শিরোনাম:
জলবায়ু সংক্রান্ত ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে ০৩ দিনের সফরে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুমিল্লা-রংপুরের কোয়ালিফায়ার ম্যাচের বাকি অংশ আজ আজও অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে সতর্কতা নোবেল জয়ী আইসিএএনের ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে ফ্রান্সের পথে প্রধানমন্ত্রী
শিরোনাম:
জলবায়ু সংক্রান্ত ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে ০৩ দিনের সফরে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুমিল্লা-রংপুরের কোয়ালিফায়ার ম্যাচের বাকি অংশ আজ আজও অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে সতর্কতা নোবেল জয়ী আইসিএএনের ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে ফ্রান্সের পথে প্রধানমন্ত্রী...

ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

 নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ১২ অক্টোবর ২০১৭

৪১৪ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অব্যাহত ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে নবম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী রহিমা আক্তার সোনিয়া।

ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে স্থানীয় হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় রাজন ও বাংলালিংঙ্কের কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তা বিকাশ এজেন্ট আতিক নামের দুই যুবক অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারসহ প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানোয় গত মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) কোচিং না গিয়ে অর্ধেক রাস্তা থেকে বাসায় ফিরে এসে আত্মহত্যা করে সোনিয়া।

বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে সোনিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। ওই রাতেই ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলেও আজ বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশও মামলা রেকর্ড করেননি।

এদিকে ঘটনার পর পরই ওই দুই ধর্ষক গা ঢাকা দিয়েছে। মেধাবি স্কুল ছাত্রী সোনিয়ার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও উপজেলার কালারাম জোত গ্রামের পাথর শ্রমিক জাহেরুল ইসলামের কন্যা রহিমা আক্তার সোনিয়া। অসুস্থ্য মায়ের ঔষুধ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তেতুঁলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় রাজন তাকে তার বন্ধু আতিকের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে রাজন ও পরে আতিক তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা ও কাউকে জানালে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে গত তিন মাস থেকে তারা সোনিয়াকে ধর্ষণ করে আসছে। গত ৯ অক্টোবর সোনিয়া ঘটনাটি তার মা ও মামাকে জানায়। সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম ও মামা ফারুক ধর্ষকদের সাথে কথা বলে। বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ায় রাজন ও আতিক মোবাইল ফোনে সোনিয়াকে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রচারের ভয় দেখায় এবং নানা রকম হুমকি দিতে থাকে। আর অপমান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় সোনিয়া। সদা হাসিখুশি সোনিয়ার আত্মহত্যায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সোনিয়ার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা। দেশের সর্বোত্তরের শান্তিপুর্ন উপজেলা শহর তেঁতুলিয়ায় এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম জানান, রাজন ও আতিক আমার মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। আমি মেয়ের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
সোনিয়া বাবা জাহেরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে রাজন ও আতিকের নামে তেতুলিয়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। আসামীও ধরেনি।

তেতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, রাজন ও আতিক ব্ল্যাক মেইল করে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছে। সোনিয়া সে পথ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বার বার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে। পুলিশ এ ঘটনায় ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে এমন নজির বিহীন ঘটনা ঘটেনি। যারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাই। মেয়েটা চলে গেছে, কিন্তু উপযুক্ত বিচার পেলে দেশে আইন আছে বিচার আছে এ শান্তনাটুকু নিয়ে বাঁচতে পারবো।

তেঁতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে সংবাদ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে আমরা একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে যদি কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা যথাযথভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে/এলআর

আমাদের পাঠক প্রিয় সংবাদগুলো
ওপরে যেতে