ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৮ ৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৬:৪১ ৬ এপ্রিল ২০২০

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

যশোরের চৌগাছায় এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে মুসা ব্যাপারী নামের এক গরু ব্যবসায়ী। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

বর্তমানে ওই ছাত্রী চৌগাছা উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে চৌগাছার একটি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী। 

একমাস আগেও মুসা ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে সময় মুসার বড় ভাই ওই ছাত্রীর বাবা-মা’র হাতে-পায়ে ধরে আইনের আশ্রয় নেয়া থেকে বিরত রাখে।

ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমরা গরীব মানুষ। ঘর-বাড়িও ঠিকমত নেই। রোববার রাতে আমার মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাইরের কাঁচা বাথরুমে গেলে মুসা ব্যাপারী তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে। গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। 

আমার মেয়ে বাধা দিলে এক পর্যায়ে তাকে একটি টাইগারের বোতলে থাকা কীটনাশক জোর করে মুখে ঢেলে দেয়। মেয়ের চিৎকারে আমরা দৌড়ে আসলে মুসা পালিয়ে যায়। এ সময় একটু দুরে মুখে গামছা বাঁধা আরো দুজন দাড়িয়ে ছিল। আমরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করি। 

এ বিষয়ে রোববার রাতেই চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভূক্তভোগী পরিবার।

মেয়েটির মা আরো বলেন প্রতিবেশি মুসা ব্যাপারী দির্ঘদিন ধরেই আমার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় একমাস আগেও আমার মেয়ে প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতে গেলে মুসা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তখন মেয়ের চিৎকারে আমরা বেরিয়ে আসলে সে পালিয়ে যায়। সে সময় তার বড়ভাই আয়ূব হোসেনসহ অন্যরা আমাদের হাতে-পায়ে ধরে ভবিষ্যতে আর এরকম কিছু হবে না বলে এ বিষয়ে মামলা না করতে অনুরোধ করে। 

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার ডাক্তার ফাতেমা খাতুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গভীর রাতে এরকম একটি মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে কিছুটা সুস্থ আছে। তিনি আরো বলেন, ডা. ফাতেমা আমাকে বলেছেন মেয়েটির গায়ে বেশকিছু আচড়ের দাগ রয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। 

ঘটনা শুনে সোমবার বেলা সাড়ে দশটার দিকে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান মেয়েটির চিকিৎসার খোঁজ নিতে চৌগাছা হাসপাতালে যান। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন আমি দোষীকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুসার বড় ভাই আয়ূব হোসেন বলেন, একবার আমি মাফ চেয়ে ঘটনার মিমাংশা করি। কিন্তু ও বেয়াদব হয়ে গেছে। আমাদের কথা শোনে না। আমরাও ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ