Alexa নামাজে মনযোগ নেই, বৃদ্ধির উপায় কি?

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

নামাজে মনযোগ নেই, বৃদ্ধির উপায় কি?

 প্রকাশিত: ১৩:১৩ ৬ জুন ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এটা একটা কমন প্রশ্ন যে, নামাজে মনযোগ নেই, করনীয় কি? এ প্রশ্নটি আমার মনেও ছিল বহুদিন যাবৎ, এখন পর্যন্ত সমাধান হয়েছে ব্যাপারটা এমন না। তবে আমি কিছু উপায় পেয়েছি যার দ্বারা কিছুটা হলেও সংশোধন করা সম্ভব।

(★) সেমিনারে যাওয়ার পর যদি একজন ইংরেজী ভাষি বক্তা আর একজন বাংলা ভাষী বক্তা কথা বলেন তখন আমরা স্বভাবতই বাংলাভাষী বক্তার কথা একটু বেশি মনযোগ দিয়ে শুনি।

(★) উচ্চস্বরে তিলওয়াত করা হয় এমন নামাজগুলোতে আমাদের নিরব থাকার বিধান রয়েছে কারণ ইমাম যখন পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন তখন মুক্তাদির তিলওয়াতে নিষেধাঙ্গা রয়েছে। এক্ষেত্রে একটা ব্যপার আমার ক্ষেত্রে প্রায়ই হয়ে থাকে যে সূরা আল ফাহিতা পাঠকালে যে মনযোগটুকু থাকে তার খুব কম অংশই অবশিষ্ট থাকে যখন পরবর্তী অংশে আমার কাছে অপরিচিত কোনো সুরা পাঠ করা হয়।

(★) আমি যখন নিজে নিজে নামাজ আদায় করি তখন জামায়াতে আদায়ের চেয়ে অনেকগুণ বেশি মনযোগী থাকি। এর একটা কারণ আমার কাছে মনে হয় তা হচ্ছে মস্তিস্কের নিস্ক্রিয়তা। আমাদের মস্তিস্ক আল্লাহ সুবহান ওয়া তাআলা এমন ভাবে তৈরী করেছেন যে- তা কখনই মুক্ত থাকতে চায় না। আর সেজন্যই ঘুমের ব্যবস্থা। মানুষ শুধু ঘুমলেই তার মস্তিস্ক বিরতীতে যায় অন্যথায় সে অনবরত কাজ করতে থাকে। এ একটা কারণেই আমরা জামায়াতে নামাজ আদায় করার সময় যখন ভালো শ্রোতা হতে পারি না তখন আমাদের মন অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে আর পুরনো কথা সামনে টেনে আনে।

(★) আরো উদাহরণ টানতে গেলে জুমার পুর্ববর্তী খুৎবা ও আলোচনা পর্বের কথাও বলা যায়। আপনি একটু চেষ্টা করলেই খেয়াল করবেন যে যখন বাংলায় আলোচনা করা হয় তখন আপনার মন যতটা একাগ্র থাকে, আরবীতে খুৎবা পাঠকালে তার খুব স্বল্প পরিমানই অবশিষ্ট থাকে।

(★) মানুষের আরো একটা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি আছে এমন যে- সে পরিচিত শব্দ বা বাক্যগুলো শুনলে তার সাথে সাথে নিজেও আওয়াজ করতে চায়। ঠিক যেমনটা আমরা গান শুনলে নিজেরাও তার সাথে সাথে গাই। পবিত্র কোরআন পাঠের ব্যপারটাও এমনই যে আমরা যখন পরিচিত সূরা শুনি তখন তা মনে মনে অনুকরণ করার চেষ্টা করি এতে করে আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায় বহুগুনে।

উপরের ঘটনাগুলো শুধু আমার সাথে নয় বরং প্রায় সকলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে বিশেষ করে যারা আরবী বুঝে না বা সবগুলো সূরার সাথে পরিচিত নয় তাদের সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

তথ্যগুলো থেকে এ-ও বুঝা সহজ হয় যে, আমাদের সামনে যদি পরিচিত কনো আওয়াজ করা হয় আমাদের মনযোগ একটু বেশি আকর্ষণ করতে পারে যতটা অপরিচিত শব্দের দ্বারা সম্ভব হয়না।

সেজন্য নামাজে মনোযোগ আনার ক্ষেত্রে আমার মাথায় যে ধারনাটা জন্মেছে তা হল- ইমামরা যদি পরিচিত সূরাগুলোই পাঠ করেন নিয়মিত, তবে একসাথে দুইটা উপকার পাবে ইমামের পেছনে থাকা মুসল্লিরা।

যেমন-
(এক) তারা পরিচিত সূরাগুলো নিজে পড়ার সময় যদি কোনো ভুল করে থাকে তবে ইমামের সাথে সুদ্ধভাবে বির বির করতে করতে তা অনেকাংশেই কমে যাবে।

(দুই) পরিচিত সূরা হওয়াতে মুসল্লিরা বেশি মনযোগী হতে পারবে এবং নামাজ পড়ে আগের চেয়ে বহুলাংশে উচ্ছসিত হবে যা তাদেরকে পরবর্তীতে আরো নামাজ পরার জন্য উৎসাহিত করবে।

ধারণার উৎসঃ
আমি এই রমজানে প্রথম কদিন পবিত্র কোরআন খতমের উদ্দেশ্যে যখন তারাবীহ পরতাম তখন দেখলাম নামাজ পরে তেমন একটা মজা পাচ্ছি না। একদিকে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে অন্যদিকে মনের ভিতরে নানান জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হওয়ায় মনযোগ দিতে পারিনা ভালো মত।

তারপর চিন্তা করলাম হলের মসজিদে নামাজ পড়ব যেখানে সূরা তারাবীহ পড়ানো হয়। যেই ভাবা সেই কাজ- আমি অনেক বেশি মনযোগী হতে পেরেছি, নিজের সূরা পাঠে কিছু ভুল ছিল সেগুলোও সুধরে নিতে পেরেছি।

আশা করছি আমার মত ভুল আপনারাও করবেন না বরং পবিত্র কোরআন খতমের উদ্দেশ্যেই মসজিদে গিয়ে তারাবীহ সালাত আদায় করার চেষ্টা করুন।

মোদ্দা কথা- পরিচিত সূরা পাঠ করে অল্প জানা মুসল্লিদের মনযোগ আকর্ষন করা যায় খুব সহজে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics