Alexa ধরা খেয়ে ৫১ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন পুলিশ কর্মকর্তা 

ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ধরা খেয়ে ৫১ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন পুলিশ কর্মকর্তা 

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩২ ২৩ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২২:০৫ ২৩ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে এপিবিএন এ কর্মরত এএসপি কামরুল হাসানকে এক তরুণীসহ রংপুর বনানী পাড়ায় একটি বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে ৫১ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। 

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, এএসপি কামরুল হাসানকে মঙ্গলবার রাতে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনানী পাড়ার একটি বাড়ি থেকে কারমাইকেল কলেজের এক ছাত্রীসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।  

ওসি আব্দুর রশিদ আরো জানান, থানায় আটকের পর গভীর রাতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যস্থ্যতায় উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে কাজী ডেকে থানার পাশে হোটেল তিলোত্তমায় তাদের বিয়ে দেয়া হয়।  

রংপুর জেলা মহিলা পরিষদ সম্পাদিকা রোমানা জামান বলেন, মিঠাপুকুরের বালারহাটের তোফাজ্জল হোসেনের  মেয়ে  রোকসানা পারভীন স্মৃতি লিখিত অভিযোগ করে আমাদের জানান, স্মৃতির সঙ্গে এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর ওই পুলিশ কর্মকর্তা স্মৃতির সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

শুরুতেই সিওবাজার সরদারপাড়া এলাকায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্মৃতির সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকা শুরু করে। ওই বাসার মালিক বিষয়টি টের পেয়ে সাত দিন পরই তাদের বের করে দেয়। 

এরপর তিনমাস আগে বনানীপাড়ার সিদ্দিক হোসেনের বাড়ির দোতালার ফ্লাট সাত হাজার টাকায় ভাড়া নেয়। এসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ির মালিককে বলে আমার স্ত্রী এখানে থাকবে। আমি বাইরে চাকরি করি। মাঝে মাঝে আসবো। এভাবে রাজশাহীতে ট্রেনিং থাকা অবস্থায় ওই বাসায় এসে স্মৃতির সঙ্গে থাকতো ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এরই মধ্যে স্মৃতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বিভিন্ন কৌশলে এড়িয়ে যেতেন। পরে মেয়েটি আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করে এর প্রতিকার চান।

নারী নেত্রী রোমানা আরো জানান, ট্রেনিং শেষে ১২ দিনের ছুটি কাটাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা মঙ্গলবার বনানীপাড়ার ওই বাসায় আসেন। এরপর তার কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা ছিল। এসময় বাসায় স্মৃতি তাকে বিয়ের কথা বললে ৬ মাস পর বিয়ে করার কথা জানায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে স্মৃতি বাইরে দিয়ে তালা লাগিয়ে আমাদের খবর দেয়। পরে এলাকাবাসির সহযোগিতায় মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর বনানীপাড়া থেকে মেয়েটিসহ ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

এরপর বিভিন্নভাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা থানা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মেয়েটি বিয়ের দাবিতে অনড় থাকায় অবশেষে পুলিশ কর্মকর্তা বিয়েতে সম্মত হয়। এরপর পুলিশের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার রাত তিনটায়  হোটেল তিলোত্তমায় পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৫১ লাখ ১ হাজার ৫৩ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে দেয়া হয়। তবে কাবিননামায় ২১ অক্টোবরের তারিখে রেজিস্ট্রি করানো হয়।
 
তিনি জানান, বিয়ে পড়ানোর সময় আমাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তবে আমরা একটি নারীর অসহায় মুহুর্তে তাকে সহযোগিতা করেছি। এভাবে মহিলা পরিষদ অসহায় নারীদের পাশে আছে এবং থাকবে।

রোকসানা পারভীন স্মৃতি জানান, আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু বিয়ে করছিলেন না। এক পর্যায়ে মহিলা সমিতির স্মরণাপন্ন হলে তাদের সহযোগিতায় আমাদেরকে একটি বাসা থেকে থানায় আনা হয়। এবং আমাদেরকে বিয়ে দেয়া হয়। 

তিনি জানান, আমাকে যেন স্ত্রীর মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়, সেটা আমি চাই। যাতে আমি আর কোনভাবে প্রতারিত না হই।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) আলতাফ হোসেন জানান, বিষয়টি থানা অবহিত। এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এআর