.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪০

ধুলায় ধূসর

 প্রকাশিত: ১৯:৫৪ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৫৪ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক। মানচিত্রে যেমন নদী, হাওর, বাঁওড় অঙ্কিত থাকে, মহাসড়কেও তেমন আছে। এটা সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দৃশ্য।

রাস্থার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই পিচঢালাইয়ের অস্তিত্ব নেই। পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে জল-কাদা সৃষ্টি হয়। আর শুল্ক মৌসুমে সড়ক জোড়েই ধুলা ওড়ে। আর এসব ধুলায় ধূসর হয়েই পথ চলতে হয় কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট সদর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তত ১০ লাখ মানুষের। 

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কজুড়ে ছিল জল-কাদা। আর এখন ব্যাপক ধুলা। তাই সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের অন্তত ৭০ শতাংশই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। এজন্য যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি লাগছে অতিরিক্ত সময়। এ ছাড়া ভাঙাচোরা সড়কের কারনে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ির চাকা বিকল হয়ে পড়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের সালুটিকর, বর্ণি, তেলিখাল, লাছুখাল, তৈমুরনগর, পারুয়াবাজার, থানাবাজার ও ভোলাগঞ্জ অংশে অবস্থা বেশি নাজুক। এসব স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সারাক্ষণ ধুলো উড়ছে। ভাঙাচোরা হওয়ায় যানবাহন চলছে একেবেকে।

যাত্রী ও চালকেরা বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জে যেতে হয় এ সড়ক দিয়ে। তাই অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে কয়েক হাজার ট্রাক চলাচল করে। এ অবস্থায় ভাঙাচোরা সড়কটি আরও বিধ্বস্ত হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ শাহরিয়ার মো. কামরান বলেন, সড়কটির পুনঃনির্মাণের কাজ ধীরগতিতে চলছে। এ অবস্থায় বেহাল সড়কের কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রোগীদের জেলা সদরে নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাই যেকোনো মূল্যে সওজ কর্তৃপক্ষের দ্রুত কাজ শেষ করা উচিত।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, ২০১৬ সালের মে থেকে ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয়। সড়কটি পুনঃনির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতেই চলছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে সড়কটি নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে ভোগান্তি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর