Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ মে, ২০১৮
iftar

নবাবগঞ্জে টার্কি মুরগির খামার

 সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

৮৩৯ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে গড়ে উঠেছে আমেরিকান টার্কি মুরগির খামার। উপজেলার তর্পনঘাট গ্রামের মোছা. আরজুমান আরা গড়ে তুলেছেন এ খামার। এখন উপজেলার সফল নারী উদ্যোক্তা তিনি।

আরজুমান আরা প্রবল আত্মপ্রত্যয় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন ইকো এগ্রো ফার্ম। এর মাধ্যমে তিনি এখন স্বাবলম্বী।

কিছুদিন আগেও এলাকায় তাকে কেউ চিনত না। এখন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজের সবাই তাকে চেনে এবং সম্মান করে।

আরজুমান আরা জানান, ছোটবেলা থেকে তার লক্ষ্য ছিল সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। সমাজে নিজস্ব পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। কিন্তু বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ভূগোল বিষয় নিয়ে অনার্স পাশ করার পর বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর সংসারে গিয়েও থেমে থাকেনি তার স্বপ্নবুনন।

আরজুমান আরা বলেন, ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারি দেশে আমেরিকান টার্কি মুরগি পালন হচ্ছে। সঠিকভাবে খামার করলে লাভবান হওয়া সম্ভব। মনে উৎসাহের জন্ম নেয়। স্বামীর অনুমতি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির ছাদে ২০১৬ সালে প্রথমে টার্কি মুরগির ১শ’ বাচ্চা নিয়ে শুরু করি পরীক্ষামূলক খামার। সফলভাবে পাখিগুলোকে বড় করতে সক্ষম হই। পরে উপজেলার উত্তর শ্যামপুরে ৬ বিঘা জমি কিনে নিরিবিলি পরিবেশে বাণিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগির খামার শুরু করি।

আরজুমান আরা বলেন, দেশে টার্কি মুরগির খামার খুব বেশি নেই। অনেক কষ্টে বিভিন্নস্থান টার্কি মুরগির বাচ্চা কিনে আনি। এরপর তা বড় করার কাজ করতে থাকি। এক পর্যায়ে মুরগিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। কিন্তু ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা খামারে ছিল না। আবারো ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। ওই তথ্যের ভিত্তিতে একটি অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিন কিনি। শুরু করি ব্রিডিং ফার্ম। কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকায় কাজ করতে পারছিলাম না। ফলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিই। এরপর সফলভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোতে সক্ষম হই। এখন তার খামারে বাচ্চাগুলো সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে।

আরজুমান আরা এ পর্যন্ত তার মেশিনের মাধ্যমে ফুটানো প্রায় ১ হাজার বাচ্চা দেশের বিভিন্ন খামারিদের কাছে বিক্রি করেছেন। তার খামারে প্রতিমাসে ২৫ হাজার বাচ্চা ফুটানোর ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে তার খামারে টার্কি মুরগির ১ হাজার প্যারেন্টস পালন হচ্ছে। এগুলো এখন মাসে দেড় হাজার বেশি ডিম দেয়।

খুব অল্প সময়ে তার খামারটির সুনাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতেরের কর্মকর্তারা এটি পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে খামারটি দেখার জন্য আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরজুমান আরার ছোট ভাই রাজু আহমেদ জানান- প্রথমদিকে আপনজন ও প্রতিবেশীদের থেকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে তাকে। ‘শিক্ষিত মেয়ে হয়ে চাকরি না করে এসব করছে কেন?’ ‘মেয়ে মানুষের দ্বারা এসব হয় না’- এমন বিভিন্ন কথা বলেছে মানুষ। কিন্তু তার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও বাবা তাকে সবসময় সাহস যুগিয়েছেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন তিনি।

এখন তাকে আর কেউ এসব বলে না। কেউ তাকে ছোট করে দেখে না। বরং তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক নারী উৎসাহিত হচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. শফিউল ইসলাম জানান- কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়া শুধু ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে অপরিচিত প্রাণির খামার গড়ে সফলতা অর্জন করে সাহসিতার পরিচয় দিয়েছেন আরজুমান আরা। টার্কি মুরগির খামারে সাফল্যের পর বর্তমানে তিনি উট পাখির পালন শুরু করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত