Alexa ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ডেমরায় দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা: ডিএমপি

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ডেমরায় দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৩:২৫ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫০ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ডেমরায় দুই শিশুকে গামছ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আটক দুই যুবক। 

ওই ঘটনায় আটক অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ও তার চাচাতো ভাই আজিজুল বাওয়ানী পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে এ কথা জানায়। মঙ্গলবার ও বুধবার ভোরে ডেমরা এবং যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।  

বুধবার বেলা ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারি জোনের উপ কমিশনার এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানা ভাঙ্গা প্রেস এলাকা থেকে দুই শিশু হত্যার মূল অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডেমরার কাউন্সিলরের মোল্লা ব্রীজ এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত মোস্তফা চাচাতো ভাই মোঃ আজিজুল বাওয়ানীকে আটক করে পুলিশ। এসময় হত্যায় ব্যবহার লিপস্টিক, গামছা, শিশুদের দুই জোড়া সেন্ডেল ও সাউন্ড বক্স আলামত হিসেবে জব্ধ করা হয়। 

স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্তরা জানায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ফারিয়া ও নুসরাত বাইরে খেলছিল। এসময় লিপস্টিক দিয়ে সাজানোর প্রলোভনে দুই শিশুকে ঘরে ডেকে আনে তারা। বিভিন্ন প্রসাধনী দিয়ে সাজানো হয় দুই শিশুকে। তার আগে মোস্তফা ও আজিজুল ইয়াবা সেবন করে এবং ঘরের মধ্যে উচ্চ স্বরে ক্যাসেট প্লেয়ার চালিয়ে দেয়। এরপর শিশু দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এসময় ফারিয়া আক্তার দোলা চিৎকার করলে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা নুসরাত দেখে ফেললে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ খাটের নিচে রেখে আজিজুল পালিয়ে যায়।

পরে মোস্তফার স্ত্রী বাসায় ফিরে ঘরে শিশুদের জুতা দেখতে পান। এসময় মোস্তফা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। তখন স্ত্রীর কাছে দুই শিশুকে হত্যা করে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে মোস্তফা। রাতে সরিয়ে ফেলা হবে এই পরিকল্পনায় মরদেহ দুইটি ঘরের খাটের নীচে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে সরে যায় বলে জানায় অভিযুক্তরা।

এরআগে মঙ্গলবার রাতেই গোলাম মোস্তফা ও আজিজুল বাওয়ানীকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নুসরাত ও ফারিয়ার বাবা। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আটকের নির্দেশ দেন পুলিশের ওয়ারী ডিভিশনের ডিসি মোঃ ফরিদ উদ্দিন। এরপর রাতেই শুরু হয় অভিযান।

এডিসি শাহ ইফতেখার উদ্দিন আহমেদের সহায়তায় ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে চলে অভিযান। ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান, ওসি তদন্ত এবং ওসি অপারেশনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল চাঞ্চল্যকর দুই শিশু হত্যায় অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গেলো সোমবার রাতে ঢেমরার কোনাপাড়ার শাহজালাল রোডের নাসিমা ভিলার নীচ তলার এক কক্ষ থেকে ফারিয়া আক্তার দৌলা (৫) ও নুসরাত জাহান (৪) দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  শিশু দুটি ওই এলাকায় নিজ পরিবারের সঙ্গে থাকতো। নুসরাতের বাবার নাম পলাশ ও দোলার বাবার নাম ফরিদুল।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকে/এমআরকে/ এলকে

Best Electronics
Best Electronics