১৮ বছর পর ফিরলেন বৃদ্ধা

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

১৮ বছর পর ফিরলেন বৃদ্ধা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৬:৪৬ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৬:৫২ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

র্দীঘ ১৮ বছর পর নাতির হাত ধরে নিজ গৃহে ফিরছেন বৃদ্ধা বকুলী বালা।  ১৮ বছর আগে ছোট মেয়ে আলো রানীর খোঁজে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা। 

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পাড়ডাকুয়ার তালবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ঠাকুর কৃষ্ণ হালদারের মা এই বৃদ্ধা বকুলী বালা। ২০১৫ সালে পটুয়াখালী পৌর শহরের তিতাসপাড়া এলাকায় বৃষ্টি ভেজা জবুথবু অবস্থায় উদ্ধার করে খাবার হোটেল ব্যবসায়ী শারমিন আক্তার লাইজু। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক ও কাউন্সিলর কাজল বরন দাস ওই বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেন। 

বৃদ্ধার নাতি রিপন চন্দ্র হালদার জানায়, পটুয়াখালী সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তর পড়ছেন তিনি। শুক্রবার বিকালে সহপাঠীদের নিয়ে শহরের ঝাউবাগানে ঘুরতে যায়। এ সময় তিতাসপাড়া এলাকার বটতলার একটি ঝুপড়ি ঘরে তার দাদির মত এক বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়ে কাছে এগিয়ে যায়। এ সময় পরিচয় জানতে চাইলে কিছুই বলতে পারেননি তিনি। বৃদ্ধার গড়ন তার দাদির মত মনে হলে রিপন তার দাদা কৃষ্ণকে মোবাইল করে বিস্তারিত জানায়। পরে বৃদ্ধার ডান হাতের মধ্য আঙ্গুলের আঘাতের চিহ্ন দেখে পুরোপুরি সনাক্ত করা হয়। 

নাতি রিপন আরো জানায়, তার দাদি যখন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তখন রিপনের বয়স ৮-৯ বছর। তবুও তার মনে রয়েছে দাদির আচার-আচরণ ও গড়ন। নিখোঁজের ১৮ বছর পর হঠাৎ দেখে তাকে চিনতে পারবে এটা ভাবার বাইরে। 

বৃদ্ধা বকুল বালার ছেলে ঠাকুর কৃষ্ণ আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমার মা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ১৮ বছর আগে ছোট বোন আলো রানীকে খুঁজতে বের হয়ে মা নিখোঁজ হন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খুঁজেছি কিন্তু পাওয়া যায়নি। র্দীঘ ১৮ বছর পর্যন্ত বড় ছেলে রিপনের মাধ্যমে তার খোঁজ পেয়েছি। এ সময় তিনি আশ্রয়দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে বৃদ্ধাকে তার পরিবার বাড়ি নিয়ে যাবে এমন খবরে উপচেপড়া ভিড় জমে তিতাসপাড়া এলাকায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রথম কুড়িয়ে পাওয়া সেই শারমিন আক্তার লাইজু। 

এ প্রসঙ্গে শারমিন আক্তার লাইজু বলেন, ৫ বছর আগে রাতে বৃষ্টিতে ভেজা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ছেরা কাপড়ে জবুথবু অবস্থায় দেখতে পেয়ে পটুয়াখালীর সাংবাদিক কাজল বরণ দাসকে অবহিত করা হয়। পরে সাংবাদিক কাজল বরণ দাস বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন। বৃদ্ধার প্রসঙ্গে খানিটকা উদাসীন ছিলেন না এলাকাবাসীও। ৫ বছর পর্যন্ত যে যার সাধ্যমত সহায়তা করে আসছেন বলে জানান লাইজু। 

কাজল বরণ দাস বলেন, এই বৃদ্ধা এলাকায় সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কথা কম বলতেন। মনে হতো মানসিক ভারসাম্যহীন তিনি। আশপাশের বাসায় গিয়ে খাবার খেতেন। আমরা সবাই মিলে একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে দিয়ে সেখানে তার থাকার ব্যবস্থা করি। তিনি তার আত্মীয়স্বজন ফিরে পাওয়ায় আমরা খুব খুশি। তবে কিছুটা খারাপও লাগছে। তবুও তিনি ঠিকানা পেয়েছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে