নদীর পেটে অর্ধশত বসতবাড়ি, থামছে না ভাঙন

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৯ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নদীর পেটে অর্ধশত বসতবাড়ি, থামছে না ভাঙন

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:৩৯ ৩০ জুন ২০২০  

ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউপির পূর্ব কুমুল্লী-নকিববাড়ী গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকা। (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউপির পূর্ব কুমুল্লী-নকিববাড়ী গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকা। (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

গত কয়েকদিনের বর্ষণ আর কালিগঙ্গা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মানিকগঞ্জের ঘিওরে ক্রমেই নদীর তীরে দীর্ঘ হচ্ছে ভিটেমাটি হারা মানুষের সারি। আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে কালিগঙ্গার তীর।

অসহায় মানুষদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত সহযোগিতার জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। এখন নিয়তির উপর নিজেদের ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। 

এরমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশত বসতবাড়ি, প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, মসজিদ, মাদরাসা ও ঈদগাহ মাঠ। এছাড়াও ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক বসতবাড়ি, একটি বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, এতিমখানা, একটি ব্রিজ, বাজার, রাস্তাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বানিয়াজুরি ইউপির পূর্ব কুমুল্লী, কেল্লা, নকিববাড়ী, জাবরা, তরা, উত্তর তরা এলাকার মানুষজনের দিন কাটে ভাঙনের শব্দ শুনে। ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় বিপদ বাড়ছে নদীর পাড়ের মানুষের। চলতি বর্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে প্রায় ১০-১২টি গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

পূর্ব কুমুল্লীর প্রফেসর শরীফ উদ্দিন জানান, গত দুই বছরে আমার বাবা, চাচার ১২ বিঘা বসতবাড়ি মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ সবটুকুই গেছে নদীর পেটে। আক্ষেপের সুরে বলেন, ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও অন্তত ভিটেমাটিটুকু অবশিষ্ট থাকে কিন্তু নদীর ভাঙনে সবকিছু শেষ হয়ে যায়।

নকীব বাড়ি গ্রামের মো. রেজাউল করিম জানান, সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি বাড়ির উঠানের অর্ধেক ভেঙে নদীতে গেছে। বিকেল গড়াতেই ঘরে ফাটল দেখা দেয়। রাতের অন্ধকারেই ঘর সরিয়ে নিতে হয় অন্যত্র। পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে।

ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউপির পূর্ব কুমুল্লী-নকিববাড়ী গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকা। (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)বানিয়াজুরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চতু বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা গত বছর ইউএনও বরাবর জমা দেয়া হয়েছে। চলতি বছরও নদী ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষগুলো অসহায় হয়ে পড়ছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঘিওরে এরমধ্যে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, কালিগঙ্গা নদীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার কাজ শুরু হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম