Alexa নদী গর্ভে বিলীনের পথে পাঁচ গ্রাম

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

নদী গর্ভে বিলীনের পথে পাঁচ গ্রাম

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৪ ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৬ ১২ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রংপুরের পীরগাছায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বেড়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিস্তার তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পাঁচটি গ্রাম, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং একটি ক্লিনিক ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।

লালমনিরহাটের ধরলা নদীর পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙনের প্রকোপ। নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। এ ভাঙনের হুমকির মুখে এখন দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাত্র ৪০ ফুট অংশ ভাঙলেই তিস্তায় তলিয়ে যাবে বিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙন আতঙ্কে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন বলেন, নদী ভাঙন বিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পাশের শিবদেব কমিউনিটি ক্লিনিকটিও বিলীন হবে।

আবদুর রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি বছর নদী পাড়ের লোকজনদের নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ছাওলার ১০ নং বোল্ডারের পাড় থেকে আরো তিন কিলোমিটার বোল্ডার দিয়ে বাধঁ নির্মাণ করে নদী শাসন করলে গ্রামগুলো রক্ষা হতো। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে ১নং ও ২নং বেড়ি বাধঁ নির্মাণ করলেও বাঁধের পূর্ব পাড়ের গ্রামগুলো বন্যা ও নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, এ অঞ্চলে পাঁচ বছরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যার কারণে সদ্য রোপনকৃত আউশ ধান ও আমন বীজতলাসহ প্রায় ১৫ হেক্টর জমির রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
 
ডেইলি বাংলাদেশ/আর.এইচ