Alexa নতুন চুল গজানোর কিছু সহজ উপায়

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

নতুন চুল গজানোর কিছু সহজ উপায়

নুসরাত জাহান মীম ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ০৬:১২ ১১ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৬:৩৬ ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মেয়েদের কোন সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করলেই এখন সবার আগে চলে আসে চুল পড়ার সমস্যা। কম কিংবা বেশি এই সমস্যা প্রায় প্রত্যেকের। চুল রুক্ষ ও নির্জীব পরে সেই থেকে চুল পড়ে যাওয়া। অবশ্য আমাদের দেশে চুল পড়ার প্রধান কারণ এদেশে আবহাওয়া আর অযত্ন অবহেলা তো আছেই। মোটা ঘন চুল কে না চায়!

কিন্তু যেভাবে চুল পড়ছে সে অনুপাতে চুল না গজালেই ব্যাপারটা বেশ চিন্তার। অযত্ন অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে আস্তে আস্তে টাক হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তবে আমরা যদি একটু সচেতন আর যত্ন নেই তবে পরিশ্রম ছাড়াই ঘন এবং আগের মতো চুল ফিরে পাওয়া সম্ভব।

তবে জেনে নেয়া যাক চুলের যত্ন ও চুল গজানোর কিছু কার্যকরী উপায়-

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী
আমরা সবাই কম বেশি জানি রূপচর্চায় অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। এলোভেরায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা চুল গজাতে খুবই কার্যকর। এর রস চুলের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অ্যালোভেরার মধ্যে যে জেল জাতীয় পদার্থ থাকে এটি চুলের যত্নে ব্যা বহৃত হয়। নতুন চুল গজানোর জন্য অ্যালোভেরা জেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো ভাবে লাগাতে হবে ১ ঘণ্টা রাখার পরে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

শ্যাম্পু ব্যবহারে সাবধানতা
প্রতিদিন বাইরে নোংরা ধুলাবালির জন্য আমাদের শ্যাম্পু করতে হয়। এই শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন হতে হবে। অনেক সময় শ্যাম্পু নির্বাচন ভুল হওয়ার জন্য আমাদের চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ এবং নির্জীব। যার কারণে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই আমাদের চুলের জন্য যেটা সঠিক সেই শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিৎ। সব ধরনের শ্যা ম্পু সব রকম চুলের জন্য পারফেক্ট নয় তাই নিজের চুলের জন্য আপনার মানানসই শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হবে। আর সেই অনুযায়ী নিয়ম মেনে যদি শ্যাম্পু করা হয় তবে চুল পড়া কমে যাবে এবং নতুন চুল গজাবে।

আমলকী দৈনন্দিন খাবার অভ্যাস
আমলকি চুলের যত্নের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। এটি চুলকে গড়ে তোলে গোড়া থেকে শক্ত এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনি যদি আপনার খাদ্যতালিকায় দৈনিক আমলকি রাখেন তা আপনাকে ভেতর থেকে তো চুল গজাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি আপনি সপ্তাহে একবার আমলকির রস চুলের গোড়ায় ভালো মতো ম্যাসাজ করতে পারেন। তারপর ১ ঘণ্টা রেখে ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ম্যাসেজ তেল নিয়মিত ব্যবহার
অনেক মেয়েরাই চুলে তেল লাগায় না। চুলে তেল লাগানো কে ঝামেলাও মনে করে। কিন্তু সপ্তাহে অন্তত তিনবার আপনার চুলে যদি গরম তেল ম্যাসাজ করেন তবে তা আপনার চুলকে করে তুলবে স্বাস্থ্যকর। এক্ষেত্রে আপনি আপনার চুল গজানো এবং চুলের বৃদ্ধির জন্য নারিকেল তেল, জলপাই তেল, বাদাম তেল, তিলের তেল, ক্যাস্টর অয়েল বিভিন্ন তেল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনি অনেক উপকার পাবেন পাশাপাশি এসব তেল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

রাসায়নিক থেকে দূরে থাকুন
রাসায়নিক দ্রব্য চুল ও ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অনেক সময় আমরা চুলে নানা ধরনের ডিজাইন করে বিভিন্ন রাসায়নিক কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকি যা চুল একেবারে দুর্বল করে দেয়। এর মধ্যে চুলে রং করা, রাসায়নিক স্প্রে দ্বারা চুল সোজা করা, কার্ল করা ইত্যাদি চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসব চুল গোড়া থেকে নরম ও দুর্বল করে দেয় তাই আমাদের সব রাসায়নিক দ্রব্য থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক ভাবেই করতে হবে।

উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ
প্রচন্ড মানসিক চাপের প্রভাব যেমন আপনার চেহারার উপর প্রভাব ফেলে। তেমনি এটি আপনার চুলের জন্যও ক্ষতিকর। সবসময় নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানসিক চাপের প্রভাবে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য পার্থক্য দেখা যায়। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ বেড়ে গেলে আমাদের তখন ত্বক এবং চুল রুক্ষ শুষ্ক হয়ে যায়। তাই দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। সময় আনন্দের মধ্যে থাকতে হবে। যাতে চুল না পরে আর পড়লেও যাতে নতুন চুল গজায় সে ব্যা পারে সচেতন হতে হবে। মন ভাল না থাকলে তখন সেটা শরীরের উপর প্রভাব ফেলে।

প্রোটিন খাদ্য অভ্যাস
সঠিকভাবে খাদ্যগ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর খাবার চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় প্রোটিন এবং ভভিটামি এ, বি, সি ও সুষম খাদ্য রাখুন। চুলের গোড়ায় প্রোটিন গেলে দূরত্ব চুল বৃদ্ধি হয় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। ভিটামিন জাতীয় খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন সি যেমন-পালংশাক চুলের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন সি চুলের গোড়া থেকে শক্ত করে এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। ভিটামিন এ ও সি এর অভাবে চুলের বৃদ্ধি যেমন বাধাপ্রাপ্ত হয় তেমনি চুলের গোড়াও দুর্বল হয়ে যায়। পাতলা চুলের বৃদ্ধি খুব ধীরগতিতে হয় তাই আপনার খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

গাজর
গাজরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ। ভিটামিন এ মাথার স্কাল্পকে করে তোলে স্বাস্থ্যকর করে। ভিটামিনের কারণেই চুল দেখতে উজ্জ্বল লাগে। তাই গাজর চুলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাজর সিরাম দ্রুত চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনি চুল গজানোর জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস খেতে পারেন। এতে ভেতর থেকে চুল গজাতে সাহায্য করবে।

পাকা টমেটো
টমেটো আমরা সবজি হিসেবে অনেকেই খেয়ে থাকি। তবে চুলের ক্ষেত্রে যে এর ভূমিনা রয়েছে তা অনেকের ই অজানা। টমেটোতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে সমৃদ্ধ, যা আমাদের মাথার স্কাল্পের রক্ত সঞ্চালন কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয়। এর কারণে চুলের গোড়ায় ফলিকল স্টিমুলেট হয়। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় টমেটো রাখতে পারেন। অথবা পাকা টমেটোর জুস বানিয়ে খেলেও অনেকে উপকার পাবেন।

কিউই
কিউই এই ফলটি বিদেশী বলে অনেকের কাছেই অজানা। ফলটিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ভিটামিন সি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলের গোড়া থেকে মজবুত করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। দ্রুত চুল গজানোর জন্য আপনি প্রতিদিন কিউই জুস করে খেতে পারেন।

শসা
শসাতে সিলিকা প্রচুর পরিমাণ সমৃদ্ধ এবং আরো রয়েছে এতে সালফার এবং ভিটামিন এ। ভিটামিন এ এবং সালফার চুলের বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকর। এবং পাশাপাশি এই উপাদান চুল পড়া বন্ধ করে। প্রতিদিন এক গ্লাস কাঁচা শসার জুস স্বাস্থ্যকর এবং আপনার চুল গজাতেও সাহায্য করবে। শসা মেদ কমাতেও সাহায্য করে। জুস খেতে খারাপ লাগলে খোসাসহ কচি শসা খেতে পারেন এতে নতুন চুল গজাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ