Alexa দেড় বছর অনুপস্থিত, বেতন তুলল কে?

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দেড় বছর অনুপস্থিত, বেতন তুলল কে?

তৈয়বুর রহমান কিশোর, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৩ ২১ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী এন্ড অবস্) ডা. মাতুয়ারা শারমীন দেড় বছর ধরে অফিসে অনুপস্থিত। তবুও তুলছেন বেতন। এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই হাসপাতালের আরো দুইজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকেরও। অফিস ম্যানেজ করে কৌশলে সরকারি বেতন ভাতা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।

২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে যোগদান করেন ডা. মাতুয়ারা শারমীন। যোগদানের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে দেড় বছরের মধ্যে ১৭৬ দিন বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পার করছেন। বাকি দিনগুলোও তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা গাইনী রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুসারে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ‘ট্রেনিং ফর ডক্টর অন ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার’ শীর্ষক সার্জারি ইউনিট, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ দিনের ট্রেনিংয়ে রয়েছেন তিনি। 

অপরদিকে দুই সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক বেগম শেফালী সামাদ ও হোসনে আরা বেগম এ বছরের ২৮ এপ্রিল বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন। তাদের দুইজনের বাড়ি টাঙ্গাইলে। এরই মধ্যে তারা দুইজন একসঙ্গে তিনবার ১২ দিন করে ছুটি নিয়েছেন। বাকি দিনগুলোতে অফিস না করেই তুলেছেন সরকারি বেতন ভাতা। 

তাদের এ কাজে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরির্দশক মো. আবু সাঈদ। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ বলেন, তারা নিয়মিতই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন। 
অপরদিকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অফিসের একাধিক কর্মচারী ওই দুই সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের অনুপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা মাসিক মিটিংয়ে এসে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করেন। অফিস না করে সরকারি বেতন ভাতা তোলার বিষয়ে ডা. মাতুয়ারা শারমীনকে ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হোসনে আরা বেগমকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

একই ব্যক্তিকে বার বার বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে ডাকা হয় কেনো জানতে চাইলে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ননকমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা. নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা উপজেলা পর্যায়ে চাহিদাপত্র পাঠাই। সংশ্লিষ্ট দফতর যার নাম আমাদের দেন, আমরা তাকে দিয়ে ট্রেনিং করাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ওই ডাক্তারের সরকারি বেতন ভাতা তোলার বিষয়ে ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ এনামুল হক বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস

Best Electronics
Best Electronics