ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি...

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি...

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৮ ১৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১০:১৫ ১৯ মার্চ ২০২০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর

ধানমন্ডি-৩২ এর ৬৭৭ নম্বর বাড়িকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের তীর্থস্থান বলা হয়। বাড়িটিকে ক্ষুদ্র সংস্করণের বাংলাদেশও বলা যায়। বাঙালি জাতির জন্য স্বাধীনতার লাল সূর্য এনে দিয়েছিলেন যে মানুষটি, এই বাড়ি তার। ৬০ এর দশক থেকে বাড়িটি একটি প্রতীক হয়ে আছে। আর সে প্রতীক হচ্ছে সাহস, দৃঢ়তা ও বিদ্রোহের।

বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাড়িটি যেন সবাই দেখতে পারে, সে জন্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বাড়ি এখন জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। শেখ হাসিনা বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। ট্রাস্টই বাড়িটিকে ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। নাম দেয়া হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের প্রথম তলায় দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আলোকচিত্র। এসব আলোকচিত্রের মধ্যে আছে সে সময়কার বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য। প্রথম তলার কক্ষটি ছিল বঙ্গবন্ধুর ড্রইং রুম। এখানে বসে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ কক্ষের পাশেরটি ছিল জাতির জনকের পড়ার ঘর। এখানে বসে তিনি লেখালেখিও করেছেন।

সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সময় দেখা যাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের ভয়াবহতার কিছু নিদর্শন। বঙ্গবন্ধু ওপর তলা থেকে নিচতলায় এ সিঁড়ি বেয়ে নামার সময়ই ঘাতকরা তাকে গুলি করে। গুলি খেয়ে বঙ্গবন্ধু এ সিঁড়িতেই পড়ে যান। এখানে শিল্পীর তুলিতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর গুলিবিদ্ধ অবস্থার একটি প্রতিকৃতি আছে।

দোতলার প্রথমে যে কক্ষটি আছে এটি বঙ্গবন্ধুর বাসকক্ষ। এরপরের কক্ষটি তার শোবার ঘর, তার পরের কক্ষটি শেখ রেহানার ঘর। এ কক্ষগুলোতে এখন দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের নানা স্মৃতিচিহ্ন। এ কক্ষগুলোয় থাকা নিদর্শনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত পাইপ, চশমাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র, শেখ রাসেলের খেলার সামগ্রী- বল, হকিস্টিক, ব্যাট, হেলমেট, সুলতানা কামালের সঙ্গে তার ছবিসহ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নানা নিদর্শন। এভাবে বাড়িটির প্রতিটি তলায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন।

তৃতীয় তলার এক পাশে আছে পড়ার ঘর। পরিবারের যে সদস্যের পরীক্ষা থাকবে, নিরিবিলিতে পড়াশোনার করার জন্য বরাদ্দ থাকতো। এর আরেকপাশে শেখ কামাল আর সুলতানা কামালের ঘর। এই ঘরের দেয়ালেও রয়েছে গুলির চিহ্ন। এছাড়া পিয়ানো, সেতার ইত্যাদি আগের মতো করেই সাজানো আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ, লুটপাটের পর যা কিছু ছিল সব দিয়ে আগের মতো করেই সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে পুরো বাড়িটাকেই।

এখানে আরো দেখতে পাবেন বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের নানা আলোকচিত্র। এরমধ্যে অন্যতম মহাত্মা গান্ধী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ শেখ মুজিবের নানান ছবি। ভাষা আন্দোলনের ছবিসহ দেশের অনেক ইতিহাসও সেখানে টাঙানো রয়েছে। এখানে একটি শোকবই ও রয়েছে। পরিদর্শণ শেষে শোকবইতে মনের কথা লিখার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর পাশের সম্প্রসারিত আরেকটি ভবন নিয়েই পুরো জাদুঘর। জাদুঘরটিতে প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার জন্য পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি আলাদা পথ রয়েছে। তিনতলা ভবনটির একতলায় অফিস কক্ষ এবং একটি ক্ষুদ্র বিক্রয় কেন্দ্র আছে। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই এবং ম্যাগাজিন সংগ্রহ করতে পারবেন। বাড়ির সামনে রয়েছে ধানমন্ডি লেক।

দর্শনার্থীদের জন্য সপ্তাহে মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। বুধবার সাপ্তাহিক ছুটি। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও জাদুঘর বন্ধ থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/টিআরএইচ