নতুন অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি গবেষক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নতুন অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি গবেষক

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪২ ২৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৯ ২৭ মে ২০২০

ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন

ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন

পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পলিকীট আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৩০টি প্রজাতির তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় যোগ হয়েছে আরেকটি নতুন অমেরুদণ্ডী প্রাণী। নোয়াখালীর হাতিয়া উপকূলের জলাভূমিতে নতুন প্রজাতির এই পলিকীটের সন্ধান পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

বাংলাদেশি এই গবেষকের সাফল্য যাত্রায় সঙ্গী হিসেবে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পলিকীট বিজ্ঞানী ড. প্যাট হ্যাচিংস। পলিকীটের নতুন এই প্রজাতি সাধারণত লোনা কর্দমাক্ত জলাশয়ের তলদেশের মাটিতে বসবাস করে এবং মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সদ্য আবিষ্কৃত ৪২ মি.মি. দৈর্ঘ্যের পলিকীট সর্বমোট ১৫৮টি ভাগে বিভক্ত। এদের দেহের মধ্যভাগে দুই দশমিক দুই মি.মি. প্রস্থ। এই ক্ষুদ্রাকৃতি প্রাণীর অন্যতম শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো, এনিলিডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র এই পলিকীট নলাকৃতি ও হালকা গোলাপি বর্ণের। সবচেয়ে ভিন্ন বিষয় হলো, এই পলিকীটের কোনো চোখ নেই।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপকূলের জলাভূমিতে নতুন প্রজাতির পলিকীটের সন্ধান মিলেছে

নতুন এই পলিকীটে একটি ঘণ্টাকৃতির দীর্ঘায়িত চোষক মুখ রয়েছে। যা নলাকার, নমনীয় ও প্যাপিলা দ্বারা আবৃত। চোষকের প্রান্তিক অংশে চারটি কালো হুকের মতো চোয়াল রয়েছে। চোষকে তিন ধরনের প্যাপিলা থাকে। চোষকের দুই জোড়া চোয়াল শক্ত ত্রিকোণাকৃতির এই লেরনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এছাড়া দেহের মাঝখানে সমান অঙ্গুালাকৃতির লোব আছে।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে তিনি এর নামকরণ করেছেন ‘গ্লাইসেরা শেখমুজিবি’ (Glycera sheikhmujibi)। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গৌরবময় ভূমিকা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য অবদান চির স্মরণীয় করে রাখতে এই নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক ড. বেলাল।

‘গ্লাইসেরা শেখমুজিবি’ (Glycera sheikhmujibi) প্রজাতিটি বঙ্গোপসাগরে বসবাসকারী গ্লাইসেরার ১১টি প্রজাতির একটি এবং বাংলাদেশের উপকূলের দ্বিতীয় আবিষ্কৃত প্রজাতি। এটি সংগ্রহ করা হয় হাতিয়ার নিকটবর্তী মেঘনা নদীর মোহনা থেকে। খাদ্যচক্রে এদের গুরুত্ব অনেক। এরা মাটিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন আদান-প্রদান করে তলদেশের উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গ্লাইসেরা শেখমুজিবি আবিষ্কারের আগে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে নেফটাইস বাংলাদেশি (Nephtys bangladeshi), নিউমানিয়া নোবিপ্রবিয়া (Neumania nobiprobia) ও অ্যারেনুরাস স্মিটি (Arrenurus smiti) এবং ব্রুনাইয়ের সমুদ্র এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়োপিসা ব্রুনেইয়েনসিস (Victoriopisa bruneiensis) নামে আরো চারটি নতুন অমেরুদণ্ডী প্রজাতি আবিষ্কার করেন ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে