Alexa ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে ব্লাস্ট রোগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৬ ১৪২৬,   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে ব্লাস্ট রোগ

 প্রকাশিত: ১০:০৫ ২৮ এপ্রিল ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়ছে আধাপাকা ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ। সকালে ক্ষেতের এক কোণায় দেখা দিলে বিকেলে সারা ক্ষেত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকের মুখে হাসি নেই। আছে চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

পাহাড়ি ঢলে ফলস নষ্ট হওয়ার পর এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ার মন ভেঙে গেছে কৃষকের। একের পর এক ফসলহানির পর সুদ ও ধার-দেনার দায়ে কৃষকরা নিঃশ্ব হয়ে পড়ছে।

সীমান্ত এলাকার কৃষকরা এখন ভাল নেই। তাদের মুখের খাবার বার বার কেড়ে নিচ্ছে পাহাড়ি ঢল ও ব্লাস্ট রোগ।

আখাউড়া সীমান্ত ঘেঁষা ইটনার আবদুল কাদির-সহায় সম্বলহীন একজন কৃষক। তার এক ইঞ্চি জায়গা বলতে নেই। অন্যের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন। দিন মজুরি দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। চড়া সুদে টাকা এনে ৬০ শতাংশ জমি ১০ হাজার টাকা দিয়ে পত্তন (ইজারা) রেখে বোরো চাষাবাদ করেছেন।

আবদুল কাদির জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা সীমান্ত পিলার ঘেঁষা লক্ষ্মীপুর মৌজায় বি ২৮ বোরো ধান চাষ করেন। তার ওই ক্ষেত পুরোটাই ব্লাস্ট (ছত্রাক) রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষেত করতে গিয়ে সেচ, সার কীটনাশকসহ প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। তার চোখের দৃষ্টি যত দূরে যাচ্ছে সেই টুকু পথ তিনি গাঢ় অন্ধকার দেখছেন বলে জানান। কারণ একদিকে দেনার ভার অন্য দিকে সংসারের বোঝা। তিনি আরো জানান, গেল আগস্ট মাসে ভারতে পাহাড়ি ঢলেও তার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ওই ক্ষতির রেষ কাটতে না কাটতেই আবার ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। এতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন রাস্তা নামা ছাড়া তার সামনে আর কোন পথ খোলা নেই তার।

কৃষক জালাল উদ্দিনের একই কথা জানান। শেষ মুর্হূতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে রাস্তায় নামতে হবে পরিবার পরিজন নিয়ে। সীমান্ত এলাকার আবদুল কাদির, আবদুল সোহবান ও জালাল উদ্দিনের মতো বহু কৃষকের ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় এখন তারা দিশেহারা।

সরেজমিনে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা সীমান্ত ঘেঁষা আখাউড়ার সীমান্ত এলাকার ইটনা, লক্ষ্মীপুর, আইরল, জয়নগর, নূরপুর, ছয়গড়িয়া, কর্নেল বাজারের বেশ কিছু ধান ক্ষেত দূর থেকে গিয়ে দেখা যায় ধান পেকে গেছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় পাকা ধান ঠিকই কিন্ত ওইসব ধানে ক্ষির নেই। ওইসব ধানে প্রাণ নেই। শুধু ক্ষির ছাড়াই ধানের শীষগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুধাবস্থা পর ক্ষির হয়নি ধানের শীষে। ধানের শীষগুলো শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে।

কৃষি অফিসের কর্মকতারা বলছেন বি ২৯ ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে ধানের শীষগুলো চিটায় পরিণত হয়ে পড়েছে। ধানের শীষগুলো দুধাবস্থায় পরিণত হওয়ার পর দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের আগে থেকে বিভিন্ন ওষধ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, বি ২৯ ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। দুধাবস্থায় গরম বাতাসে ছড়া সাদা হয়ে চিটা হয়েছে। এ রোগটি প্রথমে ধান গাছের পাতায় দেখা দেয়। পরে গিটায় ধরে পচন ধরে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের সচেতনতার জন্য লিফলেট বিরতণ করার পাশাপাশি পরামর্শও দিচ্ছেন। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে কমে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ