সাতক্ষীরায় দেড়শ কিলোমিটার বেগে তাণ্ডব চালাচ্ছে আম্ফান

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সাতক্ষীরায় দেড়শ কিলোমিটার বেগে তাণ্ডব চালাচ্ছে আম্ফান

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:১৮ ২০ মে ২০২০   আপডেট: ০৩:০৫ ২১ মে ২০২০

আম্ফানের তাণ্ডব

আম্ফানের তাণ্ডব

উপকূলীয় সাতক্ষীরায় ১৪৮ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হেনেছে। বুধবার রাত ৯টায় এ গতিবেগ রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ঝড়ের আঘাতে সদর উপজেলার কামালনগরে এক নারীর মৃত্যু ও প্রবল বর্ষণে বাঁধ ভেঙে নয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, বিকেল থেকে ১৭-২০ কিলোমিটার গতিবেগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এর মাত্রা বেড়েছে। মূল আঘাতটি শুরু হয়েছে রাত ৮টার পর। রাত ১০টা পর্যন্ত ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড়টি। এর মাত্রা আরো বাড়বে।

এদিকে আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীর নয় পয়েন্ট ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খোলপেটুয়ার দয়ারঘাট ও হিজলা এবং প্রতাপনগরে কপোতাক্ষের কুড়িকাউনিয়া, দিঘলাইট, সুভদ্রকাঠি, খলিসখালী, চাকলা, বন্যতলাসহ নয় পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

প্রতাপনগরের চেয়ারম্যান জারিক হোসেন বলেন, জেলা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রতাপনগর।

আম্ফানের প্রভাবে শ্যামনগর ও আশাশুনির গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা এবং শ্রীউলা ইউপিতে ৪৫টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। এরইমধ্যে শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, প্রতাপনগর, খাজরা ও কালিগঞ্জের মথুরেশপুরে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল জানান, তার এলাকার দাতিনাখালি, ভামিয়া ও দুর্গাবাটির তিনটি পয়েন্টে খোলপেটুয়া নদীতে পানি বেড়ে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী হয়ে উঠেছে উত্তাল।

সাতক্ষীরার ডিসি এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঝুঁকির মধ্যে থাকা দুই লাখ ৮৯ হাজার মানুষকে ১৮৪৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে ২৯ হাজার গবাদি পশুর জীবন রক্ষায়ও এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে সেবা দেয়া হচ্ছে। শিশুদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতীদের সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/আরএ/এআর