দড়িতে বাঁধা সুজনের পাশে প্রশাসন

ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৪ ১৪২৬,   ০৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

দড়িতে বাঁধা সুজনের পাশে প্রশাসন

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০২ ২১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২১:৫৩ ২১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন যুবক সুজন আলী। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গত এক যুগ ধরে দড়িতে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। সুজন আলীর বাড়ি রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউপির করজগ্রামে।

অর্থের অভাবে তার ভাগ্যে জোটেনি উন্নত চিকিৎসা। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দড়িতে বেঁধে রেখেছেন বাড়ির বারান্দায়। 

তবে সোমবার সন্ধ্যায় সুজন আলীর খোঁজখবর তার বাড়িতে নিতে যান রাণীনগর ইউএনও। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুজন আলীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। 

জানা গেছে, উপজেলার করজগ্রামের মৃত লিতব আলী মণ্ডলের ছেলে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন সুজন আলী। তারা নয় ভাই-বোনের মধ্যে সুজন ৬ তম। জন্মের পর ১০-১১ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতো সুজন আলী। কিন্তু যতই বড় হতে থাকে ততই যেন সুজনের মাঝে কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ ধরা পড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাগলামি আচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাবা লিতব আলী জমি-জমা বিক্রয় করে সাধ্যমতো চিকিৎসা করার চেষ্টা করেন। তখন পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিলে সুজন কখনো সুস্থ হবে না বলে জানিয়ে সেখান থেকে ওষুধ দেন চিকিৎসকরা। সেই ওষুধগুলো খাওয়ার পর সুজনের আচরণের আরো অবনতি হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

গত ১০ বছর আগে বাবা লিতব আলী মারা যাওয়ায় সুজনের ভাগ্যে অর্থের অভাবে আর কোনো উন্নত চিকিৎসা জোটেনি। বাবা মারা যাওয়ার পর সুজনের ভাইয়েরা আলাদাভাবে বসবাস শুরু করে। দিন যতই যায় সুজনের আচরণের আরো অবনতি হতে থাকে। শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমেও সুজনের একমাত্র আশ্রয়স্থল বাড়ির ওই উঠান। সকালে উঠনো বেঁধে রাখা হয়। আর সন্ধ্যা হলে ঘরে ঢুকানো হয় তাকে। হাতের দড়ি খুলে দিলেই সুজন রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের বিরক্ত করে। তাই সুজনের এমন আচরণ থেকে মুক্তি পেতে দড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয়। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসুজনের মা রিজিয়া বেওয়া বলেন, জন্মের পর থেকে সুজনের মাঝে কিছুটা অস্বাভাবিক আচার-আচরণ ধরা পড়ে। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাগলামি আচরণ বৃদ্ধি পায়। আমরা গরিব মানুষ। তারপর সাধ্যের মধ্যে ছেলের চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের তেমন সামর্থ্য নেই। সম্প্রতি সুজন প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় এসে ভাতা পেলেও চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়। 

রাণীনগর ইউএনও মো. আল মামুন বলেন, মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন যুবক সুজনের খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে খোঁজখবর নিতে যাই। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সুজনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছি। দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এআর