Alexa ধেয়ে আসছে বুলবুল, অতীতের যত ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ধেয়ে আসছে বুলবুল, অতীতের যত ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৯ ৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৩৬ ৯ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গভীর নিম্নচাপ থেকে শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। বৃহস্পতিবার রাতেই গভীর নিম্নচাপ থেকে অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম)-এ পরিণত হয়েছে ‘বুলবুল’। শুক্রবার সকাল থেকেই তার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সঙ্গে মেঘলা আকাশ। উপকূলীয় এলাকায় বইছে দমকা হাওয়া।

শুধু বাংলাদেশেই নয় পশ্চিমবঙ্গের মাথায়ও এখন বুলবুলের খাঁড়া ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে আছড়ে পড়তে পারে ‘বুলবুল’। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। অতীতে আছড়ে পড়া বিভিন্ন ভয়ঙ্কর সব ঘূর্ণিঝড় সম্পের্কে জেনে নিন-

ঘূর্ণিঝড় ভোলা

৩ নভেম্বর ১৯৭০। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপর আছড়ে পড়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ভোলা। হাওয়ার গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় সর্বাধিক ২৪০ কিলোমিটার । এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল বাংলাদেশ। সে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক জনবসতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ৩ লাখ মানুষের।

উরিরচর

১৯৮৫ সালে উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোনটির বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার। যদিও এটি অল্প জায়গায় হয়। ফলে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১২ থেকে ২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার। ১৯৯১ সালের ২৯ থেকে ৩০শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় ‘শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে। যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছ ধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরো অনেকে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ।

সিডর

২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। তা সাইক্লোন সিডর নামে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। চার দিন পর পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলা এবং বাংলাদেশের উপর আছড়ে পড়ে এই ঘূর্ণিঝড়। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের জেলাগুলো মিলিয়ে প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। প্রচুর মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। হাওয়ার সর্বাধিক গতি ছিল ২১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

রেশমি

২০০৮ সালে ২৫ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে জন্ম হয় ঘূর্ণিঝড় রেশমির। রেশমি সিংহলি ভাষা। শ্রীলঙ্কা ঘূর্ণিঝড়টির এই নাম দিয়েছিল। যার অর্থ আলোর রেখা। হাওয়ার গতিবেগ ছিল ৮৫ কিলোমিটার। এর প্রভাবে আসামের তিন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। এর প্রভাবে ভুটান এবং অরুণাচলপ্রদেশেও বন্যা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, কয়েকশো মানুষ আশ্রয় হারিয়েছিলেন। বাংলাদেশে অন্তত ১৫ জন মারা গিয়েছিলেন। ৫০ মত্স্যজীবী নিখোঁজ হয়ে যান।

আয়লা

ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় আয়লা। ২০০৯ সালে মে মাসের তীব্র গরমে ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লা। নদীবাঁধ ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবন-সহ বাংলাদেশের একাংশের জনজীবন। বাংলাদেশ এবং ভারত মিলিয়ে প্রায় ৪০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। অন্তত এক লাখ মানুষ ভিটেমাটি খুইয়েছিলেন। আয়লার প্রভাব ঝড় থামার পরও থেকে গিয়েছিল। সুন্দরবন এলাকায় মহামারির আকার নিয়েছিল ডায়েরিয়া।

ভিয়ারু

ঘূর্ণিঝড় ভিয়ারু যা প্রথমে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন নামে পরিচিত ছিলো। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বঙ্গোপসাগর, মায়ানমার ও বাংলাদেশে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মে, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণাংশে নিম্নচাপজনিত কারণে উৎপত্তি ঘটে। কার্যত স্থির থাকলেও ১০ মে তারিখে ঘণিভূত অবস্থায় চলে যায়। পরবর্তীতে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে মৌসুমের প্রথম নামাঙ্কিত ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে রূপান্তরিত হয়। ১৩ মে বাংলাদেশ সরকার দশ মানদণ্ডের সপ্তম স্তরে উন্নীত করে দেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সতর্কমূলক ব্যবস্থা জারী করে।

কোমেন

২০১৫ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে বঙ্গোপসাগরের উপরে সৃষ্টি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় কোমেন। এর মূল অক্ষ বাংলাদেশের উপরই আছড়ে পড়েছিল। গতিবেগ ছিল সর্বাধিক ৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সারা ভারতে মোট ৮৫ জন মানুষ মারা যান।

রোয়ানু

২০১৬ সালে সর্বাধিক ৮৫ কিলোমিটার গতিবেগে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। তীব্র আশঙ্কা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সে ভাবে পড়েনি পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের গাঙ্গেয় উপকূলে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টিপাত হয়েছিল শুধু। অন্যদিকে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, ভোলা, নোয়াখালি, কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও লক্ষ্মীপুর- এই ছয়টি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্তত ২১ জন মারা যান।

মোরা

একইভাবে ১১০ কিলোমিটার বেগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় মোরা। পশ্চিমবঙ্গেও তার প্রভাব পড়েছিল। আগাম সতর্কতা ছাড়াই আচমকাই এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল। এর প্রভাবে বাংলাদেশে ন’জনের প্রাণ যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।

ফণী

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের ওডিশা রাজ্যে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়। ‘ফণীর’ নাম দিয়েছিলো বাংলাদেশ। এর অর্থ সাপ (ফণা আছে যার)। চলতি বছরের উত্তর ভারত মহাসাগরের মৌসুমের দ্বিতীয় নামাঙ্কিত ঝড়।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ও আঘাতে বাংলাদেশে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ সরকার ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল, শুকনো খাবার, এবং ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বিতরণ করে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে বাংলাদেশে ৫৩৬ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় জানায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস