Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ মে, ২০১৮
iftar

নাগরিকত্ব পেলেন মানবদরদি লুসি

 বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:২৬, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আপডেট: ১৩:০৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

৩৩৬ বার পঠিত

খবরটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন
বিট্রিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তের পর বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক

বিট্রিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তের পর বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক

নাগরিকত্ব পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে মানবসেবায় নিয়োজিত বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে অবস্থানরত বৃটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট। খুব শিগগিরই তিনি কাগজপত্র হাতে পাবেন।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি ডেইলি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ১৫ বছরের ভিসা ফি মুক্ত পাসপোর্ট পান লুসি হল্ট।

আরো পড়ুন>>  মানবদরদি লুসির পাশে প্রধানমন্ত্রী

সে সময় তাকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া যাবে কিনা সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

আশ্বাসের চার দিনের মাথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার এ সিদ্ধান্ত এল।

আরো পড়ুন>>  মানবদরদি লুসির ভিসা ফি মওকুফ 

গত ১৮ জানুয়ারি ডেইলি বাংলাদেশে `বাংলার মাটিতেই সমাহিত হতে চান লুসি` এমন শিরোনামে তাকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রচার হয়। সেই সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরে যেয়ে তাকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। 

জন হোল্ট ও ফ্রান্সিস হোল্টের কন্যা লুসি ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হেলেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। সে বছর তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে যোগ দেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শিক্ষা দেন।

এরপর তিনি আর স্বদেশে ফিরে যাননি। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে এখানেই থেকে যান। এরপর তিনি যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা এবং গোপালগঞ্জে ৫৭ বছর ধরে কাজ করেন। ২০০৪ সালে অবসর নেয়ার পর তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে ফিরে আসেন। অবসর জীবনে তিনি ইংরেজি শিক্ষা দেন এবং দুস্থ শিশুদের মানসিক প্রণোদনা দেন। পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের জন্য সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেন।

আরো পড়ুন>>  লুসি এখন পুরো বাঙালি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে লুসি হেলেনের অসামান্য অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আহত মানুষের সেবা-শুশ্রূষা করেছেন। সে সময় তিনি যশোর ক্যাথলিক চার্চে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি শিশুদের ইংরেজি শিক্ষা দিতেন। যুদ্ধ শুরু হলে লুসি ছাড়া অন্য সবাই স্কুল বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে খুলনা চলে যায়।

ভয়ঙ্কর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি পাশের ফাতেমা হাসপাতালে যান এবং যুদ্ধাহত বেসামরিক নাগরিকদের সেবা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আরো পড়ুন>>  বাংলার মাটিতেই সমাহিত হতে চান লুসি

হাসপাতালের চিকিৎসকরা একজন বিদেশী মহিলার এমন আগ্রহ দেখে অবাক হন এবং তাকে এ ব্যাপারে সম্মতি দেন। এরপর থেকে তিনি যুদ্ধাহত মানুষদের সেবা দিতে শুরু করেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লুসিকে সম্মাননা প্রদান করে।

অপরদিকে লুসি দুটি দাবিই সরকার পূরণ করায় তিনি সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি আবেগ্লাপুত হয়ে পড়েন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

সর্বাধিক পঠিত