Alexa ধানসিঁড়ি নদী এখন মরা খাল

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

ধানসিঁড়ি নদী এখন মরা খাল

 প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’। কবি জীবনানন্দ দাশের এ কবিতার জন্য যে ধানসিঁড়ি নদী বিশ্বব্যাপী পরিচিত- সে আজ বিপন্ন। ধানসিঁড়ি এখন প্রাণহীন-মরা খাল। দূর-দুরন্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ধানসিঁড়ি নদী দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

অবৈধ দখল ও নদীখনন প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে মরতে বসেছে ধানসিঁড়ি। এছাড়া নদীর পলি জমে শীত মৌসুমে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে এক সময়ের খরস্রোতা এ নদী।

ধানসিঁড়ি ও কবিকে নিয়ে গবেষণা করা সাবেক অধ্যাপক সোহরাব হোসেন জানান, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি এ নদীর। মোল্লাবাড়ী, বাড়ৈবাড়ী হয়ে রাজাপুর উপজেলার হাইলকাঠি, ইন্দ্রপাশা ও বাঁশতলার বুক চিড়ে মোট ৮.৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজাপুরের জাঙ্গালিয়া নদীর সঙ্গে মিলেছে ধানসিঁড়ি। কবি এই জাঙ্গালিয়া নদীকে কবিতায় জলাঙ্গী বলেছেন।

এলাকাবাসী বলছেন, দুই যুগ আগেও ধানসিঁড়ি নদী দিয়ে পালতোলা নৌকা, লঞ্চ, কার্গো সবই চলাচল করত। রাজাপুর থেকে ঝালকাঠি জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এই ধানসিঁড়ি। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিতেও বড় অবদান রাখত এই নদী। তবে নদীর তলদেশে পলি ভরাট ও দখলবাজদের ছোবলে আস্তে আস্তে সেই নদী বিলীন হয়ে এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। সেই ধানসিঁড়ি এখন নৌকা চলাচলেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচল করলেও শীত মৌসুমে তা শুকনো খালে পরিণত হয়।

ধানসিঁড়ি পাড়ের বাসিন্দা তমিজউদ্দিন হাওলাদার, কৃষক আনোয়ার হোসেন ও ছালেহা বেগমসহ অনেকে বলেন, প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ধানসিঁড়ি নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এর আগে কর্মসূচি নেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ কর্মসূচি। কিন্তু কোনো প্রকল্পই ধানসিঁড়িতে প্রাণ ফেরাতে পারেনি। এর প্রধান কারণ লুটপাট, দুর্নীতি ও প্রকৃতি নিজেই এমনটাই বলছেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে ধানসিঁড়ির পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খাল খননের জন্য ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। খাল খনন ও নদীর দু’পাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্প ধানসিঁড়িতে প্রাণ ফেরাতে পারেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল খনন প্রকল্পের টাকায় পকেট ভরেছে কিছু ক্ষমতাবানরা। খালের দুইপাড় পরিষ্কার ও কিছু কাদামাটি উঠিয়ে খালের পাড়ে রাখা ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি সেই বরাদ্দকৃত টাকা। অল্পদিন না যেতেই সেই মাটি বর্ষার পানিতে ধুয়ে আবার নদীতে ফিরে গেছে।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজ উল্লাহ্ বাহাদুর জানান, ধানসিঁড়ির দু’পাড়ে শত শত হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। কিন্তু পানিপ্রবাহ না থাকায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে ধান ও রবিশস্যের ব্যাপক আবাদ করা যেত।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল বলেন, ধানসিঁড়ি নদীর সঙ্গে বহু ইতিহাস আর ঐতিহ্য সম্পৃক্ত। তাই ধানসিঁড়ি পুনঃখননের জন্য আবারো পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর সুপারিশপত্র দেয়া হবে। বরাদ্দ পেলেই খনন কাজ শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে