নারীর চেয়ে পুরুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি: গবেষণার তথ্য

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নারীর চেয়ে পুরুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি: গবেষণার তথ্য

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৩:২৭ ৬ এপ্রিল ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

বিভিন্ন কারণে নারীদের চেয়ে পুরুষদের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি দুইজন পুরুষের মধ্যে একজন ও তিনজন নারীর মধ্যে একজনের ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। তবে কেন পুরুষদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি?

জীবনধারণ পদ্ধতিসহ শারীরিকভাবে একে অন্যের চেয়ে আলাদা হওয়ায় এর কারণ নির্ভর করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি ধূমপায়ী যার ফলে ফুসফুসের ক্যান্সারে তারা বেশি ভুগেন। আবার পুরুষরা বেশি খাদ্যনালী এবং মূত্রাশয় ক্যান্সারে ভুগে থাকেন। এছাড়াও বেশিরভাগ পুরুষই প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

গবেষণা বলছে, পুরুষের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নারীর চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হলো নারী ও পুরুষের ডিএনএয়ের পার্থক্য। লিঙ্গ নির্ধারক ওয়াই-ক্রোমোজোমের কারণে এটি ঘটে থাকে। কারণ এই ক্রোমোজোমটি শুধু পুরুষের থাকে। যখন এই ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট কিছু জিন কার্যক্ষমতা হারায় তখনই পুরুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে আসে। নয় হাজার ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর জিনের কার্যক্ষমতা নিয়ে গবেষণা চালান গবেষকরা। দেখা যায়, ওয়াই ক্রোমোজোমের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জিন তাদের কার্যক্ষমতা হারানোর কারণে পুরুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

ওয়াই ক্রোমোজোমের নির্ধারিত ছয়টি জিন দ্বারা সেল-সাইকেল রেগুলেশন নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি এই জিনগুলো কাজ না করে তবে টিউমারের সৃষ্টি হয়। গবেষণা মতে, নারী ও পুরুষের মধ্যকার জৈবিক পার্থক্য বোঝা ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও প্রতিষেধনের উপায় বের করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেনের বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের হুয়ান রামোন গঞ্জালেজে এই গবেষণার লেখক। তিনি বলেন, ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওয়াই ক্রোমোজোম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু পুরুষের কোষ থেকে এই ক্রোমোজোমটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। আর তখনই ক্যান্সার বাসা বাধতে পারে শরীরে।

গবেষণার প্রধান আলাইহান্দ্রো কাসেরিস বলেন, পুরুষের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হওয়ার শারীরিক কিংবা বাহ্যিকও হতে পারে। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রেও পুরুষের অনীহা তুলনামূলক বেশি, যা ঝুঁকি আরো বাড়ায়। তিনি আরো বলেন, এছাড়াও পরিবেশগত বিভিন্ন দূষিত উপাদানের প্রভাব, তামাক ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সেবন ওয়াই ক্রোমোজোমের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস