নখের রাণীরা!

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১৩ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

নখের রাণীরা!

 প্রকাশিত: ১৮:৪১ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:৪১ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মারিয়া অর্টিজ

মারিয়া অর্টিজ

নারীর ফ্যাশনে বড় নখের জনপ্রিয়তা বহু কাল আগে থেকেই। বর্তমান সময়ে বড় নখের উপর বিভিন্ন আঁকিবুকিতে নখের সৌন্দর্য্য দ্বিগুণ বাড়ানো হয়। আর এজন্য অনেকেই বড় ফলস নখ পড়েন আবার দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেকে বহু যত্নে হাতের নখ বড় করেন। তবে আপনি কি শুনেছেন নখ ফ্যাশনে কেউ কেউ আবার এখন নয় ইঞ্চি পরিমাণ নখ লম্বা করছেন! অবাক হচ্ছেন! নিউ জার্সির নেয়ার্ক শহরে মারিয়া অর্টিজের ‘জেইন ই্উনিসেক্স বিউটি স্যালুন’ নামক নখের স্যালনে এমন নখ ফ্যাশন প্রেমীরা প্রতিদিন জড়ো হন। সেখানে তারা দৈনন্দিন জীবন ও বড় নখ নিয়ে জীবন-যাপনের আনন্দ, পরীক্ষা এবং কষ্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।

নখ টেকনিশিয়ান হিসেবে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেই মারিয়া তার স্যালুনের কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি নখ বিষয়ক বিশেষ সহায়তা প্রদান করেন তার স্যালুনে। এরপর একেক করে বড় নখওয়ালা নারীরা ভিড় জমাতে থাকেন তার স্যালুনে। এরপর মারিয়া সেসব নারীদের নিয়ে একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন। মারিয়ার একেক জন ক্লায়েন্টের হাতের নখ কমপক্ষে আট ইঞ্চি লম্বা। তার এসব ক্লায়েন্টরা মাসে একবার ম্যানিকিউর করাতে আসেন মারিয়ার স্যালুনে। প্রত্যেকের নখ ম্যানিকিউর করে ডিজাইন করতে মারিয়ার কমপক্ষে সাত ঘন্টা সময় লাগে। আর এ পরিসেবার জন্য মারিয়া জন প্রতি ১০০ ডলার করে নেন।

মারিয়া একজন ট্রান্সজেন্ডার হওয়া স্বত্ত্বেও বিশ্বে নিজের অবস্থান ঠিক করতে লড়াই করে চলেছেন। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে তার এসব নখওয়ালা বোনেরা। যারা প্রকৃতপক্ষে মারিয়াকে ভালবাসে। এ বিষয়ে ৪২ বছর বয়সী মারিয়া 'বারক্রফট টিভি'কে বলেন, আমরা কোন দল নয় বরং একটি ছোট কমিউনিটি। এখানকার সকলেই আমরা বোনের মত। এটা একটি পরিবার। আমরা একসঙ্গে ঘুরতে যাই, খাওয়া-দাওয়া করি, গল্প করি। যখন বাইরে দল বেঁধে বের হই তখন সবাই আমাদের দেখে খুশি হয়। আমাদের নখের ডিজাইন পছন্দ করে। তারাও নখ বড় করতে আগ্রহী হয়।

১৫ বছর আগে থেকে মারিয়া তার নখগুলো বড় করতে শুরু করে। তবে বড় নখ নিয়ে জীবন ধারণ করতে সমস্যা হয় না? এ বিষয়ে তিনি জানান, নখ আমাকে বিরক্ত করে না। বড় নখের আকর্ষণ রয়েছে। নখগুলো আমাকে বরং খুশি রাখে। আমার খাওয়া, চুল বাঁধাসহ কাজ কর্ম কোন কিছুতেই নখ বিপত্তি ঘটায় না। যদিও প্রথমে সমস্যা হত-জুতা বাঁধতে, গাড়ি চালাতে, রান্না করতে। তবে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। তার মতে, নখ বড় রাখাটাও যেমন কষ্টকর ঠিক বড় করার পর তা নিয়ে দৈনন্দিন জীবন ধারণও কষ্টের। এজন্য অবশ্যই এ বিষয়ে শিখতে হবে।

এই নখ গ্রুপে লা রু ড্রুমন্ড নামক এক নারীর সর্বোচ্চ দীর্ঘ নখ রয়েছে। তার নখগুলো ১৯ ইঞ্চি লম্বা। তিনি জানান, ‘৪০ বছর নখ বড় করছি, ১৩ বছর বয়স থেকেই নখ বড় করা শুরু করি। আরেক নারী ২৭ বছর বয়সী ভেনেসা জানান, ‘নখ ভেঙে গেলে কান্না ধরে রাখতে পারি না। কারণ অনেক কষ্টে, যত্ন করে নখ বড় করছি। এটা আমার ব্যক্তিত্বের অংশ।

এই দলের প্রতিটি নারীর মূলমন্ত্র হলো - ‘যদি আপনি এই দীর্ঘ নখসহ আমাকে গ্রহণ করতে না পারেন তাহলে আমি আপনাকে চাই না!’

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড