নবী (সা.) এর সহধর্মিণীদের নাম এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (শেষ পর্ব)
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=194479 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নবী (সা.) এর সহধর্মিণীদের নাম এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (শেষ পর্ব)

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫১ ১৬ জুলাই ২০২০  

নবীসহধর্মিণীরা সবাই আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের শ্রেষ্ঠত, মর্যাদা এ থেকেই অনুমান করা যায়, তাদের কেউই দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েননি।

নবীসহধর্মিণীরা সবাই আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের শ্রেষ্ঠত, মর্যাদা এ থেকেই অনুমান করা যায়, তাদের কেউই দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েননি।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন,

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
অর্থ: ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ২১)। 

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ
অর্থ: ‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা: আল কলম, আয়াত: ৪)।

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ, মৌন সমর্থন, হাসি, কান্না, আনন্দ, দুঃখ, কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা, উপদেশাবলী, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র অর্থাৎ পায়ের নখ কাটা থেকে আরম্ভ করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে মানুষের জন্যে রয়েছে অনুসরণের বাস্তব নমুনা। রাসূলুল্লাহর (সা.) জীবনের প্রতিটি পর্যায় অনুসরণযোগ্য বিধায় আলোচনার দাবী রাখে। তবে আজ আমরা শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহর (সা.) পরিবারের (স্ত্রীদের) সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরবো। (১ম পর্বের অংশবিশেষ)।

১ম পর্বে প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ১১ স্ত্রীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। আজ ২য় পর্বের মতো শেষ পর্বেও থাকছে রাসূল (সা.) এর ১১ বিয়ের কারণসহ আরো অন্যান্য বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

লেখাটি- আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী’র ‘আর রাহীকুল মাখতুম’ (রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনী গ্রন্থ) থেকে নবী পরিবারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি অধ্যায়টি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন- খাদিজা আখতার রেজায়ী।

আরো পড়ুন >>> নবী (সা.) এর সহধর্মিণীদের নাম এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (পর্ব-২)

শেষ পর্ব >>>
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারণা করলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি যায়দ তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং তাকে যায়দের তালাক দেয়া স্ত্রীকে বিয়ে করতে হয়, তাহলে মোনাফেক, মোশরেকরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রবল প্রাপাগান্ডা শুরু করবে এবং সরলপ্রাণ মুসলমানদের নানা রকম কুমন্ত্রণায় নিক্ষেপ করে তাদের মনে বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ চেষ্টাই করেন যেন হজরত যায়দ (রা.) স্ত্রীকে তালাক না দেয়। এতে তার তালাক দেয়া স্ত্রীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিয়ে করার প্রশ্ন ওঠবে না, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এটা পছন্দ করেননি। আল্লাহ তায়ালা তাকে সাবধান করেন। এরশাদ হচ্ছে, ‘স্বরণ করো’আল্লাহ তায়ালা যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছো, তুমি তাকে বলেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করেছো আল্লাহ তায়ালা তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন, তুমি লোকভয় করছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করাই তোমার পক্ষে অধিকতর সঙ্গত।’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৩৭)।

অবশেষে হজরত যায়দ (রা.) হজরত যয়নবকে তালাক দেন। এরপর ইদ্দতকাল শেষ হয়ে গেলে আল্লাহ তায়ালা হজরত যয়নব (রা.) এর সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিয়ের ফয়সালা জানিয়ে দেন এবং এ বিয়ে তাঁর জন্যে অত্যাবশ্যক করে দেন। দেরি করার কোনো অবকাশও রাখা হয়নি। এ প্রসঙ্গে নাজিল হওয়া কোআনের আয়াতের অর্থ এরুপ, অতঃপর যায়দ যখন তার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করলো তখন আমি তাকে তোমার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা নিজ স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে ছিন্ন করলে সেসব রমণীকে বিয়ে করায় তাদের জন্যে কোনো বিঘ্ন না হয়, আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে।’ (সূরা: আহযাব,  আয়াত: ৩৭)।

এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিলো, পালিত পুত্রের ব্যাপারে জাহেলি যুগের রীতি-নীতি কার্যকরভাবে উৎখাত করা। এর আগেই কোরআনের আয়াতে কথার মাধ্যমে এ কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ওদের ডাকো ওদের পিতৃ পরিচয়ে, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই ন্যায়সঙ্গত।’(সূরা আহযাব,আয়াত-৫।

আল্লাহ তায়ালা অন্য এক আয়াতে বলেন, ‘মোহাম্মদ তোমাদের মধ্যেকার পুরুষদের কারো পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালালাম) এবং খাতামুন নবী।’

একানে একটা কথা স্বরণ রাখা দরকার, সমাজ জীবনে কোনো রেওয়াজ বন্ধমূল হয়ে গেলে তখন শুধু কথা দিয়ে তার মূল্যোৎপাটন করা, তাতে পরিবর্তন  আনা অনেক সময় সম্ভব হয় না; বরং যদি সেই রেওয়াজের পরিবর্তন চান তাকে কাজের মাধ্যমে বাস্তব দৃষ্টান্ত উপস্থান করতে হয়। এ পর্যায়ে একটা উদাহরণ উল্লেখ করা যায়। হোদায়বিয়ার সন্ধির সময় মুসলমানদের পক্ষ থেকে যে তৎপরতা প্রকাশ পেয়েছিলো তা থেকে এ সত্য সুস্পষ্ট হয়। সে সময় মুসলমানদের নিবেদিতচিত্ততা ছিলো বিস্ময়কর। ওরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফী লক্ষ্য করেছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখের থুথু কফ সাহাবায়ে কেরাম মাটিতে পড়তে দিচ্ছিলেন না। কেউ না কেউ হাত পেতে নিচ্ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়াসাল্লাম এর ওজুতে ব্যবহার করা পানি গ্রহণের জন্যে সাহাবায়ে কেরাম এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, মনে হচ্ছিলো, তারা নিজেদের মাঝে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়বেন। এ সাহাবিরাই গাছের ছায়ায় মৃত্যুবরণ করা এবং পলায়ন না করার জন্যে বায়াত গ্রহণে প্রতিযোগিতা করেছিলেন। যাদের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্যে জীবনদানকারী হজরত আবূ বকর (রা.) এবং হজরত ওমরের (রা.) মতো বিশিষ্ট সাহাবিও ছিলেন। এসব সাহাবি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্যে জীবন দেয়া, তাঁর জন্যে বেঁচে থাকাকে নিজেদের সৌভাগ্য এবং সাফল্য মনে করতেন। 

অথচ হোদায়বিয়ার চুক্তি সম্পাদনের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের নিজ নিজ কোরবানির পশু জবাই করতে নির্দেশ দেন, তখন কেউ সাড়া দেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়াসাল্লাম তখন ভীষণ মনোকষ্টে ভুগছিলেন। হজরত উম্মে সালমা (রা.) তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরামর্শ দিলেন, আপনি চুপচাপ নিজের কোরবানির পশু জবাই করুন। তিনি তাই করেন। তখন প্রত্যেকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের জন্যে প্রতিযোগিতা শুরু করে দেন। তারা ছুটে গিয়ে নিজেদের কোরবানির পশু জবাই করেন। এ ঘটনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, শক্তিশালী কোনো রসম রেওয়াজের পরিবর্তন সাধনে কথা ও কাজের পার্থক্য কতো বেশি। আর জাহেলি যুগের পালিত পুত্র বিষয়ক রেওয়াজ নিরসনের লক্ষ্যেই আল্লাহ তায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 
এর পালিত পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন।

এ বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর মোনাফেকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে ব্যাপক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাতে শুরু করে। তারা ননানা ধরনের ওয়াসওয়াসা এবং গুজব রটাতে থাকে। এর কিছুটা প্রভাব সরলপ্রাণ মুসলমানদের ওপরও এসে পড়ে। এ প্রোপাগান্ডাকে শক্তিশালী করতে মোনাফেকরা শরীয়তের একটি যুক্তিও খুঁজে নেয়। তারা প্রচার করে, ইসলাম চারটি বিয়ে বৈধ করেছে, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পালিত পুত্র যায়দের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে পঞ্চম স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। একজন মুসলমানের জন্যে চারের বেশি স্ত্রী গ্রহণ তো ইসলামে বৈধই নয়। প্রচার প্রোপাগান্ডার মূল বিষয় ছিলো, হজরত যায়দ (রা.)-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে মনে করা হতো, ছেলের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করা তো নির্লজ্জতাপূর্ণ ঘৃণ্য কাজ। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা সূরা আহযাবে উল্লিখিত দু‘টি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে আয়াত নাজিল করেন। সাহাবিরা তখন বুঝতে পারেন, ইসলামে পালিত পুত্রের কোনো মূল্য নেই। এছাড়া আল্লাহ তায়ালা মহৎ কোনো উদ্দেশেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিয়ের সংখ্যার ক্ষেত্রে এমন ব্যাপকতা দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেযা হয়নি।

উম্মাতুল মোমেনীনের সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ, সম্মানজনক, উচ্চ পর্যাযের উত্তম জীবন যাপন করতেন। নবীসহধর্মিণীরা নম্রতা, ভদ্রতা, শালনিতা, ধৈর্য সহিষ্ঞুতা, সেবাপরায়নতা, স্বামীর অধিকার পূরণ ইত্যাদি সব বিষয়েই ছিলেন প্রশংসনীয় ভূমিকা পালনকাররীণী। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়ই নীরস নির্বিলাস জীবন-যাপন করতেন। সে জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা অন্যদের জন্যে মোটেই সহজ ছিলো না।

হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি জানি না, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ময়দার নরম রুটি খেয়েছেন। এ অবস্থায়ই তিনি আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি কখনো ভুনা করা বকরী চোখে দেখেনি। (সহিহ বুখারি, ২য় খন্ড,পৃ: ৯৫৬)।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, দুই দুই মাস কেটে যেতো, তৃতীয় মাসের চাঁদ দেখা যেতো, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরের চুলায় আগুন জ্বলতো না। হজরত ওরওয়া (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনারা কি খেতেন? তিনি বললেন ব্যস, দুটি কালো জিনিস-খেজুর এবং পানি। (প্রাগুক্তে) এ বিষয়ে বহু হাদিস রয়েছে। এমন কঠোর দরিদ্রাতা সত্ত্বেও নবীসহধর্মিণীদের কোনো আপত্তিকর আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি।

মাত্র একবার তা ঘটেছিলো। তাও এ কারণে যে, মানবপ্রকৃতির দাবিই কিছুটা এরকমের। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্রে করে শরীয়তের কিছু বিধান জানিয়ে,দেয়া উদ্দেশ্য ছিলো। এ উপলক্ষেই আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাজিল করেন, ‘হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের বলে দাও, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা করো তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিই এবং সৌজন্যের সঙ্গে তোমাদের বিদায় দিই, আর যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রাসূল ও আখেরাতের কামনা করো, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্যে মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।’(সূরা: আহযাব, আয়াত: ২৮-২৯)।

নবীসহধর্মিণীরা সবাই আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের শ্রেষ্ঠত, মর্যাদা এ থেকেই অনুমান করা যায়, তাদের কেউই দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েননি।

সতীনদের মধ্যে যেসব ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায়, নবীসহধর্মিণীরা অধিক সংখ্যাক হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা কমই ঘটেছে। সামান্য কিছু ঘটে থাকলেও যখন সাবধান করে দেয়া হয়েছে তখন কারো পক্ষ থেকেই প্রশ্ন তোলার মতো কোনো ঘটনা প্রকাশ পায়নি। সূরা তাহরীমের প্রথম পাঁচটি আয়াতে এসম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।

পরিশেষে একথা বলা অসমীচীন হবে না যে, এখানে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের সংখ্যা সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করি না। কেননা এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হচ্ছে পশ্চাত্যের অধিবাসীরা। তারা কি এ ধরনের জীবন-যাপন করেছে?
অহরহ কি দুর্ভাগ্য ও তিক্ততার শিকার হচ্ছে? তারা অবমাননাকর জীবন ও অপরাধের মধ্যে আগাগোড়া ডুবে আছে। স্ত্রীদের সংখ্যাধিক্যের নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে এ ব্যাপারে সমালচনায় সোচ্চার হয়ে তারা যে দুঃখ, কষ্ট ও হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে, সে ব্যাপারে কি আলোচনার কোনো প্রয়োজন আছে? (একধিক স্ত্রীর তুলনায় একাধিক গার্লফ্রেন্ড কি অধিক রুচিসম্মত)।

তাদের দুর্ভাগ্যজনক জীবন-যাপন পদ্ধতি দেখেই প্রমাণিত হয়, স্ত্রীর সংখ্যাধিক্যের ইসলামি নীতি বিজ্ঞানসম্মত। জ্ঞানী-গুণী ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে চমৎকার উপদেশপূর্ণ শিক্ষা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে