.ঢাকা, রোববার   ২৪ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৯ ১৪২৫,   ১৭ রজব ১৪৪০

নান্দনিকতায় পত্রিকা কর্নার

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:৫৮ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫৮ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

খুলনার পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন নান্দনিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ নিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিলি জিয়াসমিন। 

বিদ্যালয়ের সামনে তিনি একটি পত্রিকা কর্নার করেছেন। যা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। সময় পেলেই অভিভাবক থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চলে আসে এ কর্নারে। 

এর মাধ্যমে লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের খবরাখবর জানাসহ বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান লাভ করছে স্কুল শিক্ষার্থীরা। এমন নান্দনিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সবাই। 

২০১৮ সালের ২২ মার্চ প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন মিলি জিয়াসমিন। এরআগে তিনি গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এ বিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর খেলাধুলা ও লেখাপড়ার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি। ২০১৮ সালের মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম স্থান অর্জন করে। 

এছাড়াও তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি জ্ঞান লাভ ও বিনোদনের জন্য সৃজনশীল বিকাশের উন্মেষ হিসেবে দুটি দেয়ালিকা প্রকাশ ও বিদ্যালয়ের সামনে একটি পত্রিকা কর্নার করেছেন। 

কর্নারে প্রতিদিন সকালে দুটি পত্রিকা এপিঠ-ওপিঠ করে লাগিয়ে রাখা হয়। এরপর শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সময় পেলেই পত্রিকা পড়ার জন্য পত্রিকা কর্নারে ছুটে যান। শিক্ষার্থীরা টিফিনের বেশিরভাগ সময় পত্রিকা কর্নারে কাটায়। আর অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে দেয়ার পর পত্রিকা কর্নারে সময় কাটান। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য সরকার বলেন, টিফিনের খাওয়া শেষে অনেক সময় থাকে। এ সময় পত্রিকা কর্নারে পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে খেলাধুলাসহ অন্যান্য খবর জানতে পারি। 

দীনবন্ধু রায় বলেন, এটি একটি ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ সচরাচর কোনো প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলে পত্রিকা কর্নার দেখা যায় না। সেই দিক থেকে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রশংসা করতে হয়। তিনি নিঃসন্দেহে ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। 

অভিভাবক শ্রাবণী ইয়াসমিন বলেন, বাচ্চারা স্কুলে প্রবেশ করার পর সচরাচর বিদ্যালয়ের আশেপাশে অলস সময় কাটাতে হয়। পত্রিকা কর্নারটি করার পর পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে একদিকে সময়ও চলে যায়; অপরদিকে নানা খবর জানতে পারি। 

শিক্ষক এসএম আমিনুর রহমান লিটু বলেন, বর্তমান প্রধান শিক্ষক স্কুলে যোগ দেয়ার পর লেখাপড়া ও খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। পত্রিকা কর্নারটি যার মধ্যে অন্যতম। এটি বিদ্যালয়ের সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

প্রধান শিক্ষক মিলি জিয়াসমিন বলেন, পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে স্কুলে চলে আসে। আবার টিফিনের সময় অলস সময় কাটায়। এ সময় শিশুদের পত্রিকা পড়ার অভ্যস্ত করতে পারলে তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। এই ভেবে আগস্ট মাস থেকে বিদ্যালয়ের সামনে পত্রিকা কর্নারটি করি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর