Alexa নগ্ন ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেফতার!

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

নগ্ন ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেফতার!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৪ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:০৮ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অশ্বিনী কুমার বর্মণ। ছবি: সংগৃহীত

অশ্বিনী কুমার বর্মণ। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘরে আটকে রেখে গৃহবধূর নগ্ন ছবি ধারণ করে চাঁদা দাবি ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শাসলাপিয়ালা গ্রাম থেকে অশ্বিনী কুমার বর্মণ (৩২) কে আটক করে সদর থানা-পুলিশ। তিনি ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও মৃত-বিজয় কুমার বর্মণের ছেলে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অশ্বিনী কুমারকে আটক করা হয়েছে। 

গৃহবধূর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০ দিন আগে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের নারায়ণ চন্দ্র বর্মণের ছেলে জীবন চন্দ্র বর্মণ (২৬) ওই গৃহবধূকে ভুল বুঝিয়ে শহরে তার এক বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রেখে জীবন ও অশ্বিনী কুমার তার গলায় ছুরি ঠেকায়। তার কাপড় খুলে নগ্ন করে ছবি ধারণ করে এবং গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

আরো জানা যায়, এ সময় একই এলাকার বিলাতু (৪০) ও রাজেন্দ্র (৪০) নামের দুই ব্যক্তি বাড়ি পাহারা দেয়। এক সময় জীবন ও অশ্বিনী গৃহবধূকে ধর্ষণের জন্য উদ্যত হলে গৃহবধূর চিৎকারে তারা ব্যর্থ হয়।

পরে জীবন ও অশ্বিনী মটরসাইকেলে করে গৃহবধূকে তার স্বামীর বাড়ির পাশে নামিয়ে দেয়। সে সময় তারা বলেন, তোমার স্বামীর কাছ থেকে আমাদের এক লাখ টাকা না দিলে এই ভিডিও আমরা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো। এদিকে লোকলজ্জার ভয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকেও এ ঘটনা জানাননি।

পরে গেল ২৫ আগস্ট বিকেলে গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার বাসায় এসে ইউপি সদস্য অশ্বিনী কুমার আবারো তার কাছে অশ্লীল ছবির বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় সেই গৃহবধূ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাৎক্ষণিক তাকে ২০ হাজার টাকা দেন। সে সময় আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকী আশি হাজার টাকা না দিলে এবং তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক না করলে অশ্লীল ভিডিওগুলি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন।

এ ঘটনায় বিচলিত হয়ে ওই গৃহবধূ সমস্ত ঘটনা তার স্বামীকে জানান। পরে তার স্বামী বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জানালে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্তরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে আবারও হুমকি দিয়ে বলে আমরা এটা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিব, তোমাদের কিছু করার থাকলে করো।

পরে উপায় না পেয়ে ওই গৃহবধূ ন্যায় বিচারের আশায় চারজনের নাম উলে­খ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের পর অশ্বিনী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর