নারীর পায়ের হিল দেখে ধর্ষণ অতঃপর হত্যা করাই তার নেশা! 
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=187282 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নারীর পায়ের হিল দেখে ধর্ষণ অতঃপর হত্যা করাই তার নেশা! 

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ১২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৭ ১২ জুন ২০২০

এই চারজন নারীকে হত্যার কথাই স্বীকার করেছিলেন জেরি

এই চারজন নারীকে হত্যার কথাই স্বীকার করেছিলেন জেরি

বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন শতাব্দীতে অনেক সিরিয়াল কিলারের নাম রয়েছে। যারা একেক জন একেক কারণে নৃশংস সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠেছেন। বেশিরভাগই ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত। এমনই একজন সিরিয়াল কিলারের কথাই থাকছে আজকের লেখায়। যিনি নারীদেরকে তাদের হাই হিলের জন্য খুন করতেন। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়?

সময়টা ছিল ১৯৬৮ সাল। পোর্টল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন মেয়ে শিশু এবং নারী নিখোঁজ হয়। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানেই তারা নিখোঁজ হয়। প্রথম পাওয়া যায় লিন্ডা স্লাউসন নামের ১৯ বছরের এক তরুণীর মৃতদেহ। তিনি ছিলেন একজন বই বিক্রেতা। লিন্ডার শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার পায়ে একটি কাটা দাগছিল। ধারণা করা হয় শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর নভেম্বর মাসে হুইটনি নামের ২৩ বছরের এক নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেটি একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে দড়ির সঙ্গে ঝুলে ছিল। হত্যার আগে হুইটনিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তার ডান স্তন কেটে ফেলেছিল হত্যাকারী। সেদিন হুইটনি কলেজ থেকে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিল। তখন হত্যাকারী জেরি ব্রুডস তার কাছে লিফট চায়। আর তারপরই ঘটে যায় হুইটনির জীবনে মর্মান্তিক ঘটনা।

পুলিশের হাতে ধরা পড়েন জেরি  ১৯৬৯ সালের ২৭ মার্চ স্পিনার নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী কাজ থেকে দুপুরে বাড়ি ফিরছিলেন। মায়ের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাবেন। তবে তা আর সম্ভব হয়নি স্পিনারের। মানসিকভাবে অসুস্থ জেরি ব্রুডসের হত্যার শিকার হতে হয় তাকে। জেরি তাকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান নিজের আস্তানায়। এরপর সেখানে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করেন। 

এছাড়াও অনেক নারীকে একের পর এক হত্যা করেছেন এই বিকারগ্রস্ত মানুষটি। এরা কেউই তার পূর্ব পরিচিত ছিল না। কোনো শত্রুতাও ছিল না তাদের সঙ্গে। শুধুমাত্র তাদের পায়ের হাই হিল পছন্দ হয়ে যাওয়ায় তাদের হত্যা করেন জেরি। ছোটবেলা থেকেই জেরি নারীদের হাই হিল এবং পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তিনি। নারীদের পোশাক চুরি করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার ধরাও পড়েছেন। এতে বেশ কিছুদিন তাকে কিশোর সংশোধন কারাগারেও রাখা হয়। তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষনের বস্তু ছিল নারীদের হাই হিল।

পরিবারের সঙ্গে জেরি ব্রুডসজুতার প্রতি ভালোবাসা জেরির তৈরি হয় পাঁচ বছর বয়স থেকে। সে একবার ডাস্টবিন থেকে একজোড়া নারীদের উঁচু জুতা পায়। এটি দেখে বেশ কৌতূহলী হয়ে পড়ে সেই ছোট বয়স থেকেই। দিন যতই যেতে থাকল তার আগ্রহ ততই বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে নারীদের পোশাক অন্তর্বাস চুরি করে নিয়ে আসতে থাকে। 

তের বছর বয়সে জেরি একটি থিয়েটারে যোগ দেয়। সেখানে তার এক সহকর্মীর জুতা তার খুব পছন্দ হয়ে যায়। সুযোগ বুঝে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে জেরি। ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায় সেই নারী জ্ঞান হারান। আর তার জুতা আর অন্তর্বাস চুরি করে পালিয়ে যায় জেরি। এই ব্যাপারটি বাড়াবাড়ির পর্যায় চলে গেলে তার পরিবার জেনে যায়। ১৭ বছর বয়সে তাকে ওরেগন স্টেট হসপিটাল সাইকিয়াট্রিক ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। নয় মাস চিকিৎসার পরে হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। চিকিৎসকরা মনে করেন নারীদের প্রতি তার ঘৃণা তৈরি হয়েছে তার পরিবার থেকে। এজন্য নারীদের উপর এতোটা নির্দয় হত সে।   

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর হাই স্কুলে ভর্তি হন জেরি। ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারে পড়া শেষ করেন। পরবর্তীতে কয়েক বছর তিনি বিভিন্ন থিয়েটারে অভিনয় করেন। জেরি বিবাহিত ছিলেন। পোর্টল্যান্ড অরেগনে তিনি তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। একসময় তার মাও তাদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

জেরি ব্রুডসের ছোটবেলা কিছু বছর পরই তার স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। জেরি স্ত্রী তার এই স্বভাব মেনে নিতে পারছিলেন না। জেরি হত্যার আগে নারীদের ধর্ষণ করতেন। তাদের নগ্ন ছবি তুলে রাখতেন। ১৯৭০ এর দিকে পুলিশের কাছে ধরা পড়েন জেরি। পুলিশ সদর দপ্তরে হেফাজতে থাকা অবস্থায় ব্রুডস মাত্র চারটি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দেন। তার বাড়ি তল্লাশি করে খুন হওয়া নারীদের বিভিন্ন জিনিস খুঁজে পান। এছাড়াও অনেক নারীর নগ্ন ছবি, হাই হিল, প্রচুর অন্তর্বাস, নারীদের পোশাক উদ্ধার করে পুলিশ।

জেরি তার সব দোষ স্বীকার করে নেন। আদালত তাকে তিনি দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে অনেক কারণে বিলম্ব হচ্ছিল। ২০০৬ সালের ২৮ মার্চ কারাগারে তার সেলেই তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় স্বাভাবিকভাবেই তার মৃত্যু হয়েছিল। সেসময় তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৬৭ বছর।  

সূত্র:লাইফহাকস  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস