নদীর বুকে সরিষা ফুলের হাসি

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

নদীর বুকে সরিষা ফুলের হাসি

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ২১:১৬ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:১৬ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরের নকলা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, ভোগাই, বলেশ্বর, মৃগী, সুতি ও দশানি নদীর বুকে বিভিন্ন স্থানে চলছে চাষাবাদ।

বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রতিটি নদীর বুকে বোরো ধানের বীজতলা, আলু, সরিষা, কপি, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ শীতাকলীন শাক সবজি, কালাই ও বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়ে আসছে। বিশেষ করে এবার নদীতে ভেসে উঠা চরে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি নদীর চরে সরিষার হলুদ ফুলের হাসি সবার নজর কাড়ছে।

নদীগুলো ড্রেজিং না করায় নদীর প্রস্ত ও গভীরতা কমে সমতল হওয়ার পথে। বর্ষা মৌসুমে পলি ও বালু পড়ে বর্তমানে প্রায় সব কয়টি নদী ভরাট হয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। তাই নদীতে জেগে উঠা চরে চলছে চাষাবাদ, এমনটাই বললেন ব্রহ্মপুত্র, ভোগাই, বলেশ্বর, মৃগী, সুতি ও দশানি নদীতে বিভিন্ন ফসলের চাষিরা।

চাষিরা বলেন, নদীতে বর্ষা মৌসুমে পানি থাকলেও খড়ার সময়ে পানি থাকে না বললেই চলে। তখন নদীর প্রশস্ততা কমে একটি ছোট খালের আকার ধারন করে। নদীর পাড়ে তাদের বাড়ি হওয়ায় নদীর বুকে তারা বিভিন্ন শাক সবজিসহ নানা ফসল আবাদ করেন। পলি জমে সমতল হওয়ায় এখানে তেমন কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না।

এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ ও কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি বলেন, নদীর বুকের পলি মাটিকে ব্যবহার করে অল্প ব্যয়ে বিভিন্ন শাক সবজি চাষ করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, এবছর উপজেলায় এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে নদীর চর ও বিলপাড় এলাকায় সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। নদীর বুকে শীত কালীন শাক সবজি, সরিষা ও কালাই চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। তবে নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ ও জলজ প্রাণি। তাই নকলা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নদী গুলো খনন করা উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ