ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৭ ১৪২৬,   ০৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:০১ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৭:০৮ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন- পিআইডি

সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের মতো ধর্ষকদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে  প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ নামের কিছু পশু ছোট শিশু থেকে শুরু করে মেয়েদের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ করছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিয়েছি, তেমনি এখন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও ধর্ষকের বিরুদ্ধে একইভাবে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিচ্ছি।

দেশবাসীকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা (ধর্ষণ) যারা ঘটাচ্ছে, তাদের ধরতে সবাই যেন আমাদের সহযোগিতা করেন। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা আইনগতভাবেই নেব এবং এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন রয়েছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, ডেঙ্গু প্রসঙ্গ, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও দেশের ব্যাংকে টাকা নেই বলে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান রিজার্ভসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উত্তরণের চিত্র তার ভাষণে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তার সরকার চাচ্ছে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা যেন চলমান থাকে। চলার পথে নানা সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা গেলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবেই সেটা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা যখন চীনে দেখা দেয়, তখনই তার সরকার এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অন এরাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে।

সরকারের বিমানবন্দরে প্রতিরোধমূলক সতর্কাবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন বা যেসব দেশে এই ভাইরাস দেখা গিয়েছে, সে সব দেশ থেকে কেউ আসলে তার সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হচ্ছি। কাউকে সন্দেহ হলে হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোয়ারান্টাইনে রেখে তারপর ছাড়ছি। এটা যেনো বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করতে না পারে সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

অতীতে দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বাড়ি-ঘর ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধের বিষয়েও সবাইকে পুনরায় সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। আবারো মশার উপদ্রব বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমি দেশবাসীকে বলবো নিজেদেরও একটু সচেতন থাকতে হবে। বাড়ি-ঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যেনো মশা না জন্মাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আসন্ন রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর সরবরাহকে সুষম রাখার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যকে জনগণের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যও সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশনা দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ