Alexa ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে আসামির সহযোগীদের হাতে তুলে দিল তদন্তকারী!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬,   ০৩ রজব ১৪৪১

Akash

ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে আসামির সহযোগীদের হাতে তুলে দিল তদন্তকারী!

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৪৩ ২১ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনায় ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে আসামির সহযোগীদের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

ওই সাক্ষীকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে আসামির সহযোগীরা। 

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার মালিগাছা ইউপির গাছপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত যুবকের নাম আব্দুল আলীম । সে পৌর এলাকার নুরপুর মহল্লার আয়নুল হকের ছেলে। 

হামলার ঘটনায় ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে সদর থানার ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও একজন সিপাহীকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।  

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরাও। 

এদিকে এ ঘটনা তদন্তে পাবনার অ্যাডিশনাল এসপি (গোয়েন্দা) শামিমা আকতারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
 
আহত আব্দুল আলীম জানান, মালিগাছা ইউপির একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে মুঠোফোনে ডেকে নেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ধর্ষণ মামলার আসামির সহযোগীরা। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর ওই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফের ছোট ভাই আরিফুলের সন্ত্রাসী বাহিনী তার ওপর হামলা চালায়। পুলিশের সামনেই তারা লোহার রড, হকি স্টিক দিয়ে তাকে পেটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

আলীম আরো অভিযোগ করেন, হামলার সময় নিরাপত্তা বা উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই তার সঙ্গে থাকা সিপাহীকে নিয়ে পালিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা খাইরুল। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সোমবার রাতে তাকে আবার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে আহত আব্দুল আলীম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এ বিষয়ে আহত আব্দুল আলীমের মা আলেয়া খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে জখম করেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। 

আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, অপরাধীদের হাত থেকে যদি নিরপত্তাই না দিতে পারে তবে,পুলিশ কেন আলীমকে ডেকে বিপদে ফেলল।

এ ব্যাপারে মানবাধিকারকর্মী মুজতবা আব্দুল আহাদ বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির হামলার শিকার হওয়া অপ্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা হামলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এমন অদক্ষ কিংবা অসৎ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাজ পুরো বিভাগকে বিতর্কিত করে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবে।

এ ব্যাপারে ওসি তদন্ত খাইরুলের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পাবনার অ্যাডিশনাল এসপি গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরইমধ্যে অ্যাডিশনাল এসপি (গোয়েন্দা) শামিমা আকতারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

এদিকে, সোমবার রাতে আহত আব্দুল আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ