Alexa নাজমার জীবনের মূল্য তিন লাখ টাকা!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

নাজমার জীবনের মূল্য তিন লাখ টাকা!

 প্রকাশিত: ২৩:৫০ ২৩ মার্চ ২০১৮  

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমা আক্তারের জীবনের মূল্য তিন লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে! এমনই অভিযোগ করেছেন নিহত নাজমার মা নিলুফা বেগম(৪৫)। তিনি জানান, সালিশের মাধ্যমে নাজমার হত্যার বিরুদ্ধে করা মামলা উঠিয়ে নেওয়ার বিনিময় তিন লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ নির্ধারণ করে দিয়েছে পৌরসভার সরদারগণ।

তিনি জানান, টাকার বিনিময়ে মামলা উঠিয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া হচ্ছে চাপ। এতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথাও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার কাউন্সিলর মফিজুর রহমান জানান, `আমাদের পৌরসভায় মাননীয় মেয়রের অফিসে এ ব্যাপারে একবার আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু মামলা যেহেতু সরকারি পর্যায়ে চলে গেছে, তাই আমরা এটা বাদ দিয়ে দিয়েছি। তিনি আরো জানান, ` নাজমার হত্যার সুবিচারের জন্য আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছি। এখানে কেউ কোনো প্রকার প্রভাব খাটিয়ে বিচার বন্ধ করতে পারবে না।

অন্যদিকে নাজমা হত্যার সাত মাস পরও মামলার চার্জশিট আদালতে জমা না দিতে পাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সহপাঠীরা। ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান জানান, ` নাজমার হত্যার সাত মাস শেষ। পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করতে পারেনি। আদালতে এখনো চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। এটা সত্যিই দুঃখজনক।

নাজমার এই সহপাঠী আরো জানান, ` একটি মেয়েকে গর্ভধারণের অপরাধে হত্যা । মানবতার এই যুগে এটা সত্যিই নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। নাজমার অপর সহপাঠী ইরানী হোসাঈন জানান, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নাজমা হত্যার চার্জশিট প্রস্ততের আহ্বান জানাচ্ছি। হত্যাকারী কামালকে ( নাজমার স্বামী) দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।

নাজমার বড় বোন আসমা আক্তার জানান, ` বিয়ের পর থেকে নাজমাকে একের পর এক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমার বোনটাকে মেরে ফেলা হয়েছে`।

এ বিষয়ে নাজমার স্বামী কামালের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। নাজমার গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ফালগুনকরা গ্রামে। সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৪-১৫ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। নাজমা কলেজের পাশে একটি ছাত্রী মেসে ভাড়া থেকে পড়াশোনা করতো।

দীর্ঘ সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও পুলিশ কেন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দিচ্ছে না জানতে চাইলে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম মিয়া বলেন, নাজমা আক্তার নামে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। আমাদের পুলিশ তার বাসায় গিয়ে দড়জা ভেঙ্গে সুইসাইড করা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। পরে মেয়েটির পরিবার আদালতেও মামলা করে।

মামলার চার্জশিট প্রসঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম মিয়া আরো বলেন, চার্জশীট দিতে হলে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হবে। ভিসেরা রিপোর্টসহ অনেক কিছু এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আর মামলার যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্প্রতি তার স্ত্রী মারা গেছে। সে এখন ছুটিতে আসে। আশা করি, সে ছুটি থেকে এলেই দ্রুত এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩ অগাস্ট ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের কবি নজরুল হলের পাশে বন্ধন নামক একটি ছাত্রী মেস থেকে নাজমার জুলন্ত লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তে জানা যায়, নাজমা তিন মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/ আরএ