Alexa দেশ মাছ-মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

দেশ মাছ-মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ

 প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ২১:০১ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ যোগান দিচ্ছে মৎস খাত। আর ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ যোগান দেয় কৃষি। মাছ ও মাংসে উৎপাদন বেড়েছে। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ।

রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

তিনি বলেন, খাদ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী একজনের দিনে অন্তত ৬০ গ্রাম মাছ খাওয়া প্রয়োজন। আর প্রাপ্তবয়েস্কের প্রতিদিন ১২০ গ্রাম মাংসের প্রয়োজন।

দেশে বর্তমানে দৈনিক মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ১২১ দশমিক ৭৪ গ্রাম। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

মৎস্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। যা ২০০৮-০৯ অর্থ বছরের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৭১ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন।

নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মৎস্য আহরণে বিশ্বে ৪র্থ এবং মাছ চাষে ৫ম অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, তেলাপিয়া, কৈ, পাবদা, গুলশা, শিং ও মাগুর মাছের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও কৈ মাছ এখন প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জলাশয়ে নিবিড় মৎস্য চাষ, নিয়মিত পোনা অবমুক্ত, মৎস্য অভয়াশ্রম ও সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা,পরিবেশবান্ধব চিংড়ি ও মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ, মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, প্রজননক্ষম মাছের কৌলিতাত্ত্বিক উন্নয়নের ফলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবী ও জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী ও ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দাম বাড়ায় গরুর মাংস কম খেলেও, মুরগির মাংস সেই জায়গা পূরণ করছে বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।
চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে গরুর মাংস কেজিতে ৩০০ টাকার নিচে রাখা সম্ভব, মাংস বিক্রেতাদের এমন মন্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ১৫ মার্চ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোজা ও কোরবানি ঈদে গরু আমদানি হবে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, দেশি গবাদিপশুতে চাহিদা মিটলে আমদানি হবে না।
ইলিশের উৎপাদন গত বছর ৬৬ শতাংশ বেড়েছে দাবি করে নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি থাকলে, ইলিশ রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে/এমআরকে