিলাম যা ছিল দ্বিপাক্ষিকতার বিষয়’। যার অর্থ নীল আর লালের সংমিশ্রণেই তো বেগুনি হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ