Alexa নাম-ঠিকানার মিলে জেলে, মুক্তি পাচ্ছে সেই আজিজ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

নাম-ঠিকানার মিলে জেলে, মুক্তি পাচ্ছে সেই আজিজ

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২২ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের চৌগাছার নিরাপরাধ আবদুল আজিজকে কারাগারে পাঠানোর পাঁচ দিন পর ভুল বুঝতে পেরেছে পুলিশ।

রোববার আদালতে এ বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দেবে। এতে তার মুক্তি মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

নাম-ঠিকানায় মিল থাকার কারণে আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আবদুল আজিজকে ৯ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। 

শনিবার চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব জানান, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক ডাকাতি মামলার প্রকৃত আসামি আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আবদুল আজিজের বদলে আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আবদুল আজিজকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। দুইজনের নিজের ও বাবার একই নাম হওয়ায় ভুলটি হয়েছে। 

ওসি বলেন, আমরা আসামি আজিজের আইনজীবীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। রোববার আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে। 

আসামি আজিজের আইনজীবী শাহিনুর রহমান জানান, পুলিশ তার সঙ্গে ভুলের বিষয়ে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

তিনি আরো জানান, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর যশোরের বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে নব কুমার সাহার বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় নব কুমারের অজ্ঞাত আসামিদের নামে করা মামলায় ২০১১ সালের ৩০ মার্চ  অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গাজী আবদুল কাইয়ুম। সেখানে সাত নম্বর আসামি চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আবদুল আজিজ। এ মামালার প্রকৃত আসামি আজিজ ২০১২ সালের ৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে থাকেন। তবে বছর দেড়েক আগে কাতারে চলে যান তিনি। যথা নিয়মে হাজির না হওয়ায় গত ৭ নভেম্বর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে জেলা জজ আদালত। পরোয়ানা অনুযায়ী চৌগাছা থানার এএসআই আজাদ এক আজিজকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আরেক আজিজকে তুলে নিয়ে আসেন।

এদিকে জজ আদালত অবকাশকালীন বন্ধ থাকায় পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবদুল আজিজকে হাজির করে। ওই আদালত কারাগারে পাঠালে নিরপরাধ আবদুল আজিজের কারাবাস শুরু হয়।

আজিজের স্ত্রী জলি বেগম অভিযোগে বলেন, আমরা অনুরোধ করে পুলিশকে বলি, আমার স্বামী দিনমজুরি করে সংসার চালায়। তার নামে কোনো মামলা নেই। তবু পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। পুলিশের ভুলেই আমার স্বামী দোষ না করেও জেল খাটছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে এএসআই আজাদ বলেছিলেন, ওয়ারেন্ট এবং ওই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তিনিই স্বীকার করেছেন তার নামে একটি মামলা ছিল যা তিনি মিটিয়ে ফেলেছেন। গ্রেফতারের সময়ও তার পরিবার বলেনি যে, সে মামালার আসামি না। আজিজ যদি মামলার আসামি না হন তাহলে তাকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে। নাম-ঠিকানায় মিল থাকার কারণে আমাদের কিছুই করার  নেই।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ