.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

দেয়া হয়নি ১০ হাজার মণ পাটের দাম

 প্রকাশিত: ১৩:২৯ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২০:৩৬ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেরপুরের গত বছরের ১০ হাজার মন পাটের মূল্য পরিশোধ করেনি সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্র।এ মূল্য না পেয়ে পাট ক্রয় কেন্দ্রে পাট দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পানির অভাবে পাট পঁচাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্রে পাট না দেয়ায় পাটের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। 

জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদফতর জানায়, তিন উপজেলায় চলতি বছরে ২১ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যেখানে গত বছরে ছিলো ২৬ হাজার হেক্টর। যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ হেক্টর কম। 

পাট ক্রয় কেন্দ্রের পরিচালক আবুল হাসেমে বলেন- গুদামে খুলনার স্টার মিলের সঙ্গে এমএইচ ইন্টারন্যাশনালের চুক্তি হয়। গত বছর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভালো লাভের আশায় ক্রয় কেন্দ্রে পাট বিক্রি করেন। কিন্তু ১০ হাজার মন পাটের দাম এখনও পাননি তারা। ফলে এ বছর আর এই কেন্দ্রে পাট দেননি চাষীরা। বাইরে পাট বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পরলেও তারা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে পাট দিচ্ছেন না। আবার সরকার যেখানে পাট ক্রয় করছেন ১৬৫০ টাকা মন দরে। সেখানে বাজারে ১৪০০ টাকা দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। লোকসান জেনেও তারা বাজারেই পাট দিচ্ছেন।

অন্য দিকে, অনেক ব্যবসায়ীর মোটা অংকের টাকা আটকে আছে সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্রে। ফলে তারাও বাইরের পাট কিনতে পারছেন না। আর সরকারি টাকা না পাওয়ায় পাট ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন ক্রয় কেন্দ্রের পরিচালক। 

মটমুড়া ইউপির বাওট গ্রামের সাহাবুল ইসলাম জানান, পানির অভাবে কৃষকরা পাট পঁচাতে পারছে না। অনেক কষ্ট করে বিভিন্নভাবে পাট জাগ দিয়ে পাট বিক্রি করার টাকাও পাচ্ছি না। ফলে দিন দিন পাট চাষের প্রতি আমরা আগ্রহ হারাচ্ছি। পাট কাটার শ্রমিকদের মুজুরি ৪০০ টাকা। লিজের জমিতে চাষের পাট বিক্রি করেও টাকা না পেয়ে বেশ বিপাকে আছি।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজামান বলেন, আমরা পাটের গুণগত মান উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের যৌথ বৈঠক হয়েছে। তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছর থেকে স্থানীয় বিলগুলোর নির্দিষ্ট একটি স্থানে পাট জাগ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে করে পাটের মান আরো ভালো করা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিপি/জেডএম