Alexa নদী ভাঙনে স্কুলে পাঠদান ব্যাহত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৬ ১৪২৬,   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

নদী ভাঙনে স্কুলে পাঠদান ব্যাহত

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ৩০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৯:০৬ ৩০ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে দুটি প্রাইমারি স্কুলে।

কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার। অভিভাবকেরা সন্তানদের পড়াশুনা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন। পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে চরভদ্রাসনের ফাজেল খাঁর ডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমপিডাঙ্গী স্কুল সংলগ্ন পাকা সড়ক, বালিয়া ডাঙ্গীর একটি মসজিদসহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছপালা, ফসলী জমি ও প্রায় অর্ধশতাধিক বসত বাড়ি নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ের অনেকে ভাঙনের ঝুঁকিতে তাদের বসত ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। এমপিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এমপিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী উপস্থিতির হার অনেক কম। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুলে আসলেও প্রাক প্রাথমিকের কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৬৬জন।

সালেহা বেগম ও সোনিয়া আক্তার নামে দুজন অভিভাবক বলেন, ভাঙনরোধে যেভাবে ধীর গতিতে বস্তা ফেলার কাজ হচ্ছে তাতে মনে হয় স্কুলটির শেষ রক্ষা হবে না। বিদ্যালয়টি একবারেই ঝুঁকিতে তাই সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাচ্চাদের সাথে এসেছি।

অন্যদিকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় পাঠদান হয়নি।

চরভদ্রাসন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক জানান, শিশুদের পাঠদানের কথা চিন্তা করে ডিসি ও ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা কমিটি স্থানীয় শামসুদ্দিন মেল্লার কাচারি ঘড়ে আগামী সাত দিনের জন্য পাঠদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে অস্থায়ীভাবে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ফজলুর রহমানের ভিটেয় ডিসির বরাদ্দকৃত টিন ও অর্থ দিয়ে অস্থায়ীভাবে ফাজেল খার ডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হবে। এই বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ৯৭ জন।

এদিকে, পাউবোর পশ্চিমাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি জিও ব্যাগের ডাম্পিং কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। উপজেলা পরিষদ হতে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে বালিয়াডাঙ্গী ও ফাজেলাখাঁর ডাঙ্গী এলাকার ভাঙন রোধে অস্থায়ী ভিত্তিতে জরুরি কাজ করা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী তাদের কিছু সিমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, চরভদ্রাসনের ভাঙন রোধে অস্থায়ীভাবে কাজ করছে পাউবো। এই মুহূর্তে এমপিডাঙ্গী স্কুলটি রক্ষায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। উপজেলার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাধঁ নির্মাণের জন্য ২৯২ কোটি টাকার  প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে আগামী শীত মৌসুমের দিকে স্থায়ী বাধঁ নির্মাণের কাজ একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর