নগ্ন অবস্থায় নির্যাতন করা হতো মিলাকে!

ঢাকা, শনিবার   ২৫ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৬,   ১৯ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

স্বামীর নির্যাতনের কথা প্রকাশ করলেন মিলা 

নগ্ন অবস্থায় নির্যাতন করা হতো মিলাকে!

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৫ ১৮ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৬ ১৮ এপ্রিল ২০১৯

মিলা

মিলা

দীর্ঘদিন বিয়ে, বিচ্ছেদসহ ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে আড়ালে ছিলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পপ গায়িকা মিলা। আড়াল থেকে বের হয়ে সরাসরি গানে ফিরেছেন তিনি। গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, টাংগাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত কনসার্টে গাইছেন তিনি। বেশ কয়েক জায়গায় বৈশাখের অনুষ্ঠানেও গান গেয়েছেন। সম্প্রতি মিলা তার ভেড়িফাইড ফেসবুক পেইজে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, নগ্ন অবস্থায় বাথরুম থেকে বের করে নির্যাতনের কথা।

ফেসবুক পেইজে অভিযোগ করে মিলা লিখেন, কত কত জীবিত ‘নুসরাত’ আইন এর কাছে দাঁড়ান দিনের পর দিন...কিন্তু না মেরে ফেলা পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো আওয়াজ উঠবে না.. আইন দেশের সুন্দর..দুই বছর হয়ে যাচ্ছে.. কোর্ট এ উল্টা জঘন্যভাবে চিৎকার দিয়ে অপবাদ দেয়া হয় আমাকে.. বিচার তো দূর...দাখিল করা ‘খ’ ধারার চার্জশিট আমাকে না বুঝতে দিয়ে ‘গ’ ধারায় মামলা চার্জ গঠন করা হয়...


 
আক্ষেপ নিয়ে মিলা লিখেছেন, আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে.. আমার জানা ছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কোনো রকমের হস্তক্ষেপে নেত্রীর কঠোর নিষেধ রয়েছে। তিন বার আদালতের আদেশ টানা অমান্য করলে জামিন বাতিল হবার কথা..পাঁচবার আমাকে কোর্ট নানান বুঝ দিয়ে পার্মানেন্ট জামিন দেয়। আমি এখন বলতেও পারি নাই শেষের দিন আমার শাশুড়ি, আমার স্বামীর কথায় আমাকে কিভাবে বাথরুম থেকে দরজা ভেঙে বিনা কাপড় পরিহিত অবস্থায় জঘন্যভাবে টেনে আমার দেবর তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রীর বাবা মায়ের সামনে এক ঘন্টা গালিগালাজ করতে থাকে।  

তিনি আরো লেখেন, আমার বাবা ভাইবারে ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরাটা ঘটনা দেখে। এক পর্যায়ে আমি হাত জোড় করে ভিক্ষা চাই এই বলে, আম্মু আমাকে মেয়ে বলে নিয়ে আসছিলেন, আমার গায়ে কাপড় নাই, দয়া করে আমাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে যা বলার বলেন। কিন্তু এই অপমান করেন না। ভিডিও টা এখনো আমার কাছে। 

দেশের শিল্পী আমি?  আজকে এই টাও বলে ফেললাম। এর চাইতে কাপড় পড়া অবস্থায় আমার গায়ে আগুন দিয়ে দিত! আমি যাই বললাম তাতে পুরা মিডিয়া, শিল্পীরা, আমার ভক্তরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথা। কাপড় ছাড়া ঐ ছেলেকে রাস্তায় নামিয়ে জুতার দিয়ে মারার কথা, তাইনা? আমার এই পোস্টটাই তো সবার শেয়ার করার কথা তাইনা? কেও করবে নাহ্‌! কেও না করার কারন আমি বেঁচে আছি। এই মিলা কেন এখনো প্রতিদিন চিৎকার করে কাঁদে উত্তর পাও তোমরা?

মিলা আরো উল্লেখ করেন,  আমি দেশের জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী? এখনো আজকেও বার বার ‘ইউএস বাংলার’ র এমডিকে কল দিয়েছি, কথা বলতে চেয়েছি। কেন আমার ন্যায্য বিচার তারা তাদের ক্ষমতা দিয়ে আটকে রেখে ওই কুলাঙ্গারকে চাকরিতে রাখছেন? কীভাবে আমার উপর এত অন্যায়ের পর ইউএস বাংলার ক্রেবিন ক্রুর সঙ্গে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ওই জঘন্য ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরও এই ছেলেকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে ইউএস বাংলা এমডি সবাইকে বলে বেড়ান যে ‘দ্যাট ইন এনি কষ্ট’ এই মেয়েকে জিততে দিবো না।

দেশের নাগরিক হিসেবে আজকে এই বলব, ওই ছেলের বিচার চাই আমি তাইলে ইউএস বাংলা আরো দুইজন পাইলট যারা আমাকে রাস্তায় রাস্তার অপদস্থ করে নোংরা কথা বলে তাদের নাম রেজওয়ান আহমেদ খান  ও সামস রেজওয়ান । তারা শুধু আমাকে না বরং আমার বাবাকে নিয়েও প্রকাশ্যে গালি দেয়া.. উল্টা দিকে এরা আমাকে আইসিটি এসিটি’র হুমকি দিতে থাকে।

মিলা এর যথাযথ বিচার দাবি করে লেখেন, আমি ইউএস বাংলার এই তিন জনের বিচার চাই। আমি আমার দেশ ও দেশের সরকার এর কাছে আমার ভেঙে দেয়া মেরুদণ্ড ফিরে চাই। ফাইলের উপর ফাইল করা সকল প্রমাণ আমার কাছে জমা। কিন্তু বাকীদের বিচার কই চাইব? 

মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে ওই স্ট্যাটাসে এই কণ্ঠশিল্পী আরো লিখেছেন, ওই ছেলে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য বিভিন্ন বিদেশি এয়ার লাইনে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার আবেদন আমার নেত্রীর কাছে, আমার অপরাধী যাতে পালাতে না পারে। আমার মামলাটি দয়া করে আবারো সঠিক ধারায় চার্জ গঠন করার আর্জি জানাই। গত দশ দিন আগে আমি ওই ছেলেকে হাতে নাতে পতিতা নিয়ে ধরলে ওই ছেলে আমাকে ‘গুলি করে হত্যা করে সেলফ ডিফেন্স বলে প্রমাণ করে দিবে’ বলে আমাকে আর আমার বাবাকে এসএমএস করে। গুলি খাওয়ার আগে বিচার চাই, বিচার চাই, আমি বিচার চাই। 
ইতি - 
এক জন জীবিত নুসরাত

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১২ মে হঠাৎ করেই পারিবারিকভাবে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন মিলা ইসলাম ও বৈমানিক পারভেজ সানজারি। বিয়ের প্রায় ১০ বছর আগে থেকেই তাদের পরিচয় ও প্রেম ছিল। বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে মিলা মামলা করেন স্বামী পারভেজ সানজারির বিরুদ্ধে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/টিএএস

Best Electronics