Alexa ‘নদী আইন ও আদালত গঠন জরুরি’

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

‘নদী আইন ও আদালত গঠন জরুরি’

ইকবাল কবীর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ১৪ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২২:৪২ ১৪ মার্চ ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, স্বতন্ত্র নদী আইন ও নদী আদালত গঠন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই এর উপযুক্ত সময়। আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়ে তিনি গত দেড় দশক বাংলাদেশের নদী বাঁচানোর আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ: কত সাল থেকে আপনি নদী বাঁচাও আন্দোলন শুরু করেন?

অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন: আমি ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশের নদ-নদী বাঁচানোর আন্দোলন শুরু করি। প্রথম অবস্থায় তেমন সাড়া পাইনি। পরে আস্তে আস্তে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আন্দোলনে শরিক হতে শুরু করে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: এ আন্দোলনে আপনাদের সফলতা কতটুকু?

অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন: আমাদের একশভাগ সফলতা এখনো অর্জিত না হলেও হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে আমাদের সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও আন্দোলনের সফলতা অর্জিত হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা ২০০৫ সালে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন প্রতিষ্ঠার চার বছর পরই ২০০৯ সালে তুরাগ নদ রক্ষা চেয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা একটি রিট করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ঢাকার চারপাশের নদীগুলো রক্ষা করতে একটি ঐতিহাসিক রায় দেন এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠিত হয়। যদিও নদী রক্ষা কমিশন উপদেশমূলক নির্দেশনা দেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো ক্ষমতা নেই। আদালতের রায় অনুযায়ী, আমরা চাই দেশের সব নদ-নদীর কর্তৃত্ব নদী কমিশনের অধীনেই থাকতে হবে। আমরা এ রায় বাস্তবায়নের জন্য সারা দেশে নদী বাঁচাও আন্দোলনে সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হই। ৫৪টি জেলায় বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর তুরাগ নদের তীরে ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন করি এবং ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি  চিলাই নদীর তীরে ২৩ কিলোমিটার, ২০১৭ সালের ৩ মার্চ ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ২৮ কিলোমিটার মানববন্ধন করি। এছাড়া একই বছর ১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর তিন দিন বুড়িগঙ্গায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সারাদেশে একযোগে নদী বাঁচাতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করি। 

ডেইলি বাংলাদেশ: হাইকোর্টের রায় এর  বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে বলবেন কি?

অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন: গত ৩০ জানুয়ারি ও ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ে তুরাগ নদকে জীবন সত্তা হিসেবে রায় দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ঢাকার চার পাশের সব নদী অবৈধ দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ রায় যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক। এর মাধ্যমে শুধু তুরাগই নয়, আমরা মনে করি নদীকে জীবন সত্তা হিসেবে সারা বাংলাদেশের সব নদ-নদীকেই বোঝানো হয়েছে। এ রায়ের পর থেকেই সরকার নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: রায়ে উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা কি আছে?

অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন: নদীকে জীবন সত্তা হিসেবে ঘোষণা এবং উল্লেখযোগ্য নির্দেশনাগুলো হচ্ছে, সারা দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করা, দখলদারদের ব্যাংক লোন পাওয়া ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াতে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা, নদী দখলকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সাজা ও জরিমানা ব্যবস্থা করা, নদ-নদীর পাশে কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নদী রক্ষা কমিশন থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সব নদ-নদীর ভৌগোলিক অবস্হান নির্ণয় করা, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শ্রেণিতে প্রতি দুই মাসে এক ঘণ্টার জন্য নদ-নদী বিষয়ক পাঠদানের ব্যবস্থা করা ও ছোট-বড় সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অংশগ্রহণে দুই মাসে অন্তত একঘণ্টার নদী বিষয়ক বৈঠক করার নির্দেশনা রয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: হাইকোর্টের আদেশের পর আপনারা এখন আর কি দাবি করছেন?

অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন: আমারা চাই সরকার শুধু আদেশই নয়, রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তাও বাস্তবায়ন করা হোক। আমি মনে করি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই পারবেন হাইকোর্টের রায় ও পর্যবেক্ষণ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদ-নদী থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে কাজ শুরু করেছেন। তিনি নিজে বলেছেন, নদী ধ্বংস করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। নদী দখলমুক্ত রাখতে তীরের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ না পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। কিন্তু স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে হলে স্বতন্ত্র নদী আইন ও নদী আদালত গঠন করা না হলে আদালতের আদেশ যেমন বাস্তবায়ন হবে না, তেমনি নদীর দখলদারিত্বও বন্ধ করা যাবে না। তাই আমরা মনে করি, একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই পারবেন আগামী প্রজন্মকে একটি নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ধরে রেখে পরিবেশ রক্ষায় স্মরণীয় করে রাখতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকে/আরএইচ/এস/জেডআর