Alexa নর্তকী থেকে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা বনে যাওয়া এক নারী

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৯ ১৪২৬,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

নর্তকী থেকে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা বনে যাওয়া এক নারী

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ১৭ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা শব্দটি শুনলেই আমাদের শরীরে চলে আসে এক শিহরণ। এর কারণ হলো শৈশব থেকেই সিনেমা বা উপন্যাসে আমরা দুর্ধর্ষ সব গোয়েন্দাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে এসেছি। এসকল উপন্যাস পড়ে এবং সিনেমা দেখে অনেকেই আবার গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্নও দেখে ফেলেছি। কিন্তু বাস্তব জীবনের গোয়েন্দারাও কি সিনেমার মত চাঞ্চল্যকর জীবন অতিবাহিত করে? যুদ্ধাবস্থা ছাড়া আসলেই কি গোয়েন্দারা কাজ করে? 

হ্যাঁ, করে। প্রায় মধ্যযুগ থেকেই পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই রয়েছে আলাদা গোয়েন্দা সংস্থা। এসব গোয়েন্দাদের কাজই হল শত্রু দেশ বা সংগঠনের উপরে নজরদারি করা। সেইসঙ্গে স্পর্শকাতর সব তথ্য সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে অনেক গোয়েন্দাই দিয়েছে বীরত্বের প্রমাণ। আবার অনেকেরই প্রাণ গিয়েছে। এসকল গোয়েন্দাদের তাদের দেশের মানুষ আজো মনে রেখেছে। তাহলে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কিছু গোয়েন্দাদের সম্পর্কে-

সিডনি রেলি 
পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র হল জেমস বন্ড। আর এই চরিত্র সবথেকে বেশি যে গোয়েন্দার জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি তিনি হলেন সিডনি রেলি। তিনি বৃটিশ নাগরিক হলেও জেমস বন্ড সিনেমার মত শুধুমাত্র বৃটেনের জন্যই কাজ করেনি। তিনি অনেক দেশের গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছেন। সিডনি রেলি ছদ্মবেশ নেয়ায় এবং নিজের সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচারে পটু ছিল। এ কারণেই তিনি অনেক বেশি সফল ছিল। আবার একই কারণে তার জীবন সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায়নি। তবে তিনি ছদ্মবেশ ধরে অনেক দেশ থেকে গোপন অস্ত্র, প্লেন এবং মিলিটারির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে বৃটেন এবং আমেরিকার কাছে পাচার করে। এছাড়াও তিনি এসব তথ্য চুরির জন্য তার হ্যান্ডসাম ও শক্তিশালী পার্সোনালিটি কাজে লাগিয়ে অনেক পলিটিশিয়ান এবং মিলিটারি অফিসারের স্ত্রীদের সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হয়।

সিডনি রেলি  তবে সিডনি রেলির সবথেকে জনপ্রিয় মিশন ছিল বলশেভিক বিপ্লব থামানোর চেষ্টা। সিডনি রেলি এবং আরো কিছু বৃটিশ গোয়েন্দা মিলে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঠেকানোর জন্য লেনিন হত্যার ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু তাদের তৈরি মিলিটারি ক্যু ব্যর্থ হয়। তার প্রায় সকল সহযোগী নিহত হয় তবে সিডনি রেলি জার্মান অফিসারে ছদ্মবেশ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, ১৯২৫ সালে রাশিয়ানরা স্টিং অফারেশনের মাধ্যমে তাকে পুনরায় রাশিয়া নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। বিচারে তিনি দোষী স্বাব্যস্ত হয় এবং ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সিডনি রেলিকে হত্যা করা হয়।

মাতা হারি
মাতা হারি ইতিহাসের সবথেকে ভয়ংকর এবং দুর্ধর্ষ নারী গোয়েন্দা। তার পুরো নাম মার্গারিতা গ্রীথুইডা যেলা। এই দুর্ধর্ষ নারী ছিলেন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। তবে তার শৈশব সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মাতা হারি প্যারিসের সবথেকে জনপ্রিয় নর্তকীতে পরিণত হন। মাতা হারির রুপ এবং নাচার পারদর্শীকতায় মুগ্ধ হয়ে যুদ্ধরত অনেক মিলিটারি অফিসার এবং হাই প্রোফাইল বিজনেসম্যান তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেস্টা চালায়। কিন্তু তিনি শুধুমাত্র মিত্রপক্ষের হাই র‍্যাংকিং অফিসার এবং যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির মিসট্রেস হিসেবেও ছিলেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তার পুরো ইউরোপব্যাপি বিচরণ অনেকেরই নজরে আসে। 

বৃটিশ গোয়েন্দারা মাতা হারির পরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে মাতা হারি সম্পর্কে অনেক তথ্যই উঠে আসে। ফলে বৃটিশ গোয়েন্দারা মাতা হারিকে গ্রেফতার করে বৃটেনে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাতা হারি নিজেকে ফ্রান্সের গোয়েন্দা হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু ফ্রান্স এর গোয়েন্দা সংস্থা মাতা হারিকে অস্বীকার করে। অপরদিকে মাতা হারিকে তল্লাশি করার পরে বৃটিশরা কিছু রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পায়। এসকল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে বৃটিশ গোয়েন্দারা জার্মান অ্যানক্রিপটেড ম্যাসেজ লাভ করে। এসব ম্যাসেজ ডিকোড করলে বৃটিশ গোয়েন্দারা জানতে পারে মাতা হারি একজন জার্মান গোয়েন্দা। পরবর্তীতে জানা যায়, মাতা হারি প্রায় ৫০ হাজার মিত্রশক্তি সৈন্যদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। ১৯১৭ সালে মাতা হারিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics