Alexa পোকা দমনে পার্চিং

ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

পোকা দমনে পার্চিং

 প্রকাশিত: ১৮:৫০ ২৩ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৯:৪৬ ২৩ মার্চ ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পোকা-মাকড়ের বংশ বিস্তার রোধে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন নাটোরের কৃষকরা। জমিতে পাখি বসার জায়গা তৈরি করে পাখির মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা নিধণের এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ৫৩৯ হেক্টর জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।এ  লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৬১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। দুই লাখ ৮৪ হাজার ৫৮০ টন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পার্চিং অগ্রগামী।

জেলায় মোট বোরো আবাদের ৬১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৪৯ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে কৃষকরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এরমধ্যে সিংড়া উপজেলায় সর্বাধিক ২৯৭১৪ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ৬৩৫০, বড়াইগ্রামে ৪৮০০, গুরুদাসপুরে ৩৮২০, সদর উপজেলায় ২৮৩৫, লালপুরে ১২০০ হেক্টর এবং বাগাতিপাড়ায় ৭৪০ হেক্টর।

পার্চ শব্দের আভিধানিক অর্থ উঁচু স্থানে বসা। অর্থাৎ ক্ষেতে গাছের শুকনো ডাল বা বাঁশ-কঞ্চি ব্যবহার করে পাখি বসার জন্যে ফসল থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থান। অতএব পার্চিং হলো ফসলের জমিতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা। এটি সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার একটি উত্তম পরিবেশবান্ধব অযান্ত্রিক কৌশল। সাধারণত ফসলের চেয়ে এক ফুট বেশি উচ্চতায় প্রতি পাঁচ শতক জমিতে একটি করে ডাল বা কঞ্চি পুঁতা হয়।

ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকার সংখ্যাই বেশি। পাখি এসব কীটপতঙ্গ খায়। ফলে মাঠে ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা কমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পাখি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে পোকার বংশ বিস্তার রোধ হয়। পাখিদের মধ্যে প্রধান হলো-ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েল, সাতভাই, বুলবুল আর শ্যামা। আর ক্ষতিকর পোকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-মাজরা পোকার মথ, পাতা মোড়ানো পোকার মথ, লেদাপোকা, শিষ কাটা লেদা পোকা, ঘাসফড়িং, লম্বাশুঁড় উরচুঙ্গা, সবুজশুঁড় লেদাপোকা, স্কিপারের মথ, কীড়া, ফড়িং ও বিভিন্ন বিটল পোকা।

পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে নাটোর সদর উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের নিয়ে পার্চিং উৎসব করেছে। বড় হরিশপুর ইউনিয়নের রাজাপুর, হাজরা নাটোর ও বড় হরিশপুরে এবং কাফুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুরে কৃষকদের সমাবেশে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের পার্চিংয়ের প্রায়োগিক দিক ও এর উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত ও উদ্বুদ্ধ করেছেন।

দেড় বিঘা জমিতে বোরো আবাদকারী চলনবিলের বড় সাঁঐল এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম বরাবরের মতোই এবারো জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, এতে অনেক ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে এখন পাখির সংখ্যা অনেক কম বলে পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

নাটোর সদর উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, একটি মাজরা পোকার স্ত্রী মথের পেটে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ ডিম থাকে। এ পোকা ধান গাছের গোড়ায় কুশি কেটে দেয়, ধানে চিটা হওয়ার কারণও এ পোকা। পাখির প্রিয় খাবার মাজরাসহ অন্যান্য পোকা।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদুল ইসলাম জানান, উপজেলার বোরো ধানের আবাদি জমির ৯৫ শতাংশ পার্চিং সুবিধার আওতায় এসেছে। এতে করে পোকা-মাকড় দমনে কীটনাশকের অপব্যবহার রোধ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও তাদের এক মণ ধানের সম পরিমাণ অর্থের সাশ্রয় হওয়া সম্ভব।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পার্চিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ও পদ্ধতি কৃষকদের অবহিত করে ও উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বোরো ধান উৎপাদনে সমৃদ্ধি আনার প্রচেষ্টায় নিরলসভাবে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর