নতুনত্বে চকরিয়া ভূমি অফিস

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নতুনত্বে চকরিয়া ভূমি অফিস

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০৮ ১১ জুন ২০১৯   আপডেট: ১২:১০ ১১ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢুকার পথেই নানা জাতের ফুল আর বিভিন্ন গাছগাছালি পরিপূর্ণ বাগান। গাছগুলো হয়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য। বিভিন্ন জাতের পাখির কলতানে মুখর থাকে পুরো বাগান। এর ডান পাশেই টিনের ছাউনী দিয়ে তৈরি করা গোল ঘর। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘ছায়াবীথি’। একটু পরেই সেমিপাকা, সুন্দর-সুসজ্জিত ছয় কক্ষের একটি ঘর। ঘরটির বাইরে রাখা হয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। এটি কোনো পার্ক নয়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের চিত্র।

ভূমি অফিসের বাইরের দেয়ালে লেখা হয়েছে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্তসহ বিভিন্ন স্লোগান। কেবল বাইরের রূপ বদলই নয়, এখানে ভূমি সংক্রান্ত প্রাথমিক ধারণা লাভের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোনো কর্মকর্তা হাজির হয়ে মানুষদের জমিজমা সংক্রান্ত প্রাথমিক ধারণা দেন। নতুন সেবার সুবাদে চকরিয়া ভূমি অফিস এখন সেবাগ্রহীতাদের কাছে নির্ভরযোগ্য স্থান।

চকরিয়া ভূমি অফিসের বদলে যাওয়ার অন্যতম কারিগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত। অথচ বছর দুয়েক আগেও চকরিয়া ভূমি অফিসের চিত্র ছিল আর দশটা কার্যালয়ের মতোই। আগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শত চেষ্টা করেও পাল্টাতে পারেননি অফিসের চিত্র। অফিস ছিল ‘অনিয়মে ভরপুর’।

খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সেই চিত্রটা বদলে গেছে। বদলে গেছে ভূমি ব্যবস্থাপনার দৃশ্যপট। কাজ শুরুর দিনই কর্মস্থলকে ‘দালালমুক্ত অফিস’ হিসেবে ঘোষণা দেন তিনি।

মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বন্ধে নতুন নিয়ম চালু করেন। আবেদনকারী নিজে ভূমি অফিসে এসে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করতে হবে। কমিশনারের কাছেই জানা যাচ্ছে মামলা সংক্রান্ত বিষয়াদি।

পুরো ভূমি অফিসটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। এতে যুক্ত রয়েছে রেকর্ড রুমসহ সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কক্ষও। এর আগে রেকর্ড রুমের নথি খোঁজা দীর্ঘসূত্রতা। একটি নথি পেতে তিন-চার দিন লেগে যেত। এখন বছর ও কেস নাম্বার অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এসব নথির ফাইল। তৈরি হয়েছে রেকর্ড রুম ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। তাই মুহূর্তেই পাওয়া যায় যে কোনো নথি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বছরে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউপির অর্ধশতাধিক ভূমিহীন পরিবারে কাছে জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। আগামী মাসে আরো অর্ধশতাধিক ভূমিহীন পরিবারের কাছে জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে। এছাড়া আগে ভূমি অফিসের সব কার্যক্রম হাতে-কলমে করা হতো। এখন প্রতিটি কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। নামজারী খতিয়ানের জন্য আবেদনের পরপরই সেবাগ্রহীতাদের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মেসেজ চলে যাচ্ছে। খতিয়ান সৃজনে সরকারি ফি বাবদ ১১৫০ টাকা জমা দিতে হয়। এর বাইরে সেবা গ্রহীতাদের আর কোনো টাকার দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

ভূমি অফিসে আসা ৮০ বছরের ছালামত উল্লাহ বলেন, আগে আমাদের একটি নামজারী খতিয়ান করতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। মাসের পর মাস খতিয়ানের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন সে কষ্ট লাগব হয়েছে। কাগজ ঠিক থাকলে সপ্তাহের মধ্য খতিয়ান পেয়ে যাচ্ছি। সরকারি ফি ছাড়া কাউকে ঘুষ দিতে হয়না।   

এই কার্যালয়ের অফিস সহকারী মিলন কান্তি বড়ুয়া বলেন, আরাফাত স্যার যোগ দেয়ার পর সেবা গ্রহীতাদের জন্য একটি গোলঘর, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থাসহ পুরো অফিসকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আমরাও কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি।

ডুলাহাজারা কলেজের অধ্যাপক সেন্টু কুমার চৌধুরী বলেন, ‘এসিল্যান্ডের মতো যারা সেবাদাতা রয়েছে, তারা যদি সচেতন হন, শুধু ভূমি অফিস না, পুরো উপজেলাকে পাল্টে দেয়া সম্ভব। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্টা করা একা কারো পক্ষে সম্ভব না।

চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত বলেন, ‘সত্যি বলতে দুর্নীতিমুক্ত অফিস গড়ার কাজটা মোটেও সহজ নয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কর্মচারীদের বোঝানো, দালালমুক্ত করা। খুবই কঠিন একটি কাজ।

তিনি বলেন, ভূমি অফিসে বিভিন্ন সেবা সহজীকরণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। শতভাগ নামজারী অনলাইনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এসব খতিয়ান সৃজন খুব আন্তরিকতা ও দ্রুততার সঙ্গে করতে ‘ ভূমি সেবা চকরিয়া’ নামে একটি অ্যাপস চালু করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সাময়িক কষ্ট হলেও অবশ্য এখন জনগণকে উপযুক্ত সেবা দিতে পারছি। স্টাফরাও সহযোগিতা করছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষার দায়িত্ব কিছুটা সেবা গ্রহীতাদেরও। তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ