নকলায় আমনের বাম্পার ফলন

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

নকলায় আমনের বাম্পার ফলন

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১১:৪১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১১:৪১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা আমন ধান কেটে বাড়িতে আনতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কেউ ধান কাটছেন, কেউবা আঁটি বাধছেন, আবার কেউবা ধানের আঁটি নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, এবার উপজেলায় ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, অর্জন হয় ১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর। উপজেলায় এবছর বৃষ্টি নির্ভর আউশ আবাদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ কম করে কৃষকরা। 

তবে ২০১৭ সালে ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের অর্জন হয়েছিল এবং ওই অর্জন থেকেই ২০১৮ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল।

১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ অর্জনের মধ্যে, হাইব্রিড জাত এক হাজার ৬৫০ হেক্টর, উফশী জাত ৬ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের অর্জন হয়েছে ৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমি। 

এতে সম্ভাব্য উৎপাদিত ধান থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন। এতে হাইব্রিড জাতের চাল প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩.৪৫ মেট্রিকটন করে মোট ৫ হাজার ৬৯৩ মেট্রিকটন, উফশী জাতের চাল প্রতিহেক্টরে গড়ে ২.৭৮ মেট্রিকটন করে মোট ১৭ হাজার ৩৭৫ মেট্রিকটন এবং স্থানীয় জাতের চাল প্রতিহেক্টরে গড়ে ১.৫০ মেট্রিকটন করে মোট ৬ হাজার ৬৬০ মেট্রিকটন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। 

কৃষকরা বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমন ধানের চাষ ভালো হয়। আমনে সেচ খরচ সাধারনত কম লাগে। ফলে অল্প খরচে বেশি লাভবান হন কৃষকরা। সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গনপদ্দী, নকলা, উরফা, গৌড়দ্বার, বানেশ্বরদী, পাঠাকাটা, অষ্টধর ও চন্দ্রকোণা ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় চলছে আমন কাটার ধুম।

মো. ছাইদুল হক, মোকলেছুর রহমান মকুল, হেলাল উদ্দিনও ঈসমাইল; মোজার বাজার এলাকার আলহাজ কিতাব আলী, পোলাদেশীর আব্দুল হালিম, বানেশ্বরদীর দেলোয়ার হোসেন, আব্দুছ ছাত্তার, আবুল মিয়া, আমিন মিয়া ও মোস্তাফিজুর রহমান খান, উরফার এলাকার রেজাউল, চন্দ্রকোণার সাজু সাঈদ সিদ্দিকী, মোকসেদ মাস্টার, মুক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও আজিমসহ অনেক কৃষক বলেন, এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং মাঠে আউশ আবাদ থাকায় একটু দেরিতে আমন রোপণ করা হয়েছিল। 

তবে শেষ দিকে প্রায় দিনই বৃষ্টি হওয়ায় পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব এলাকায় আমনের চারা রোপণের কাজ শেষ হয়। এখন শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ, কিন্তু আগামী সপ্তাহে শীতের প্রভাবে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে। ধান কাটার জন্য প্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু শীত বাড়লে তা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সবাই। তাতে করে কৃষকরা ক্ষতির সম্মূখীন হতে পারেন।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ ও কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি বলেন, কৃষকরা তাদের অনেক জমিতে আউশ রোপণ করেছিলেন। ওইসব আউশ ধান কাটার পরে, একটু দেরিতে আমনের চারা রোপণ করেছিলেন। তবে দেরিতে রোপণ শুরু হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারো রোপণের লক্ষ্য মাত্রা ও অর্জনের মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, আমন রোপণ উপযোগী উপজেলার সব জমিকে আমন আবাদের আওতায় আনতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও কৃষি প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

তাছাড়াও কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের স্থানীয় ও জাতীয় ভাবে কর্মশালার মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে। কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে কৃষকদের। বিশেষকরে এলএলপি পদ্ধতিতে আমনের চারা রোপণের উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। এই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস