Alexa দেয়াল দেখেই চোখ আটকে যায়!

ঢাকা, সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৪ ১৪২৬,   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

দেয়াল দেখেই চোখ আটকে যায়!

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০০ ২৫ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের দিকেই চোখ আজহার আলীর (৫৩)। পত্রিকা পড়ার চেয়ে ছবি দেখতেই তিনি বেশি মনযোগী। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দেয়ালে সাঁটানো সব পত্রিকার বিনোদন পাতায় নিয়মিত চোখ বুলান তিনি। কোন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, নায়িকারা কে কী করছেন; পত্রিকার পাতা থেকে এ ধরনের নানা খবর লুফে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

রাজধানীতে এমন অসংখ্য দেয়াল আছে, যেখানে খুব ভোরে সাঁটানো হয় খবরের কাগজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব পত্রিকার বেচাবিক্রি কম, সেসবেরই দেখা মেলে এসব জায়গায়। এসব পত্রিকার পাঠক কিন্তু কম নয়। সকালের ঢাকায় ঘুরতে বেরোলে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের বিভাগে চোখ বুলাচ্ছে মানুষ। রিকশাচালক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই এসব পত্রিকার পাঠক।

শুরুতে যে আজহার আলীর কথা বলা হয়েছিল, তিনি ভ্যানচালক। জানা গেল, তার সকাল শুরু হয় এক কাপ চা দিয়ে। এরপরই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পাশের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। কোন ধরনের খবর পড়েন পত্রিকায়? জবাবে আজহার বলেন, ‘পড়া কম হয়, ছবি দেখি বেশি। এগুলো দেখেও অনেক কিছু জানা যায়। সিনেমা, দেশ-বিদেশের খবরও পড়ি।’

সেগুনবাগিচার ব্যাচেলর ম্যাসে থাকেন সাব্বির হোসেন। পড়েন ঢাকা কলেজে। তার পক্ষে টাকা দিয়ে পত্রিকা পড়া কষ্টকর। কিন্তু পত্রিকা দেয়ালে লাগানো থাকায় বিনামূল্যেই তিনি পড়তে পারছেন। সাব্বির জানান, ছোটবেলা থেকেই তার নিয়মিত পড়ার অভ্যাস। মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকায় চলে আসার পর প্রতিদিন সকালে উঠেই চলে যান দেয়ালে লাগানো পত্রিকা পড়তে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে থেকে তোলা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি বলেন, স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে পত্রিকা পড়ার আনন্দ ছিল আলাদা। বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তায় শেখা হয়ে যেত অনেক কিছুই। বর্তমানে পড়ার প্রচুর জায়গা আছে, কিন্তু পাঠক নেই। পত্রিকা লাগানোর দেয়ালগুলো বিজ্ঞাপনের জায়গা হয়ে গেছে অনেক আগেই। তার মতে, দেয়াল পত্রিকা পাঠক তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সহজেই।

জবুথবু শীতে গায়ে চাদর জড়িয়ে পত্রিকা পড়ছেন ৪৪ বছরের রেজওয়ান হোসেন। তিনি বলেন, এ এলাকায় দেয়ালে পত্রিকা পড়তে পেরে উঠতি বয়সী যুবকসহ সকল বয়সীরাই বিনোদন, সাহিত্য, ধর্মশিক্ষা, দেশ-বিদেশের খবর— সব কিছুই পড়তে পারে। পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে দেয়ালে লাগানো পত্রিকাগুলো এখন এলাকার জন্য বড় উৎসাহের ব্যাপার।

বর্তমান সময়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকা আছে যারা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণাধর্মী তথ্য পরিবেশন করে। নির্দিষ্ট বিষয়ের বর্তমান অবস্থা, অতীতে কেমন ছিল, পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণসমূহ ও এর সঙ্গে জড়িতদের মতামত ইত্যাদি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয় কিছু পত্রিকায়। কলাম লেখকরাও বিভিন্ন বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং বিশ্লেষণ ও গবেষণাধর্মী তথ্য পরিবেশন করেন। কিন্তু দেয়ালে সাঁটানো এসব পত্রিকায় এ ধরনের লেখা কম থাকে।

এ বিষয়ে সাব্বির হোসেন বলেন, দেয়ালে ভালো মানের পত্রিকাগুলো লাগানো হয় না। যে পত্রিকাগুলো সাঁটানো হয় সেগুলোর খবর একই ঘরানার। আমার মতে, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রতিটি এলাকায় একটা করে খবরের কাগজ পড়ার কর্ণার করা দরকার। তাহলে শিক্ষার্থীসহ সবাই উপকৃত হবো।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিয়মিত পাঠকরা যখন পত্রিকা পড়তে থাকেন, এ দৃশ্য দেখে তৃপ্তিবোধ করেন সংবাদকর্মীরাও। তারা মনে করেন, সবার মাঝে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দেয়াও একটি দায়িত্ব। তাছাড়া ‘খবরের কাগজের চল নেই’ বলার যুগে, এ যেন দারুণ ভুল প্রমাণের দারুণ হাতিয়ার!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে